লিড নিউজ

বিয়ানীবাজার পৌর নির্বাচন : লড়াই হবে যাদের

আহমদ রেজা চৌধুরী: বহু প্রতীক্ষিত বিয়ানীবাজার পৌরসভার প্রথম নির্বাচন আগামী ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর পৌরবাসী প্রথমবারের মতো পৌর পিতা নির্বাচন করবেন। এ নির্বাচনে মেয়র পদে ৬জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও শেষ পর্যন্ত নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের সাথে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর জগ মোবাইল ফোন প্রতীকের। মেয়র পদে অন্য দুই প্রার্থীর প্রতীক রেল ইঞ্জিন ও মশাল নিয়ে পৌরসভার ভোটারদের মধ্যে আলোচনা তেমন একটা নেই। তবে এখনো ৭দিন রয়েছে, এরই মধ্যে মেয়র প্রার্থীরা প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হবেন বলে তাদের কর্মী সমর্থকদের বিশ্বাস।
বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আব্দুস শুকুরের নৌকায় নির্বাচনের দশ আগ থেকে হাওয়া লেগেছে। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রচারণা ও গণ সংযোগে তীব্র গতিতে ছুটছে নৌকা। পৌরসভার ২, ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডে নৌকা ভাল অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া ৫, ৬, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে নৌকার অবস্থা ভাল হচ্ছে। এসব অবস্থান থেকে নৌকার সমর্থকরা বিজয়ের স্বপ্ন দেখছেন।
নৌকার প্রচারণায় শনিবার বিকালে বিয়ানীবাজারে আসেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। জাতীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের আগমন নেতাকর্মীদের মধ্যে উম্মাদনা ছড়িয়ে দিয়েছে। ভোটারদের কাছে কর্মী সমর্থকরা একটি স্বাস্থ্য ও রচিশীল পৌরসভা উপহার দেয়ার অঙ্গিকার করছেন। মেয়র প্রার্থী আব্দুস শুকুর বলেন, বিয়ানীবাজারবাসী পরিবর্তন চান। পুরো পৌরসভা ময়লা ও আবর্জনার বাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শহরের কোন সড়কই চলাচলের জন্য উপযুক্ত নয়। অথচ এ পৌরসভা দীর্ঘ ১৬ বছর পূর্বে গঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, নৌকার জাগরণ তৈরী হয়েছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রাতদিন পরিশ্রম করছেন।
নৌকার গতির সাথে তাল রেখে বলগা হরিণ গতিতে ছুটছে ধানের শীষ। বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবু নাসের পিন্টু নেতাকর্মীদের নিয়ে পুরো পৌরসভা চষে বেড়াচ্ছেন। পরিচ্ছন্ন পৌরসভা উপহার দেয়ার অঙ্গিকার করে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন মেয়র প্রার্থী পিন্টু ও তার তার সমর্থকরা। পৌরসভার ১ ও ৭ ওয়ার্ডে ধানের শীষের অবস্থা ভাল রয়েছে। ২, ৫, ৯নং ওয়ার্ডে নেতাকর্মীদের প্রচারণার ফলে দিন দিন ধানের শীষ প্রতীকের অবস্থা ভাল হচ্ছে। বিএনপি’র কর্মী সমর্থকরা মনে করেন, সবকিছু অনুকুলে থাকলে শেষ হাসি হাসবে বিএনপি।’
ধানের শীষের জাগরণ তৈরী করতে জেলা বিএনপি’র সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ জেলা নেতৃবৃন্দ প্রতিদিন পৌরসভার গণ সংযোগ ও প্রচারণা চালাচ্ছেন। মেয়র প্রার্থী আবু নাসের পিন্টু বলেন, পুরো পৌরসভা জুড়ে অরাজক পরিস্থিতি বিদ্যমান। কোথাও সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ খুঁজে পাওয়া যাবে না। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ আমাদের এলাকায় এরকম পৌরসভা দুর্ভাগ্য ছাড়া কিছ নয়।
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী বর্তমান পৌরসভার প্রশাসক তফজ্জুল হোসেনের প্রচারণা ও গণ সংযোগে কর্মী সমর্থকদের বহর না থাকলেও তার জগ প্রতীক মেয়র নির্বাচনে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। দীর্ঘদিন পৌরসভার দায়িত্ব থাকায় প্রতিটি ওয়ার্ডে তার পছন্দের লোক ও নিজস্ব বলয় থাকায় জগ প্রতীকের বিশাল সমর্থন রয়েছে পৌরসভায়। পৌরসভার ৫, ৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডে জগ প্রতীকের অবস্থান অন্য প্রার্থীদের চেয়ে ভাল। এছাড়া ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে দিন দিন জগের অবস্থান ভাল হচ্ছে।
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী তফজ্জুল হোসেন উঠান বৈঠক ও প্রচারণা পাশাপাশি নিজস্ব বলয়ের ভোটারদের কাছে নির্বাচনী কলাকৌশল বাতলে দিচ্ছেন। মেয়র প্রার্থী তফজ্জুল হোসেন বলেন, পৌরসভার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করার সুযোগ দিতে আমি ভোটারদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। আমি চাই পুরো পৌরসভা নজরকাড়া সুন্দরের ভরে যাক। কিন্তু নানা প্রতিকুলতার কারণে সেটা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে এবার নির্বাচিত হলে পৌরসভাকে একটি নান্দনিক পৌরসভায় উন্নীত করবো।
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আবুল কাশেম ৯ ওয়ার্ডের প্রতিটি এলাকায় মোবাইল ফোনের প্রচারণা চালাচ্ছেন। বসে নেই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রলীগের পল্লব গ্রুপের নেতাকর্মীরা। মোবাইল ফোনের ত্রিজি নেটওয়ার্কের খুঁজে তারা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। পৌরসভার ৮ ও ৯ নংওয়ার্ডে পল্লবের অবস্থা তুলনামুলক ভাল। এছাড়া ৫, ৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডে মোবাইলের উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক ভোট রয়েছে। আবুল কাশেম পল্লব ১ নং ওয়ার্ডে গত উপজেলা নির্বাচনে হেলিকপ্টার প্রতীকে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়েছিলেন। এবারও তার কর্মী সমর্থকরা ওই ওয়ার্ডে ভোট প্রত্যাশা করছেন।
ভোট প্রার্থনাকালে ভোটারদের কাছে আবুল কাশেম পল্লব বলেন, আপনারা ভোট দিলে পুরো পৌরসভা দ্রুত সময়ের মধ্যে পাল্টে দেব। সে ইচ্ছা ও বিশ্বাস আমার রয়েছে। শুধু আস্থা রাখুন, আমি আমার জীবন দিয়ে হলেও এর প্রতিদান দেব।

Related Articles

Back to top button