কাতারে ঈদ-আনন্দ উদযাপনে প্রবাসীদের মিলনমেলা


কেএম সুহেল আহমদ,কাতার থেকেঃ ঈদের বাজার জমজমাট, সাজবে আবার রাস্তাঘাট।
সাজবে ফুলে ফুলে, সেই খুশিতে কাতারে প্রবাসীদের মন উঠেছে দোলে।
ঈদ মানে আনন্দ, আর এই আনন্দটা তখনই পরিপূর্ণ হয় যখন তা পরিবারের সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়।
আর যারা প্রবাসে থাকেন, ঈদ তাদের জন্য এক ভিন্ন অনুভূতি নিয়ে আসে। কারণ, প্রবাসে অনেকেই পরিবার-পরিজন, প্রিয়তম স্ত্রী, মমতাময়ী মা, প্রিয় বাবা, স্নেহের সন্তান, আদরের ভাইবোন ছাড়া ঈদের দিনটি অতিবাহিত করি। আর তাই ঈদের দিনটা এখানে অনেকটাই আনন্দ-বেদনায় মিশ্রিত একটা দিন। প্রবাসীদের মনটা থাকে দেশে আর দেহটা থাকে বিদেশে।
তার পরে শত বেদনাকে উপেক্ষা করে কাতারে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের ঈদ আনন্দ উদযাপনে যেন এক মিলনমেলায় পরিনত হয়েছে রাজধানী দোহার দৃষ্টিনন্দন সমুদ্র সৈকত কর্ণিশের বীচ।
সূর্যের প্রচন্ড খরতাপ স্তমিত হওয়ার সাথে সাথে পড়ন্ত বিকেলে শত শত প্রবাসী দর্শণার্থীরা পরিবার,পরিজন,বন্ধু- বান্ধবদের নিয়ে আসতে থাকেন কর্ণিশের বীচে।অনেকে তাদের এহেন আনন্দঘন মূহুর্তের সময়টাতে স্মৃতিচারণ করতে ক্যামেরাবন্দী করে রাখছেন,আবার কেউবা তুলছেন সেলফী। শুধু তাই নয়, সেই মূহুর্তটাকে বর্তমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড দিচ্ছেন।
তেমনি একজন বাংলাদেশী প্রবাসী
সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জের মোঃ ফয়জুল ইসলাম তার প্রবাস জীবনের প্রথম ঈদের অনুভূতিতে তিনি বলেন, পরিবার পরিজন ছাড়া প্রবাসের প্রথম ঈদ উদযাপনে তেমন আনন্দ না হলে ও বিভিন্ন বাঙ্গালী প্রবাসী ভাইদের সাথে প্রবাসের ঈদের আনন্দটাকে ভাগাভাগী করে নিচ্ছি।
ঈদের দিনটিতে কাতারের দৃষ্টিনন্দন কর্নিশের বীচটি দেখতে আসা সিলেট গোলাপগঞ্জের ঐতাহবাহী দ্বীনী বিদ্যাপীঠ ‘জামেয়া ইসলামীয়া বৃহত্তর চন্দরপুর দারুল উলূম মুহাম্মদীয়া মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক হাফিজ আব্দুর রব তিনি ও এসেছিলেন সৌন্দর্যবর্ধন এ জায়গাটি দেখতে তার সাথে এসেছেন মৌলভীবাজার রাজনগরের শাহীন আহমদ। তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঈদের একটি দিন পেয়েছি তাই এ দিনটির আনন্দকে স্মরণীয় করে রাখতে দেখা করি আমার শিক্ষকতার জীবনের বহুদিনের সহকর্মী সিলেট দরগাহে হযরত শাহজালাল(রঃ) জামে মসজিদের সাবেক ইমাম আরিফ বিল্লাহ হাফিজ আকবর আলী(রঃ) প্রতিষ্ঠিত বিয়ানীবাজার’র ‘জামেয়া আশরাফিয়া ইসলামনগর মাটিজুরা(টুকা) মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক সাংবাদিক কেএম সুহেল আহমদের সাথে। বহুদিন পর আমরা দু’জন ঈদের আনন্দের দিনে একত্রিত হই কাতারের ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যবর্ধন স্থান কর্ণীশের বীচে।
ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য সুপ্ত পরিসরে
মোবাইল গানের আসর বসিয়ে দেন কর্ণিশের বীচের সমুদ্রের পাড়ে।
ব্রাম্মণবাড়িয়া জেলার প্রবাসী ভাই মোঃ শাওন ও তার সাথে থাকা একই জেলার মোয়াজ্জেম হোসেন, মোঃ ফরহাদ, মোঃ দেলওয়ার হোসেন, কামরুল ইসলাম, মঙ্গল হোসেন সহ তাদের সাথের অনেকে। সেখানে মনোমুগ্ধকর গান পরিবেশন করেন তারা।তাদের সেই খুশিতে যোগ দেন কর্নিশের পাড়ে বেড়াতে আসা বাঙ্গালী প্রবাসী সহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী দর্শণার্থীরা।
সেখানেই শত ব্যাস্ততার মধ্যে ও ভিন্ন আঙ্গিকে তাদের কাছে ঈদের আনন্দ অনুভূতির কথা জানতে গিয়ে তারা বলেন, শত ব্যাস্ততার মাঝে কর্মময় জীবনে চাওয়া পাওয়ার মাঝে ক’টি দিন হল ঈদের ছুটি। এই ছুটিতে আমরা ক’জন প্রবাসী বন্ধু মিলে আমাদের বাঙ্গালী ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এহেন অয়োজন।
তাদের এ আয়োজনে ঈদ-আনন্দ উদযাপনে যেন কর্ণিশের পাড় বিভিন্ন দেশের প্রবাসী দর্শণার্থীসহ বাংলাদেশী প্রবাসীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।




