কুশিয়ারা নদী পারের মানুষের দূর্দশার শেষ কোথায়?

ক্লাব, রাস্তা-ঘাট ছাড়াও শত শত একর ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। শেওলার কোনা শালেশ্বর গ্রামে মুক্তিযুদ্ধের ৪ নং সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর আলী ওয়াকিউজ্জামান এর গ্রামের বাড়ি ছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিমাখা এই বাড়িটিও নদীর গর্ভে এখন বিলিন।
নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মানিকগঞ্জ ও অমরগঞ্জ বাজারও নদীতে।
কিন্তু আমরা এনিয়ে কিছুই করতে পারিনি। বাবুল বলেন, যদিও নদী শাসন নিয়ে আমাদের অনেক কিছু করার ছিল। কুশিয়ারা নদী শাসন নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রনে যে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে তা এ অঞ্চলের ভাঙ্গন উপদ্রুত মানুষের কোন কাজে আসেনি। তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালের দিকে শেওলা ইউনিয়নের তৎকালিন চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান চৌধুরী এনার প্রচেষ্টায় কয়েক অংশে বন্যা নিয়ন্ত্র বাধ নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এখন আমাদের গলার কাটা হয়ে দেখা দিয়েছে। অপরিকল্পিত ভাবে বাঁধ দেয়ায় এক এলাকায় ভাঙ্গন বন্ধ হলেও আরেক এলাকায় বন্যা দেখা দিচ্ছে। ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে। ফলে সরকারের এসব অর্থ অপচয়ের খাতায় গেছে।
সমাজকর্মী আলী আক্তারুজ্জামান বাবুল জানান, শত শত পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে যাবার আশংকা করে তিনি বলেন, যুগ যুগ ধরে খরস্রোতা কুশিয়ারা নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলেও স্থানীয় সরকার, পানি উন্নয়ন বোর্ড কিংবা দায়িত্ব প্রাপ্ত কোন সরকারি বিভাগ এ বিষয়ে আজ পর্যন্ত কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তিনি দ্রুত কুশিয়ারা নদী শাসনে কার্যকর প্রকল্প হাতে নেয়ার আহবান জানান।
যোগাযোগ করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. গোলাম বারী এই প্রতিবেদককে বলেন, প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পের আওতায় কুশিয়ারা ও সুরমা নদী শাসন বিষয়ে বোর্ডের অধীন একটি জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জরিপ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। অতীতে এই দুই নদী শাসনে পাউবোর প্রকল্প কাজে আসেনি স্থানীদের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে এই প্রকৌশলী বলেন, নদী শাসনে বি আই ডাব্লুউটির অধীন নদীর ড্রেজিং, ২০০৪ সালে যেসব বাঁধ দেয়া হয়েছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগে তার বেশ কিছু অংশের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় এর কিছু প্রভাব পড়তে পারে। তবে টেকসই প্রকল্প গ্রহনে এসব সমস্যা চিন্হিত করতে নতুন জরিপ কাজ চলছে বলে জানান তিনি।




