

শাল্লা প্রতিনিধি: টানা দুই বছর ফসল হারিয়ে এবছর বোর ধানের বাম্পার ফলনে ঘুরে দাড়িয়েছে শাল্লার কৃষক।কৃষকের মুখে এখন হাসির ঝিলিক। শাল্লায় হাওরের সর্বত্র চলছে এখন ধান কাটার উৎসব। কৃষকের মনে আনন্দের জোয়ার।কৃষক ব্যস্ত ধান কাটা আর মারাইয়ে অন্যদিকে কৃষানীরা ব্যস্ত ধান শুকাতে।
তবে ধান কাটার শ্রমিক শঙ্কটের কারনে যথা সময়ে ধান গোলায় তুলতে পারবে কি না তা নিয়ে শঙ্কায় আছে কৃষক।মাঝে মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় হলে উদ্ভেগ শুরু হয়ে যায় কৃষক কুলের মাঝে।আকাশের অবস্থা খারাপ থাকলে কৃষকে মাঝে এক অজানা অতঙ্ক বিরাজ করে। শ্রমিক শঙ্কট থাকার কারনে অনেক কৃৃষকে তার স্কুল পড়ুয়া ছেলেদের নিয়েও ধান কাটতে দেখা গেছে।
উপজেলা কৃষি উপ পরিদর্শক কল্যাণ ব্রত সরকার বলেন এবছর শ্রমিক শঙ্কট থাকার কারনে আমাদের কৃষি অফিস থেকে ৫ টি কম্বাইন হার্ভেষ্টার মেশিন(ধান কাটার মেশিন) উপজেলার বিভিন্ন হাওরে দেওয়া হয়েছে।আশা করি আবহাওয়া ভাল থাকলে ১৫/২০ দিনের মধ্যে ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন সুনামগঞ্জ জেলা অফিস থেকে ৭০ ভাগ ধান পাকলেই তা কেটে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরজমিনে শাল্লার সর্ববৃহত ছায়ারর হাওর,উদগল হাওর,কিলিকোটা হাওর ঘুরে দেখা যায় ধান কাটার ধুম পড়েছে।কোন কোন জমির ধান ৮০ ভাগ,কোন কোন জমির ধান ৬০ ভাগ,৫০ ভাগ পেঁকে গেছে।তবে ধান কাটার শ্রমিকের অভাবে অনেক পাঁকা জমিও কাটতে পাড়ছেন না কৃষক।
ছায়ার হাওরের কৃষক নবাব আলীর বলেন এবছর জমিতে খুব ভাল ধান হইছে।আমি ১৫ কেদার জমি করেছি সব ধান কাটতে পাড়লে প্রায় ২৫০ মণ ধান পাব।তবে ধান কাটার মানুষ কম থাকার কারনে বেশি দর দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে।
উদগল হারের কৃষক হরিনাথ দাস বলেন ধান খুব ভাল হইছে।২৮ ধানে কিছুটা ব্লাস্ট রোগে ক্ষতি হয়েছে।তবে হীরা ও ২৯ ধানের ফলন খুব ভাল হইছে। আবহাওয়া ঠিকটাক থকলে ১০/১৫ দিনের মধ্যেই ধান কাটা শেষ করতে পারব।
কালিকোটা হাওবের কৃষক সহদেব দাস বলেন শ্রমিক সংকটের কারনে নিজে নিজেই ছেলের নিয়ে ধান কাটছি।ফলন ভাল হলেও শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে কিছুটা দেরি হয়ে যাবে।আকাশের অবস্থা খারাপ থাকলে ভয় লাগে।
তবে এ বছর সারা জেলার ন্যায় শাল্লা উপজেলার হাওরের বোরো ফসল (ব্রি-২৮) জাতের ধান ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ফসলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। হাওরের বোরো ফসলগুলোতে নতুন রোগ দেখা দেওয়ায় কৃষকদের মনে হতাশা দেখা দিয়েছে।
কৃষকরা জানিয়েছেন ‘ফসল ভাল হলেও ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ধানের গোছা ( গোটা আসা ধানের গোছা) সাদা হতে থাকায় ২৮ ধানের ফলন কিছুটা কম হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছেন ব্লাস্ট ভাইরাস থেকে ধান রক্ষা করতে প্রচারপত্র বিলিসহ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা হাওরে গিয়ে ওষুধ স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।’তবে এতে তেমন ক্ষতি হবে না। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সবাই কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন, লিফলেট বিতরণ করছেন, বিভিন্ন বিষয়ে প্রেসক্রিপশন করছেন।
কৃষি অফিসের তত্ত্বমতে এবছর শাল্লা উপজেলায় ২২০০৩ হেক্টার জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে।যা গত বারের থেকে তিন হেক্টার বেশি।




