বানিয়াচংয়ে যাত্রার নামে চলছে নগ্ন নৃত্য, মদ-গাঁজার আসর


আর ইউ সুমন: বানিয়াচং উপজেলার ১৩নং মন্দরি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাত্রাপালার নামে জুয়া ও মাদকের আসর বসিয়ে চলছে অশ্লীল নৃত্য। এসবের খপ্পড়ে পড়ে এলাকার উঠতি বয়সের তরুণেরা হচ্ছেন সর্বস্বান্ত। স্কুল কলেজের ছাত্রসহ যুবসমাজ বিপদগামী হয়ে পড়েছে। কিছু দিন পরপরই এসব অপকর্ম চালিয়ে আসছে সমাজের প্রভাবশালীরা। এলাকার চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এইসব করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জানা যায়,গত কয়েকদিন পূর্বে মন্দরি গ্রামের শেষ মাথায় কাটানদীর পাড়ে যাত্রাগানের পাশাপাশি জুয়া খেলা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যাত্রার মঞ্চে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে সমাজের নষ্ট মেয়েদের ভাড়া এনে উলঙ্গ নাচ ও গান গাওয়ানো হয়। আর এই নাচকে নাকি গ্রাম্য ভাষায় বোবা নাচ বলা হয়ে থাকে। তেমনি কিছু নাচের ছবি ও ভিডিও ক্লিপস এই প্রতিবেদকের হাতে এসে পৌছেছে।
স্থানীয়রা জানান,এইরকম যাত্রাগান প্রতি সপ্তাহে একবার হয়। পাশাপাশি চলে মদ ও দেহ ব্যবসা। দুই মাস ধরে এসব অঞ্চলে যাত্রাগানের নামে অশ্লীলতা চলছেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব বন্ধ করার কোন উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি। বরং রাতে যাত্রাগান ও জুয়ার আসরের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয় বলেও জানা যায়। এসব কর্মকান্ডের ফলে সমাজের উঠতি বয়সের তরুণেরা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাচ্ছে । বিকাল থেকে ভোর পর্যন্ত হাউজিসহ বিভিন্ন ধরনের জুয়া চলে। রাত ১২টার পর সেখানে মদ পান ও নগ্ন নৃত্যের আসর বসে। এসব জুয়ার আসরে লাখ লাখ টাকার খেলা হয়। এছাড়াও ভোররাতে যাত্রার মঞ্চে সুন্দরী তরুণীদের দিয়ে নগ্ন নৃত্য উপস্থাপন করা হয়। এই নগ্ন নৃত্য দেখতে আসা দর্শকেরা তাদের ইচ্ছেমতো টাকা দিচ্ছেন নাচনেওয়ালীকে।
এসবের ফলে এলাকায় চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপকর্ম বেড়েছে। এসব অকপর্মের সাথে সমাজের প্রভাশালী ব্যক্তিরা জড়িত থাকার কারণে তাদের ভয়ে এলাকার জনসাধারণ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারছেনা। এ বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ও ১৩নং মন্দরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ সামছুল হকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,কিছু জায়গায় এমনটা হচ্ছে। যেখানে হচ্ছে সেখানে কয়েকটি ইউনিয়নের মিলনস্থল। আর সবকিছুই আামাকে দেখতে হবে এমন তো কোন কথা না। আপনারা যদি জানেন তাহলে লিখেন আমার কোন সমস্যা নাই। এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।



