রাজন হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় কাল


সিলেট মিডিয়া ডেস্ক : চাঞ্চল্যকর শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় দেয়া হবে মঙ্গলবার।
বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করবেন।
গত ৩০ জানুয়ারি রাজন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শুরু হয়। গত ১২ মার্চ এ মামলার শুনানি শেষ হয়। ওইদিনই রায় ঘোষণার জন্য ১১ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করেন আদালত।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম।
২০১৫ সালের ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগ তুলে ১৩ বছরের শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পেটানোর ওই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। পরে আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের তৎপরার মধ্যে সৌদি আরবে পালিয়ে যান মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলাম। ১০ দিন পর প্রবাসীরা তাকে আটক করে সে দেশের পুলিশের কাছে সোপর্দ করে এবং ওই বছরের ১৫ অক্টোবর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
কামরুল আসার আগেই দেড় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ১৬ আগস্ট ১৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সুরঞ্জিত তালুকদার। মামলায় কামরুল ছাড়াও তার ভাই মুহিত আলম, আলী হায়দার ও শামীম আহমদ, পাভেল আহমদ, ময়না চৌকিদার, রুহুল আমিন, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল, দুলাল আহমদ, নুর মিয়া, ফিরোজ মিয়া, আজমত উল্লাহ ও আয়াজ আলীকে আসামি করা হয়।
ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর সিলেটের একটি আদালতে মামলার রায় ঘোষণা করেন বিচারক আকবর হোসেন। রায়ে মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলাম ও তার তিন সহযোগী ময়না চৌকিদার, তাজউদ্দিন আহমদ বাদল ও জাকির হোসেন পাভেলের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
এ ছাড়া কামরুলের তিন ভাই মুহিত আলম, আলী হায়দার ও শামীম আহমদের সাত বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া নুর মিয়াকে যাবজ্জীবন এবং দুলাল আহমদ ও আয়াজ আলীর এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।
আইন অনুযায়ী বিচারিক আদালত কাউকে মৃত্যুদণ্ড দিলে উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স শুনানি করতে হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নির্দেশে এই শুনানি দ্রুত করার উদ্যোগ নেয়া হয়।



