লিড নিউজ

হাওরপারে নেই ঈদের আমেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সুনামগঞ্জ হাওরপারের লাখ লাখ কৃষক পরিবারে নেই ঈদু উৎসব। আছে সন্তানদের নতুন জামা কিনে দিতে না পারার হতাশা, বুকভরা দীর্ঘশ্বাস। ফলে হাওরপারের মানুষগুলোর ঈদের সব আনন্দ চোখের জল হয়ে যেন হাওরের পানিতেই মিশে যাচ্ছে।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সাদৃশ্য গ্রামগুলোতে টাকার অভাবে অনেকেই প্রয়োজনীয় বাজার-সদাই করতে পারছে না। ফসলহানির পর থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দব্যমূল্যের দাম আকাশ ছোঁয়া। এমনিতেই হাওরবাসী বর্ষার ছয় মাস বেকার থাকেন। এই সময়ে তারা হাওরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।

এবার বছরের শুরুতেই চৈত্র মাসে জেলার দিরাই, শাল্লা, জগন্নাথপুর, ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ, দোয়ারা বাজার, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার হাওরের বাঁধ ভেঙে জীবন বাঁচার একমাত্র হাতিয়ার জেলার ১৫৪টি হাওরের ৯০ শতাংশ বোরো ধান, কালবৈশাখী ঝড়ে ৩০ হাজার ঘর-বাড়ির ক্ষতি হয়। আর সম্প্রতি আবারো বন্যায় ১২ হাজার হেক্টর ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লাখ লাখ কৃষক পরিবারের মাঝে এখন ঈদের আনন্দ নেই। আছে বুকভরা দ্বীর্ঘশ্বাস।

সরকারি ফেয়ার প্রাইজ, ওএমএস চাল, টিসিবির পণ্য বন্ধ ও ভিজিএফ কার্ডে অনিয়মের কারণে সঠিকভাবে সহায়তাও পাননি হাওরবাসী। সরকারি সহযোগিতা যা ছিল, তাও প্রয়োজনের তুলনায় কম।

হাওরপারের কৃষক সাদেক আলী, রফিকুল ইসলাম জানান, বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল কৃষক পরিবারগুলোর চাষাবাদের গরু আর গোলা (ধান রাখার পাত্র) এখন শূন্য। এখন নিজের ও পরিবারের জন্য দু-মুটো খাবার জোগাড় করার দায় হয়ে পড়েছে।

কৃষক করিম মিয়া বলেন, ‘কী কইমু ভাই এবার বোরো ধান হারিয়ে একবারেই নিঃস্ব হয়ে গেছি। এখন তো জান যায়, খাইমু কই থ্যাইকা? ঈদ আইলেও কী হইব, হাতে টাকা নাই পোলা মাইয়ারে কীভাবে নতুন কাপড় কিনা দিমু আর জীবন চালাইমু বুজতা পারতাছি না।’

জমির উদ্দিন, সাজন মিয়া বলেন, বর্ষায় হাওরে মাছ ধইরাই জীবন বাঁচত কিন্তু হাওরের বোরো ধান ডুবার পর থেইকাই মাছ নাই। সরকারিভাবে মাছের পোনা হাওরে ছাড়ার কথা ছাড়ছে দায়সারাভাবে নাম মাত্র।’

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ফেরদৌস আলম আখঞ্জি বলেন, ‘সামনে ঈদের আনন্দ ভুলে হাওরবাসীরা এখন জীবন কীভাবে বাঁচাবে সেই চিন্তায় আছে। পরপর দু-বছর বোরো ধান হারানো কৃষক পরিবারের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।’

সুনামগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহববুর রহমান জানান, জেলার বন্যা দুর্গত এলাকাগুলোতে ৬৩৭ মেট্রিক টন চাল ও ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। গৃহনির্মাণের সহায়তা হিসেবে ৯৬১ বান্ডিল টিন ও ২৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে, তাও বিতরণ করা হবে। সরকাবিভাবে বন্যা দুর্গত পরিবারকে সহায়তার কোনো কমতি নেই।

Related Articles

Back to top button