বন্দুকযুদ্ধে নবীগঞ্জের মামা হুজুর নিহত


নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: পুলিশের বন্দুক যুদ্ধে নিহত হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের জঙ্গী তাজুল ইসলাম মাহমুদ ওরফে মামা হুজুর এর লাশ তার পরিবার গ্রহন না করায় বেওয়ালিশ হিসাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানায় দাফন করা হয়েছে।
শুক্রবার তাজুলের পরিবার সুত্রে জানায়,কসবা থানা থেকে তাদের কে ফোন করা হলে তারা তারা লাশ গ্রহন করেননি।
পুলিশ সুত্র জানায়, ২০০১ সালে অপারেশন ক্লিন হার্ট চলাকালে যৌথবাহিনীর সদস্যরা নবীগঞ্জ দিনার পুর পাহাড়ী এলাকা থেকে জঙ্গী প্রশিক্ষন দেয়ার সময় একদল মাদ্রাসা ছাত্রসহ তাজুল কে গ্রেফতার করে। পরে সে জেল থেকে মুক্ত হয়ে আবারো জঙ্গী তৎপরতায় লিপ্ত হলে ১/১১ এর সময়ে র্যাব তাকে আবারো আটক করে। দীর্ঘদিন জেল হাজতে থাকার পরে সে আবার মুক্ত হয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়। তার পরিবারের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেন মামা হুজুর তাজুল কিছু শিরিয়া ও আফগানিস্থান যুদ্ধে অংশ গ্রহন করে।
তাজুলের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল মামূন জানান সে র্দীঘ দুই বছর ধরে নিখোঁজ ছিল। শুক্রবার সে মারা গেছে বলে কসবা থানা পুলিশ ফোনে জানায়। তারা লাশ আনতে যাননি। তাই সেখানে দাফন করা হয়েছে। তার ভাগনা আবু বকর সিদ্দীকি জানায় তাজুলের সাথে আত্বীয় স্বজন কারো কোন যোগাযোগ ছিল না। সবাই তাকে এড়িয়ে চলতেন।
তাজুলের সাদুল্লা পুর গ্রামের অনেকেই জঙ্গী তৎপরতার জন্য তার সাথে কথা বলতেন না। রহিম আলী নামে একজন বলেন আমরা জঙ্গীদের সঠিক বিচার চাই। এদিকে নবীগঞ্জ থানার ওসি এস,এম আতাউর রহমান বলেন আমরা ঘটনাটি শোনেছি। নবীগঞ্জে জঙ্গী বিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যে সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাজুলের কোন সঙ্গী এখানে লুকিয়ে আছে কি না তদন্ত করে দেখা হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তাজুল ইসলাম মাহমুদ ওরফে মামা হুজুর নামে (৪৫) নামে হরকাতুল জেহাদের আঞ্চলিক কমান্ডার নিহত হয় ।
এ ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বেলাল হোসেনসহ পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। পু্লশি ঘটনাস্থল থেকে ৩৫ টি ককটেল, একটি পাইপগান, নয় রাউন্ড কার্তুজ ও পাঁচটি চাপাতি উদ্ধার করেছে।
বুধবার দিনগত রাত (১৬ মার্চ) দেড়টার দিকে কসবা উপজেলার কুটি এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে। নিহত মামা হুজুর হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কুরশি ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামের বাসিন্দা। সে কয়েক বছর পূর্বে জঙ্গি জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। এর পর দীর্ঘ দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করে। ট্রাভেলস ব্যবসাও করেছে অনেক দিন।
কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মহিউদ্দিন আহাম্মেদের দাবি, নিহত মামা হুজুর জঙ্গি সংগঠনের সদস্য। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাতে উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের কবিরাজ ফরিদ মিয়া হত্যা মামলার অন্যতম আসামি সে। এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া আরেক আসামির ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে মামা হুজুরের নাম উঠে আসে।
ওসি জানান, নাশকতার উদ্দেশ্যে মামা হুজুর ও তার দল কুটি এলাকায় জড়ো হয়েছে এমন খবরে অভিযানে যায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর মামা হুজুরের লোকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে ১৪ টি ককটেল ছুঁড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মামা হুজুর নিহত হয়। নিহতের মরদেহ দাফন হয়েছে বলেও জানান ওসি।




