লিড নিউজ

‘ধর্ষক ও ধর্ষিতা ভিন্ন ধর্মের, তা না হলে তাদের বিয়ে পড়িয়ে দিতাম’

মোস্তাক আহমেদ মনির, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) থেকে :  জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে প্রতিবন্ধী এক বিধবা মহিলা আট মাসের গর্ভবতী হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জোরপূর্বক ওই মহিলাকে গর্ভপাত করাতে গ্রাম্য সালিশে ধর্ষককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে মাতব্বররা। উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের চর হাটবাড়ী গ্রামের এ ঘটনাটি সম্প্রতি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

এদিকে বিষয়টি গোপন রাখতে মহিলার পরিবারকে নানা চাপ ও হুমকি দিচ্ছে ঘটনার নায়ক একই গ্রামের মাঝিপাড়া মনি বর্মনের ছেলে মতি বর্মন। ন্যায় ্িবচার না পেয়ে বৃহষ্পতিবার বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোফাজ্জল হোসেন জানান, ‘নির্যাতিতা মহিলাটি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম সাধুর স্ত্রী। তিনি চার বছর আগে মারা যান। একজন মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী ও প্রতিবন্ধীর সাথে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। তার প্রতি এ অন্যায় কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ তিনি এর বিচার দাবি করেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সুত্র জানায়, চরপাড়া গ্রামের প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম সাধুর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী অসহায় অবস্থায় চর হাটবাড়ি ঝিনাই নদীর তীরে গুচ্ছগ্রামে বসবাস শুরু করেন। কিছুদিন পর থেকেই একই গ্রামের মাঝিপাড়া মনি বর্মনের লম্পট ছেলে দুই সন্তানের জনক মতি বর্মন ওই বিধবা মহিলাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সর্ম্পক গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে মতি বর্মন তাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষন করে। এক পর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্তা হয়ে পড়লে প্রায় আট মাস পর সম্প্রতি বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়।

ঘটনা ধামাচাপা দিতে গত ৩ মে (বুধবার) মাঝিপাড়া কমল বর্মনের বাড়িতে গোপন সালিশ-বৈঠক বসে। স্থানীয় ইউপি সদস্য রুবেল মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠকে ওই মহিলার গর্ভপাত ঘটানোর খরচ হিসেবে মাতব্বররা ধর্ষক মতি বর্মনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে। সালিশের পরদিন বৃহষ্পতিবার ইউপি সদস্য রুবেল মিয়া, গ্রাম্য মাতব্বর মৃত আব্দুল্লাহর ছেলে ড্রেজার বাবু ও দুদু মিয়ার ছেলে ছোট বাবু মিলে তাকে গর্ভবতী মহিলাকে নিয়ে গোপনে টাঙ্গাইলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করে এবং জোরপূর্বক আট মাসের একটি কন্যা সন্তান গর্ভপাত ঘটায়।

হাসপাতালে গর্ভবতীর সাথে থাকা তার ছোটবোন শাপলা বেগম জানান, ‘গর্ভপাতের সময় আমাকে পাশে থাকতে দেওয়া হয়নি। একজন নার্স শুধু আমাকে জানিয়েছিল যে, একটি মেয়ে হয়েছে। তবে মেয়েটি জীবিত না মৃত ছিল; তাও জানতে পারিনি।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘জরিমানার ২০ হাজার টাকার মধ্যে একটি টাকাও তাদের দেওয়া হয়নি।’

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গ্রাম্য মাতব্বর ড্রেজার বাবু বলেন, ‘ধর্ষক নিজের দোষ স্বীকার করায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। টাকাগুলো ইউপি সদস্য রুবেল মিয়ার হাতে দেওয়া হয়েছিল। সালিশ বৈঠকে আরেক ইউপি সদস্য আনিছুর রহমান, বাদল মিয়া, আয়নাল হক, ছোটবাবু, কমল বর্মন, হরে কৃঞ্চ বর্মনসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য রুবেল মিয়া জানান, ‘ধর্ষক ও ধর্ষিতা দু’জন ভিন্ন ধর্মের, তা না হলে তাদের বিয়ে পড়িয়ে দিতাম। আমরা এলাকার মাতব্বর হিসেবে যা ভাল তাই করেছি। বিষয়টি নিয়ে পত্রিকায় লেখালেখি করলে ভাল হবে না।’
ওসি রেজাউল ইসলাম খান জানান, ‘এ ব্যাপারে এখনো কোন অভিযোগ হাতে পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Related Articles

Back to top button