লিড নিউজ

বানিয়াচংয়ে মাদকের ছড়াছড়ি

আর ইউ সুমন: বানিয়াচংয়ে মাদকের ছড়াছড়ি হাত বাড়ালেই মিলছে সকল ধরণের মাদক। মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের যেন মাদক নিয়ন্ত্রনে কোন উদ্যোগ নেই। যে কারণে মাদকের ব্যাপকতা ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করেছে। মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে বানিয়াচং সদরসহ আশেপাশের কয়েকটি ইউনিয়ন। যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে,মদ,গাঁজা,হেরোইন,ফেনসিডিল,ইয়াবা,হুইস্কি,বিয়ার,অফিসার্স চয়েজসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার একাধিক স্পটে রয়েছে মাদক ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সন্ধ্যার পর চিহ্নিত কিছু স্পটে বসে মাদকের ভাসমান হাট। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতেও নারাজ। এই মাদকের বিষয় নিয়ে প্রায়ই উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় মাদক বিক্রির যে সমস্ত সু-নির্দিষ্ট পয়েন্টে মাদক কেনা-বেচা হয় তা নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে। কিন্তু প্রশাসনের কোন কার্যকার পদক্ষেপ না নেয়ায় এর হার দিন দিন বেড়ে চলেছে। মাদকে প্রসার ও ব্যাপকতা নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হয়। এতেও কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারি লক্ষ্য করা যায়না।

স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলার কারণে মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি করে মাদক সেবীর সংখ্যাও ব্যাপক হারে বাড়ছে। বানিয়াচংয়ে হাত বাড়ালেই সবধরনের মাদক পাচ্ছে সেবীরা। মাদক সিন্ডিকেটের ব্যবসায়ীরা সু-কৌশলে তাদের লোকজনের মাধ্যমে এই সমস্ত মাদক আমদানি-রপ্তানি করে থাকে। মাদক ব্যবসা অধিক লাভজনক হওয়ায় এই পেশাতে জড়িয়ে পড়ছে উঠতি বয়সের তরুণরা।

আগামীতে যারা দেশের নেতৃত্ব দেবে সেই তরুণদের একটি বড় অংশ এখন ইয়াবা সেবন করে বিপদগামী হচ্ছে। সেই সাথে যুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন স্কুল,কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থী,যুবসম্প্রদায়সহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। মাদক বিক্রি ও খাওয়ার বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট হয়ে দাঁড়িয়ে। কেউ কেউ আবার ফ্যাশন করে ও মাদক গ্রহন করছে। মাদকাসক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সমাজে বিভিন্ন অপরাধ প্রবণতা বেড়েইে চলেছে। এদিকে মাদকের টাকা যোগাড় করতে চুরি-ছিনতাই,ডাকাতি,পকেটকাটাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করতে বাধ্য হচ্ছে যুবসমাজ। বানিয়াচংয়ের ভবিষ্যত বিবেচনা করে দ্রুত মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

Related Articles

Back to top button