লিড নিউজ

কৃষকের ঘরে আগুন, চালের দাম দ্বিগুণ

নিউজ ডেস্ক :  গল্পে আছে এক সময় এদেশের এক শাসককে চালের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে অভিযোগ করা হলে তিনি অবাক হয়ে বলেছিলেন, চাল নেইতো অসুবিধা কি? তোমরা পোলাও খেতে পারোনা?

বর্তমানে মোটা চাল কিংবা সরু চালের বাজার দরের অবস্থা দেখে অনেকেই সেই প্রশ্নের মুখোমুখি বলে মনে করছেন। সরু কিংবা মোটা চাল। সিলেটে সব ধরনের চালের বাজার দর উর্ধ্বমুখী হওয়ায় হা হুতাশ শুরু হয়েছে বিভাগজুড়ে। হতদরিদ্র মানুষের পরিবারের উপার্জনকারী ব্যক্তিটির দিন কাটছে হতাশায়। কেন চালের দাম বাড়ছে?

কোন কারনে চালের বাজার অস্থিতিশীল হচ্ছে? সুনির্দিষ্ট কারণ জানা নেই কারোরই। বাজার মনিটরিং সেল থাকলেও হচ্ছেনা সঠিকভাবে তদারকি।

তবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বাজার মনিটরিং সেলের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা শাহ মো. মোর্শেদ কাদের চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বাজার মনিটরিং করে যাচ্ছি এবং আমাদের পর্যবেক্ষনে মনে হচ্ছে চালের মূল্য বৃদ্ধি কারনটা উত্তরবঙ্গে। সেখানে ঝামেলা হচ্ছে।

বাজারের বাস্তব চিত্র হচ্ছে- চাল নিয়ে তেলেসমাতি চলছেই। মঙ্গলবার বিক্রেতা, ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে সিলেটজুড়ে হাওরে হাওরে পানি ঢুকে যাওয়ায় সোনালি ফসলে ঘাম ঝরানো কৃষকরা রয়েছেন উদ্বেগ-উৎকন্ঠায়। সেই ক্ষতির বিষয়টি মাথায় রেখে গত তিন-চার দিন থেকে চালের মিল মালিক ও বড় চাল ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ার সুযোগে মজুদ করছেন। মজুদ করায় বাজারে চালের সরবরাহ কমে যাচ্ছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা মনে করছেন এই অবস্থা চলতে থাকলে কিছু দিনের মধ্যে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারে আহাজারি শুরু হতে পারে।

বাজার ঘুরে জানা যায়, গত এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রতি কেজি চালে ৫ থেকে ৭ টাকা। আর গত তিন মাসে কেজি প্রতি বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। গত ১৫ দিনের তথ্য হলো মান ভেদে চালের বস্তা প্রতি দাম বেড়েছে ১শ থেকে ১শ ২০ টাকা করে। শুধু তাই নয় শহর ও গ্রামের বাজারে চালের দামের পার্থক্য আকাশ পাতাল। দাম বাড়ার এই প্রবনতা বলে দিচ্ছে চালের বাজার বেসামাল হয়ে যাচ্ছে।

শহরে সবচেয়ে প্রচলিত মিনিকেট চাল খুচরা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, চালের এই খুচরা মূল্য সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মিত বাজার মনিটরিং, সিন্ডিকেট ও কারসাজির কারণে ভোক্তারা পণ্যমূল্যের ন্যায্য সুফল পাচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় দিন দিন ভোগ্যপণ্যের বাজারে সংকট তৈরি হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে যেসব আইন-কানুন রয়েছে তাও কার্যকর হচ্ছে না। গত এক বছরে ভোগ্যপণ্যের বাজারে যেসব জিনিসের দাম সবেচেয়ে বেশি বেড়েছে তা হলো মোটা চাল। পাইজম, স্বর্ণা, লতা ও ইরি জাতীয় প্রতিকেজি মোটা চাল এখন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য অফিসের প্রধান নির্বাহী বিপ্লব চন্দ্র দাস বলছেন, হাওরে ফসল নষ্ট হওয়ার শংকায় কিছু ব্যবসায়ীরা মজুদ করে থাকতে পারে এবং এই কারনে দাম কিছুটা বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিন-চার মাস ধরে মোটা চালের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। আর এ মোটা চালের ভোক্তা দেশের বৃহত্তর সাধারণ জনগোষ্ঠী। সরকারী গুদাম ও পাইকারী বাজারে চালের পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্তে¡ও বাজারে মোটা চালের দাম কোনোভাবেই বাড়ার কথা নয়। অভিযোগ রয়েছে গুটিকয়েক মিল মালিকের কারসাজিতে চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। প্রতিকেজি সরু চাল ৫০-৬০, মাঝারি মানের ৪৫-৪৮ এবং মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৮ টাকা। মিল পর্যায়ে বেড়েছে বস্তাপ্রতি ৫০ টাকা।

পাইকারি পর্যায়ে বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা, আর খুচরা পর্যায়ে কেজিপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত। এভাবে চালের দাম বৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

খুচরা চাল ব্যবসায়ী নগরীর লামাবাজারের আব্দুস সামাদকে দাম বাড়ার কারন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বেশি দামে ক্রয় করি, সামান্য কিছু লাভ করে থাকি। এখানে আমাদের কোন হাত নেই।

নগরীর প্রধান চাউলের আড়ৎ কালিঘাট বাজার ঘুরে জানা যায়, প্রতি বস্তা চাল ২ হাজার ৬শ থেকে ২ হাজার ৮শ কাটা পর্যন্ত বিক্রি করছেন পাইকারী বিক্রেতারা।

সালাম ব্রাদার্সের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা যে দামে ক্রয় করি যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যয় বাদ দিয়ে সামান্য আয় হয়। এখানে মজুদ রেখে বা অন্যভাবে লাভের চিন্তা আমরা করিনা। চালের বাজারে কারসাজি হচ্ছে কি না? এমন প্রশ্ন ছিলো সিলেট খাদ্য অফিসের প্রধান বিপ্লব চন্দ্রের কাছে।

তিনি বলেন, সিলেটে আমরা দোকানদারদের সাথে কথা বলেছি। তদারকি করেছি। সিলেট থেকে কেউ সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছে বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে না। তিনি দেশের বড় ব্যবসায়ীরা মজুদ করে দাম বাড়াতে পারে বলে মনে করেন।

বাজার মনিটরিং সেলের কর্মকর্তা শাহ মো. মোর্শেদ কাদের আরো জানান, রংপুর, রাজশাহী ও আশপাশের জেলা থেকে চাল সিলেটে আসে। তারা এই সময়ে চালের মূল্য বৃদ্ধি করে থাকতে পারে। আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে বিষয়টি অবহিত করবো। এছাড়া সিলেটে চাল পরিবহনে যাতায়াত ব্যয় বাড়ার কারনেও মূল্য বৃদ্ধি হতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।

কিন্তু বিগত কয়েক মাসে লাফিয়ে লাফিয়ে মূল্য বৃদ্ধির কারন সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখবো।

Related Articles

Back to top button