জগন্নাথপুরে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ: কৃষকদের হাহাকার


জগন্নাথপুর প্রতিনিধি: জগন্নাথপুর উপজেলার সর্ববৃহৎ নলুয়ার হাওরের শালিকা, ডুমাখালি ও মাচ্ছুয়াখালি বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে হাওরে পানি প্রবেশ করায় কৃষকদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে।
হাওরপাড়ের কৃষকরা জানিয়েছেন শনিবার ভোররাতে শালিকা, ডুমাখালি ও মাচ্ছুয়াখালি বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে নলুয়ার হাওরে পানি ঢুকে হাওরের আধা পাকা ১২ হাজার হেক্টরের ফসল তলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। গত দুদিন ধরে কৃষকরা প্রানপণ প্রচেষ্ঠা চালালেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি তাদের কষ্টার্জিত ফসলের।
কৃষকদের অভিযোগ এবার হাওর রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণে পাউবোর পর্যাপ্ত বরাদ্দ না দেয়ায় অনেক ঝুকিপূর্ণ স্পটে মাটি ফেলা হয়নি। এছাড়াও বরাদ্দকৃত অর্থের সিকিভাগ কাজ না হওয়ায় অকাল বণ্যা কিংবা পাহাড়ি ঢল আসার আগেই শালিকা, ডুমাখালি ও মাচ্ছুয়াখালি বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে হাওরে পানি ঢুকে।
যে এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে হাওরে পানি ঢুকেছে সেই পিআইসি কমিটির সভাপতি সুরাত মিয়া মেম্বারের বিরুদ্ধেও কৃষকদের বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলেছেন। এছাড়া ওই এলাকায় পাউবোর ঠিকাদারের নুর ট্রেডিং বাঁধ নির্মাণে যৎ সামান্য কাজ করায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে হাওরে পানি ঢুকেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পানি উন্নয়ণ বোর্ডের মাঠে কর্মকর্তা মোসাদ্দেক জানান, নূর ট্রেডিং ও সুরাজ মেম্বারের স্পর্টে বাঁধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করলেও বাঁধমেরামতের সর্বশক্তি চালানো হচ্ছে।
চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া নলুয়ার হাওর তলিয়ে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,হাওরে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার ও কান্না দেখা দিয়েছে। গত বছরও হাওর রক্ষা করা যায়নি। তিনি যেস্পর্টে পানি প্রবেশ করেছে সেই র্স্পটের বেড়িবাঁধ নির্মাণে ঠিকাদার ও একটি পিআইসির কাজের গাফলাতির কথা স্বীকার করেন।
জগন্নাথপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বাঁধ নির্মানের অনিয়ম ও দূর্নীতির কথা স্বীকার করে বলেন, শত চেষ্ঠা করেও ঝুঁকিপূর্ন বাঁধগুলো রক্ষা করা গেল না। বাঁধ ভেঙ্গে হাওরের ফসলহানি ঘটেছে।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা পিআইসি ও দূর্নীতিবাজ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবী করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্তকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার জানান, এবছর নলুয়াহাওরসহ উপজেলার ছোটবড় ১৫টি হাওরে ২৫ হাজার হেষ্টর ফসলের চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে নলুয়া হাওরে ১০ হাজার হেক্টর ফসলের আবাদ করা হয়েছে।




