লিড নিউজ

‘বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করতে পেরেই নিজেকে স্বার্থক বলে মনে করি’

এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী : কুষ্টিয়া \ ১৯৫১ সালে ঢাকা জগন্নাথ কলেজে বাণিজ্য বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই আন্দোলনের মিছিল মিটিং এ অংশগ্রহণ করি। তৎকালীন সময়ে জগন্নাথ কলেজের একটি ইউনিটের ছাত্রনেতা হিসেবে মিছিল মিটিং এর নেতৃত্ব দিতাম আমি। বাঙ্গালীর দাবী আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে যোগ

দিয়েছিলাম। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্থানীরা আমাদের মায়ের মুখের ভাষা বাংলা কেড়ে নিতে চেয়েছিলো। তারা জোর করে আমাদের উপর তাদের উর্দূ ভাষা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলো। স্বদেশ প্রেম ও মার্তৃভাষা রক্ষার জন্য আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েছিলাম। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করতে পেরেই নিজেকে স্বার্থক বলে মনে করি। ভেড়ামারা বনিক সমিতির আয়োজনে মঙ্গলবার রাত নয়টায় ডাকবাংলো চত্ত¡রে ভাষা সৈনিক আলহাজ্ব খলিলুর রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উক্ত কথা গুলো বললেন ভাষা সৈনিক আলহাজ্ব খলিলুর রহমান।

তিনি আরোও বলেন, ভয়াবহ সেই দিনের কথা আজও আমার মনে পড়ে। ভুলে যাওয়ার চেষ্টার করেও আমি ভুলতে পারিনা। চোখের সামনে বন্ধুদের মরতে দেখেছি। যাদের সাথে চলেছি তাদের হারানোর সেই দিনের ঘটনা আমি কোন ভাবেই ভুলতে পারিনা। সেই স্মৃতিগুলো আমাকে সারাক্ষণ তাড়া করে বেড়ায়।

ভাষা সৈনিক খলিলুরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভেড়ামারা হাইস্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সবার হেড স্যার খ্যাত মোঃ রুহুল ইসলাম স্যার।

ভেড়ামারা বনিক সমিতির সভাপতি এ.বি.এম গোলাম মাহবুব খানের সভাপতিত্বে উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ভেড়ামারা পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শামিমুল ইসলাম ছানা, প্যানেল মেয়র মাহাবুল আলম বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক  মোঃ আমিরুল ইসলাম, মোঃ মোজাম্মেল হক, মোঃ রুবেল হোসেন, মোঃ আবুল হোসেন, মোঃ রেজাউল ইসলাম প্রমূখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভেড়ামারা হাইস্কুলের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সবার হেড স্যার খ্যাত মোঃ রুহুল ইসলাম স্যার বলেন, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’র আন্দোলনের ছাত্রনেতা কুষ্টিয়া ভেড়ামারা উপজেলার পৌরসভার বাসিন্দা খলিলুর রহমান। দীর্ঘদিন পরে হলেও  আমরা আজ আনন্দিত একারনে যে, ভেড়ামারা হাই স্কুলের ছাত্র ভাষা সৈনিক খলিলুর রহমানকে সংবর্ধনা দিতে পেরে। তিনি আরোও বলেন, ভাষার মাসটি অনেকের কাছে উৎসবে পরিণত হয়েছে।

এটি খুবই দুঃখজনক। ভাষার প্রতি নেই কোনো শ্রদ্ধা ও সম্মান। আজকের ছেলে মেয়েরা ফুফুকে বলে আন্টি, ফুফাকে বলে আংকেল। ১৯৭১ সালের একুশে ফেব্রæয়ারীর প্রভাতফেরীর নেতৃত্ব দিয়েছিলাম আমি । তখনকার সময়ে প্রভাতফেরীতে কারোও জুতা সেন্ডেল পরে আসার সাহস ছিল না।

তিনি দঃখ প্রকাশ করে বলেন, এখন প্রভাতফেরীতে জুতা সেন্ডেল পায়ে দিয়ে আমরা ভাষা শহীদদের কে অবহেলা করি। যাদের প্রানের বিনিময়ে এই ভাষা অর্জিত হয়েছে তাদের প্রতি এই অবজ্ঞা মেনে নেওয়া যায়না। ভাষার প্রতি ভালোবাসা না থাকলে দেশের জন্যও তার কিছু করার থাকেনা বলে আমি মনে করি।

উল্লেখ্য, কর্মজীবনে খলিলুর রহমান প্রথমে চন্ডিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করে। পরে সেখান থেকে ভেড়ামারা বোর্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে পরে ১৯৯১ সালের ২৬ জানুয়ারী অবসর গ্রহণ করেন তিনি। খলিলুর রহমানের পিতা মরহুম বাবর আলী ছিলেন একজন হোমিও ডাক্তার। আট বোন এবং পাঁচ ভাই এর মধ্যে  তিনি ছিলেন সবার বড়।

Related Articles

Back to top button