লিড নিউজ

১৯ ঘণ্টার অভিযানের সমাপ্তি: ৪ জঙ্গি নিহত

মিডিয়া ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের এক দোতলা বাড়ি ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টার অভিযানের সমাপ্তি ঘটেছে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ও গুলিতে এক নারীসহ চার ‘জঙ্গির’ মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।

পৌর এলাকার ৫ নম্বর প্রেমতলা ওয়ার্ডে ‘ছায়ানীড়’ নামের ওই দ্বিতল ভবন বুধবার বিকাল থেকে ঘিরে রেখেছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।  শুরুতে জঙ্গিদের তরফ থেকে কয়েক দফা গ্রেনেড হামলা এবং রাতভর গোলাগুলির পর বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হয় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও সোয়াটের ‘অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিন’

সোয়াট সদস্যরা পাশের একটি বাড়ি থেকে ছাদ হয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে জঙ্গিরা ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিয়ে সেখানে বড় ধরনের আত্মঘাতি বিস্ফোরণ ঘটায় বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি সফিকুল ইসলাম সকাল সোয়া ১০টায় ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা এখন পর্যন্ত চারটি ডেডবডি সেখানে দেখেছি। তাদের দুজনের শরীরে ছিল সুইসাইড ভেস্ট। বিস্ফোরণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। দেহগুলো ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। দুজন মারা গেছে পুলিশের গুলিতে। ভেতরে আর কেউ নেই।”

এই অভিযানে জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেডে তিন পুলিশ সদস্য এবং গ্রিল কাটতে গিয়ে ফায়ার ব্রিগেডের এক সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

সকাল ১০টার পর অভিযান প্রাথমিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হলেও পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্যরা ভেতরে কাজ করছিলেন।

ডিআইজি সফিকুল বলেন, “জঙ্গিরা দোতলায় দুটি ঘরে ছিল। সেখানে প্রচুর বিস্ফোরক রয়েছে। ছাদেও প্রচুর বোমার মজুদ দেখা গেছে। আমাদের অপারেশন শেষ হয়েছে। তবে ভবনটি নিরাপদ করার জন্য বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল কাজ করছে।”

দুই তলা ছায়ানীড়ের চারটি ইউনিটের একটিতে আস্তানা গেড়েছিল জঙ্গিরা। বাকি তিন ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সারা রাত আতঙ্কের মধ্যে ভেতরে আটকে থাকতে হয়। সকালে নারী-শিশুসহ ২০ জনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

সফিকুল ইসলাম বলেন, “সাধারণ নাগরিকদের বের করে আনার জন্য গত রাতে আমরা কয়েকবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি। আজ সকালে তারা আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানোর পর আবার চেষ্টা শুরু করি। পরে জানালার গ্রিল কেটে বিভিন্ন ঘরের বাসিন্দাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসি।”

তিনি বলেন, নিহত চার জঙ্গি নব্য জেএমবির সদস্য ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তারা।

“ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আশপাশে বড় বড় উন্নয়ন কাজ চলছে। সেখানে অনেক বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন। হয়তো তাদের টার্গেট করেই এখানে গ্রেনেড ও বিস্ফোরক মজুদ করা হয়েছিল।”

Related Articles

Back to top button