লিড নিউজ

মরণের অাগে সুনামগঞ্জ নিয়ে যা বলেছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত

নিজস্ব প্রতিনিধি: হাওর অধ্যুষিত ভাটি অঞ্চল সুনামগঞ্জের আনোয়ারাপুরে ১৯৪৬ সালে জন্ম নেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে রবিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭) মারা যান আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। তিনি দ্বিতীয়, তৃতীয়, পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম ও ১০ম জাতীয় সংসদসহ মোট সাতবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার ছিল কর্মব্যস্ততা। শনিবার নিজ জন্মস্থান সুনামগঞ্জ জেলা সমিতি ঢাকা’র এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সুরঞ্জিত। অসুস্থতার কারণে সেখানে উপস্থিত হতে না পারলেও এক ঐতিহাসিক বাণী দিয়ে গেছেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক অন্যান্য অতিথির সঙ্গে উপস্থিত সবার পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে জানিয়েছিলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অসুস্থ হয়ে এখন হাসপাতালে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আবুল মাল আবদুল মুহিত তার বক্তব্যে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনার আহ্বান জানান।

জন্মস্থান সম্পর্কে শেষ বাণীতে সুরঞ্জিত সেন বলেছেন, ‘‘হাওর বাওর অধ্যুষিত ভাটি বাংলাখ্যাত ‘সুনামগঞ্জ জেলা’  দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি, মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ একটি জেলা। বৃহত্তর সিলেট বিভাগের এ জেলাটি অর্থনীতিতে শুধু নয়, সাহিত্য সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যেও আমাদের দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা। নৈসর্গিক সৌন্দর্যে শোভিত সুনামগঞ্জ জেলার জনগোষ্ঠী আজ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে। বৃটিশ সরকারের পক্ষে বাংলাদেশে যিনি রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে কাজ করে গেছেন আনোয়ারুল ইসলাম এ সুনামগঞ্জেরই।’’

তিনি বলেন, ‘‘সুনমাগঞ্জের কাদা, বালি, বায়ু, মাটি, জল, নদী, ধান, মাছ, সাঁকো সর্বোপরি বর্ষাকালের আফাল আমাকে বারবার স্মৃতির দিকে ফিরিয়ে নেয়। আফাল আমাকে দিয়েছে সাহসী জনগণের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করতে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘সুনামগঞ্জের হাওরের প্রাকৃতিক বৈচিত্রের জন্যেই একে ‘ভাটি বাংলা’  বলতে ভালোবাসি। পাকিস্তান আমলে কিংবা বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সময় ঢাকাতে সুনামগঞ্জের মানুষের বিচরণ ছিল না। আজকে আমি আমার যেকোনো পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সুনামগঞ্জের মানুষ খুঁজে পাই। তারা ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি-বেসরকারি চাকরি ও অন্যান্য পেশাসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নীতি নির্ধারণী ভূমিকায় যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। আবার তারাই প্রাণের বন্ধনে, পারস্পরিক সাংস্কৃতিক ও শেকড়ের টানে একসাথে মিলিত হন। তাদের জন্য শুভ কামনা রইল।’’

ঢাকায় সুনামগঞ্জের সামাজিক সংগঠন ‘সুনামগঞ্জ সমিতি’ ঢাকা’র নতুন গঠিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রকাশিত ‘সুরমা ২০১৭’  বার্ষিক প্রকাশনায় তিনি এ বাণী দিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button