সরিষাবাড়ীতে ভুট্টার বাম্পার ফলন


মোস্তাক আহমেদ মনির, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) থেকে : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলতি মৌসুমে ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। অল্প দিনে কম খরচে কৃষকগন লাভবান হওয়ায় ভুট্টা চাষের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কম পুজি, ঝুকিহীন, সেচ ও সার প্রয়োগের সুবিধা থাকায় কৃষকদের মাঝে ভুট্টা চাষের প্রতিযোগীতা চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে উপজেলার কামরাবাদ, সাতপোয়া, পোগলদিঘা, পিংনা ও আওনা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভুট্টা চাষে আশানুরুপ ফলন হওয়ার কৃষকদের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে। সরিষাবাড়ী উপজেলায় উৎপাদিত ভুট্টা চাহিদা মিটিয়ে অন্যত্র সরবারহ করা হয় বলে অনেক কৃষক জানান। উপজেলার অনেক কৃষক জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগীতা কৃষকগন উন্নতজাতের ভুট্টার চাষ করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে ভুট্টা তুলতে কৃষক-কৃষাণী ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ শত ৬০ হেক্টর জমিনের কিন্তু তা ছাড়িয়ে ৬ শত ৮০ হেক্টর জমিনে ভুট্টা আবাদ করা হয়েছে। চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকগন সহজে ভুট্টা চাষ করে অন্য ফসলের তুলনায় বেশি আয় করছে। পোগলদিঘা ইউনিয়নের ভুট্টা চাষি নিজাম উদ্দিন জানান, মাত্র ৩/৪ মাসের মধ্যে ভুট্টা ঘরে তুলতে পারি। ভুট্টা ক্ষেতে ১-২বার পানি দিতে হয়। এছাড়া ১ বিঘা জমিতে কম সার ও ১১-১২ হাজার ভুট্টা চারা রোপন করা যায়। এ বছর তিনি ১০/১২ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। এতে প্রায় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ভালো তাই তিনি ডাবল লাভের আশা করছেন। একই ইউনিয়নের ভুট্টা চাষি হুসেন মিয়া বলেন,অল্প দিনে ভুট্টা তুলা যায়। ভুট্টা তুলার পর পাট আবাদ করবো। এছাড়া উপজেলা কৃষি অফিস সবসময় খোঁজ খবর রাখে। প্রতিটি ভুট্রা গাছে ১-২ করে মোচা ধরে। প্রতি কেজি ভুট্টা ১৭/১৮ টাকায় বিক্রী করা যায়। আর এতে ভালো টাকা আয় করা সম্ভব। বর্তমানে উপজেলায় অনেক এলাকায় ভুট্টা তুলতে কৃষক-কৃষাণী ব্যস্ত সময় পার করছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকায় ভুট্টা ফলন অনেক ভালো হয়েছে। চলতি বছর এর লক্ষেমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কৃষকদের ভুট্টার দিকে যত্মবান হওয়ার জন্য উপ-সহকারী কৃষি কমকর্তাগন সব সময় নিয়োজিত আছেন। তাই চলতি বছর ভুট্টা চাষিরা লাভবান হবে।



