লিড নিউজ

আপিল করবে খাদিজার উপর হামলাকারী সেই বদরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক:এমসি কলেজে পরীক্ষা দিতে যাওয়া খাদিজার উপর নৃশংস ও পৈশাচিক  ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার রায় চলতি বছরের ৮ মার্চ ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে বদরুলকে যাবজ্জীবন আদেশ দেওয়া হয়। সেই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বদরুল।

বদরুল আলমের আইনজীবী এডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এখনও মামলার রায়ের নকল পাইনি। নকল পাওয়ার পর হাইকোর্টে আপিল করবো।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নকলের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে পিটিশন দিয়েছি আমরা। তবে এখনও সেটি পাইনি। যতোটুকু জানি, বিচারক যে রায় পড়ে শুনিয়েছিলেন, তাতে এখনও সই করেননি।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে বদরুল আলমের এই আইনজীবী বলেন, ‘কারাগারে থাকা বদরুলের সাথে আমার যোগাযোগ নেই। তবে বদরুলের ভাই, চাচাতো ভাইদের সাথে যোগাযোগ হয়।’

খাদিজাকে চাপাতি দিয়ে কোপানোর পরপরই কয়েকজন শিক্ষার্থী বদরুলকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরদিন খাদিজার চাচা বাদী হয়ে বদরুলকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন। এরও পরদিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বদরুল।

গত বছরের ৮ নভেম্বর খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট নগরীর শাহপরান থানার এসআই হারুনুর রশীদ আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত ১৫ নভেম্বর চার্জশিট গ্রহণ করেন এবং ২৯ নভেম্বর চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। আদালত বদরুলের বিরুদ্ধে ৩২৪, ৩২৬ ও ৩০৭ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।

৫ ডিসেম্বর শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম। ওইদিন ১৭ জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। ১১ ডিসেম্বর খাদিজার বাবা-মাসহ আরো ১৫ জন সাক্ষ্য দেন। স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ১৫ ডিসেম্বর সাক্ষ্য দেন আদালতে। খাদিজার সাক্ষ্য নেওয়ার জন্য ৮ জানুয়ারি তারিখ ধার্য করেন আদালত। কিন্তু সুস্থ না হওয়ায় হাজির হননি তিনি। আদালত তার সাক্ষ্য নিতে ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধার্য করেন। সেদিন আদালতে হাজির হয়ে বদরুলকে চিহ্নিত করে সাক্ষ্য দেন খাদিজা।

ওইদিন আদালত মামলার যুক্তিতর্কের জন্য ১ মার্চ ধার্য করেন। তবে ১ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। একটি ধারায় মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ায় সীমাবদ্ধতা থাকায় মামলাটি স্থানান্তর করতে হয়।

সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে গত ৫ মার্চ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপিত হয়। ওইদিনই রায় প্রদানের জন্য ৮ মার্চ দিন ধার্য করেন আদালত। রায়ে বদরুলকে যাবজ্জীবন দ- দেন আদালত। সবমিলিয়ে ৯ কার্যদিবসে শেষ হয় খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলা।

এদিকে, বদরুলের হামলায় গুরুতর আহত হওয়া খাদিজাকে প্রথমে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ওইদিন রাতেই তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে প্রায় দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বছরের ২৮ নভেম্বর খাদিজাকে সাভারের সিআরপিতে নেওয়া হয়। সেখানে ক্রমেই সুস্থ হয়ে ওঠতে থাকেন তিনি। চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি সপ্তাহখানেকের জন্য বাড়িতে আসেন খাদিজা। পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি পুরো সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেন তিনি।

Related Articles

Back to top button