এবার পেঁয়াজের খোসা থেকেই তৈরি হবে বিদ্যুৎ


নিউজ ডেস্ক : এবার পেঁয়াজের খোসা থেকেও তৈরি হবে বিদ্যুৎ। পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের এই নতুন গবেষণা সাড়া ফেলবে দুনিয়ায়। এই গবেষণার কোর টিমে ছিলেন ভারতের খড়গপুরের পদার্থবিদ্যার ভানুভূষণ খাটুয়া ও সুমন্ত কুমার করণ। আর তাঁদের সাহায্য করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার পোস্টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিন কোন কিম ও ডক্টর সন্দীপ মাইতি। পেঁয়াজের খোসা থেকে তৈরি শক্তি দৈনন্দিন উপকারে লাগবে। শুধু তাই নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞান, ফরেনসিক টেস্ট ও অন্য নানা কাজে লাগবে এই শক্তি।
ইলেকট্রনিক মাধ্যম ছাড়া এক মুহূর্ত এগোনো সম্ভব নয় নতুন প্রজন্মের। প্রত্যেক মানুষের কাছে এখন এক বা একাধিক ডিভাইস। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, স্মার্টওয়াচ, কী নেই তালিকায় ! আর সবকিছুর জন্য প্রয়োজন শক্তি। আর গোটা দুনিয়ায় শক্তির একমাত্র উৎস পেট্রলিয়াম।
বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় পেট্রলিয়ামকে বলা হয় ফসিল ফুয়েল। তবে বিজ্ঞানীদের চিন্তার কারণ পেট্রলিয়াম অনবীকরণযোগ্য সম্পদ। অত্যধিক ব্যবহারে একদিন পৃথিবী থেকে শেষ হয়ে যাবে ফসিল ফুয়েল। জনপ্রিয় হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের ধারণা। একবাক্যে মেনেও নিয়েছেন বিশ্বের সব বিজ্ঞানীরা।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশ্বজুড়ে এই নিয়েই গবেষণা চলছে। এবার এক অভিনব উপায় আবিষ্কার করল খড়গপুর IIT। খড়গপুর IIT-র গবেষকরা সামনে নিয়ে এল স্যাম্পেল। খড়গপুর IIT-র ম্যাটেরিয়াল সায়েন্সের অধ্যাপক ভানুভূষণ খাটুয়া জানালেন তেমনই। চাপশক্তিকে কাজে লাগিয়ে পেঁয়াজের খোসা থেকে তৈরি করা সম্ভব ন্যানো জেনারেটর ডিভাইস।
পেঁয়াজের খোসা PGO ইলেকট্রিক ম্যাটেরিয়াল। যার উপর কোনও চাপ দিলে যান্ত্রিক শক্তিকে ইলেকট্রনিকাল শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়।
চাপ দিলেই শক্তি উৎপন্ন হবে। নন টক্সিক পদার্থগুলো নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে পেঁয়াজের খোসা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। যেমন পেসমেকার।
পেঁয়াজের খোসা সেলুলোজ দিয়ে তৈরি।
বিভিন্ন রকমের শারীরিক মুভমেন্ট দিয়ে শক্তি উৎপন্ন করা সম্ভব। পেঁয়াজের খোসার দু’ধারে দু’টি নেগেটিভ ও পজ়িটিভ তার লাগাতে হবে। পেঁয়াজের খোসায় চাপ দিয়ে বাইরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
খোসায় সেলুলোজ ছাড়াও নাইট্রোজেন জাত পদার্থ থাকে। চাপ দিলে ক্রিস্টাল ল্যাটিসের মধ্যে ডাইকোল তৈরি হয়। দু’টি তার থেকে পজ়িটিভ ও নেগেটিভ সিগন্যাল যায়। মলিকুলার চেন ভেঙে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। বাইরের কোনও ডিভাইস লাগিয়ে শক্তি পেতে পারি আমরা।
চাপশক্তিকে কাজে লাগিয়ে একটি ন্যানো জেনারেটর ডিভাইস তৈরি করা হয়েছে। তার মাধ্যমে কত পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব ?
আঙুলে সামান্য চাপ দিলেই ২০ ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা সম্ভব। একসঙ্গে ২০টি ৩০ ভোল্টের LED বাতি জ্বালানো সম্ভব।
পেঁয়াজের খোসা থেকে ছ’টি ডিভাইসে ১২০ ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ তৈরি সম্ভব। শুধু শক্তি উৎপাদনে নয়। অন্য বিজ্ঞানেও কাজে লাগছে এই ডিভাইস।
অধ্যাপক ভানুভূষণ খাটুয়া বলেন, “এই ন্যানো জেনেরেটার ডিভাইস হার্টের পালসকে ডিটেক্ট করতে পারছে। মেডিকেল সায়েন্সে এটি যুগান্তকারী ঘটনা। ব্লাডপ্রেসার, হার্টবিট সব ধরতে পারবে এই ডিভাইস। পেসমেকারের শক্তির উৎস হিসেবেও কাজ করতে পারবে। ” শরীরের সঙ্গে মিশে গেলে কোনও ক্ষতি হবে না।
তিনি বলেন, “পেঁয়াজের খোসা বায়োডিগ্রেডেবল। জীবদেহে মিশে যেতে পারে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেট। শরীরে মিশে গেলে কোনও ক্ষতি হয় না। পেঁয়াজের খোলার মধ্যে থাকে কোয়ার্সাটিন। এটি ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য যা খুব প্রয়োজন। ” শুধু তাই নয়। ফরেনসিক বিভাগের গবেষণাও এগিয়ে নিয়ে যাবে এই ডিভাইস।
ভানুভূষণ বলেন, “গলার স্বরের উপর নির্ভর করে এই ডিভাইস থেকে সিগন্যাল পাওয়া যায়। প্রাবল্যের উপর নির্ভর করে আলাদা ব্যক্তির গলার স্বরও চিনতেও পারবে এই ডিভাইস। শব্দবিজ্ঞানে তো কাজে লাগবেই। পরবর্তীকালে ফরেসনিক গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ”
তবে এখনও এই যুগান্তকারী আবিষ্কার বাজারে আসতে অনেক দেরি। অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু দিন। বাণিজ্যিকভাবে খুব তাড়াতাড়ি এই নতুন আবিষ্কার বাজারজাত করা হবে। কীভাবে এই নতুন আবিষ্কার মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া যায়, তা নিয়েই এখন গবেষণায় খড়গপুরের পদার্থবিদ্যা বিভাগ।



