সিলেটে বেড়েই চলছে অবৈধ সিগারেটের ব্যবসা: রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেট জেলায় অবৈধ নকল সিগারেট ব্যাবসায়ী ও সীমান্তবর্তী সিগারেট চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে রাজস্ব বোর্ডের সচেতনতা মূলক প্রচারণা।
রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত এবং অবৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে চোরাচালকৃত সিগারেটের ব্যবসা দিন দিন বেড়েই চলছে। এই অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রনের বাইরে থাকায় বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের গত বছরের তথ্যানুযায়ী, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এবং অবৈধভাবে আমদানীকৃত সিগারেটের ব্র্যান্ডের সংখ্যা ৪০টিরও বেশি। এর মধ্যে সিটি গোল্ড,জেট,পিকক, ক্লাসিক, উইন,রমনা ইত্যদি স্থানীয় বাজার দখল করে আছে।
তাই এসব সিগারেটের স্ট্যাম্প (ব্যান্ডরোল) জালিয়াতি করে অবৈধ উপায়ে যারা ব্যবসা করছেন তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসূচী নিয়েছে ভ্যাট বিভাগ। অন্যদিকে জন সচেতনতার জন্য প্রতিটি দোকানে দোকানে স্ট্যাম্প (ব্যান্ডরোল) জালিয়াতির আইন ও দন্ডনীয় অপরাধ সম্পর্কে অবগতির জন্য পোস্টার লাগানো হয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট সিলেটের ব্যানারে এই পোস্টারটি লাগানো হয়েছে। পোস্টারে বলা হয়, সিগারেটের স্ট্যাম্প (ব্যান্ডরোল) জালিয়াতি করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। পোস্টারে আরোও বলা হয়, বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ এর ধারা ২৫ (ক) অনুযায়ী সিগারেট স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল জালিয়তি করা বা জেনে শুনে কোন সিগারেট স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল জালিয়াতি প্রক্রিয়ায় কোন অংশ সম্পাদন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আর এই অপরাধের শাস্তি ১৪ বছর কারাদন্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদন্ড অথবা মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত হতে পারে। তাই অবৈধ সিগারেট বর্জন করুন রাষ্টীয় অপরাধ দমনে সহযোগিতা করুন। পোস্টারে বিস্তারিত তথ্যের জন্য দুটি মোবাইল নাম্বারও দেয়া হয়েছে যা হলো -০১৭৭৬-৮০৩৭৬৪/০১৭৯৪-৬৮১৮০৭।
সূত্র বলছে, সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের আনুমানিক ১০ ভাগ সিগারেট থেকে আসে। আর এ খাতের আয় প্রতি বছরই বাড়ছে। এ খাত থেকে গত ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা আয় করেছে সরকার।
চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে এ খাত থেকে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের আশা করা হচ্ছে। এর আগে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা, ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ও ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি আয় করেছে সরকার। এসব তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে এ খাত থেকে রাজস্ব আয় দ্বিগুনেরও বেশি বেড়েছে।
এছাড়া ট্যাক্স স্ট্যাম্প পুনঃব্যবহার ও নকলভাবে সিগারেট উৎপাদন আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন বাংলাদেশ লি. এই ট্যাক্সস্ট্যাম্প উৎপাদনকারী একমাত্র প্রতিষ্ঠান। কেউ যদি অন্য কোথাও ট্যাক্স স্ট্যাম্প/ব্যান্ডরোল উৎপাদন করে থাকে সেটা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং নকল টাকা তৈরির মতোই বড় অপরাধ।




