প্রবাসলিড নিউজ

মাল্টায় নিখোঁজ সিলেটী তরুণ, মা-বাবার আহাজারি

দক্ষিণ ইউরোপের দ্বীপরাষ্ট্র মাল্টার ড্রাগনারা কেইভ পর্যটন কেন্দ্রে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র তন্ময়।

নিখোঁজ কামনাশীষ চন্দ তন্ময় সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার রাজনপুর গ্রামের কৃপেষ চন্দের ছেলে। সে চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে মাল্টায় পাড়ি জমায়।

তন্ময়ের নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার চাচাতো ভাই শুভাশিষ চন্দ্র সুদ্বীপ।

নিখোঁজ তন্ময়ের ব্যাপারে তার সাথে থাকা বন্ধু ও হৃদয় মাধ্যমে জানা যায়, শনিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে মাল্টার ড্রাগনারা কেভ পর্যটন এলাকায় ঘুরতে গিয়েছিল তন্ময়, সাথে ছিল তার স্থানীয় পরিচিত হৃদয়, শাহাদাত ও আরও এক বন্ধু।

বেড়ানোর একপর্যায়ে হৃদয় এবং তন্ময় ড্রাগন কেভে নামে, সমুদ্র হটাৎ করে উত্তাল হয়ে গেলে প্রাণপণে চেষ্টায় হৃদয় সমুদ্রের পানি থেকে সাঁতার কেটে উঠতে পারলেও তন্ময় আর সমুদ্র থেকে উঠতে পারেনি। সাথে সাথে জরুরি বিভাগকে অবহিত করা হলে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়।

সেনাবাহিনীর ডুবুরি বিভাগ, এম্বুলেন্স, হেলিকপ্টার নিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালালেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

“ঘটনার সাথে সাথেই মাল্টা কনস্যুলেট অফিসে যোগাযোগ করা হয়েছে, তারা জানিয়েছে উদ্ধারকাজ চলছে এবং কনস্যুলেট অফিস সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছে।

তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ম্যানেজার নিজে এসে খোঁজ নিয়েছেন এবং সার্বক্ষণিক তত্তাবধান করছেন। তবে এখনো তন্ময়ের কোন খোঁজ পায়নি উদ্ধারকর্মীরা।

আমরা প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করছি এবং আশা করছি তন্ময়কে জীবিত অবস্থায় খোঁজে পাবো।” – বলছিলেন, তন্ময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অনিক তালুকদার।

তিনি আরও বলেন, সারাদিন মাল্টা কনস্যুলেট, তার বিশ্ববিদ্যালয়, তাঁর সেদেশের বন্ধুদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করছি, সার্বক্ষনিক খবর নিচ্ছি।

এ ব্যাপারে তন্ম’র চাচাতো ভাই চন্দ্র সুদ্বীপ বলেন, সিলেট লাইট হাউজের মাধ্যমে সেখানে পাড়ি জমিয়েছেন।

ইতোমধ্যে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে তারা জানিয়েছেন, ৭২ ঘন্টার মধ্যে তারা কোন কিছু জানাতে পারবেন না।

এদিকে তন্ময়ের আকষ্মিক নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন তন্ময়ের পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং সিলেটের বন্ধুমহল সহ সকলে। হঠাৎ করে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় ভেঙ্গে পড়েছেন তার পরিবারও।

তার বৃদ্ধ মা, বাবার আহাজাড়িতে উত্থাল চারদিকের পরিবেশ। মা, বাবা, ভাইয়েরা প্রায় নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়ে সবাই নিখোঁজ ছেলের জন্য অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

নিখোঁজ তরুণকে ফিরে পাবার জন্য সরকারের সাহায্য কামনা করেছেন তাঁর পরিবার।

Related Articles

Back to top button