অন্যান্যলাইফ স্টাইলসারাদেশ

ফারহানা তাসমিন: এক হাতে শিক্ষা, অন্য হাতে ব্যবসা ও মানবসেবা

-এক বহুমাত্রিক সফল নারীর অনন্য যাত্রা

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ

বাংলাদেশের নারী অগ্রযাত্রার গল্পে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে। সেই তালিকায় উদ্ভাসিত এক উজ্জ্বল নাম ফারহানা তাসমিন-যিনি শিক্ষকতা, ব্যবসা এবং সমাজসেবাকে একই সাথে এগিয়ে নিয়ে গেছেন অসাধারণ দক্ষতা, একাগ্রতা ও মানবিকতায়। একদিকে তিনি আব্দুল আউয়াল কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক, অন্যদিকে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান টিআরএস লেভেল এন্ড প্যাকেজিং এবং টিআরএস ফ্যাশন এর প্রতিষ্ঠাতা ও সফল উদ্যোক্তা।

শুধু তাই নয়-সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের উন্নয়নেও তিনি রেখে চলেছেন অসামান্য অবদান।

মনোবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে ফারহানা তাসমিন শিক্ষার্থীদের মানবমন, ব্যক্তিত্ব বিকাশ, নৈতিকতা ও জীবনদর্শন সম্পর্কে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেন। তাঁর পরিশ্রম, আন্তরিকতা ও আধুনিক শিক্ষাদর্শে শিক্ষার্থীরা যেমন সমৃদ্ধ হয়, তেমনি প্রতিষ্ঠানে তিনি হয়ে উঠেছেন শ্রদ্ধাভাজন ও প্রিয়মুখ.

ব্যবসায়িক সাফল্য: টিআরএস থেকে জাতীয় পরিচিতিঃ

২০১৩ সালে তাহার স্বামী প্রতিষ্টা করেন টিআরএস লেবেল এন্ড প্যাকেজিং ২০১৯ সালে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন টিআরএস ফ্যাশন। নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী প্রচেষ্টায় মাত্র দুই-তিন বছরের মধ্যেই টিআরএস দেশের পোশাকশিল্পে নিজের স্থান তৈরি করে নেয়। মানসম্মত পণ্য, পেশাদার ব্যবস্থাপনা এবং কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আজ শিল্পমহলে এক পরিচিত ব্র্যান্ড। শিক্ষকতা সামলানো, ব্যবসার ব্যস্ততা, উৎপাদন ও বিপণন-সবই তিনি নিখুঁতভাবে সামলান। তাঁর নেতৃত্বে টিআরএস শুধু ব্যবসায় নয়-নারী ও যুবকদের কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সামাজিকদায়িত্ববোধ: মানবসেবায় তার অনন্য দৃষ্টান্তঃ
সফলতা তাকে কখনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক করেনি। বরং সমাজের জন্য কিছু করার মানসিকতা সবসময় তাকে পরিচালিত করেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে-অপরাজেয় বাংলা মোহাম্মদপুরের বস্তিবাসী নারী ও শিশুদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের জন্য কাজ করা এই সংগঠনকে তিনি নিয়মিত মাসিক অনুদান দিয়ে সহায়তা করছেন। তাঁরই সহায়তায় অনেক নারী জীবনসংগ্রামে নতুন আলো দেখতে পেয়েছে। ও লীডো শাহ আলী মাজার এলাকার সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিভাবান শিশুদের জন্য কাজ করা লোকাল এডুকেশন এন্ড ইকোনমিক ডেভলাপমেন্ট ওরর্গানাইজেশন (লীডো) লোকাল এডুকেশন এন্ড ইকোনমিক ডেভলাপমেন্ট ওরর্গানাইজেশন (লীডো) এর সঙ্গেও তিনি যুক্ত আছেন। ৩০ জন শিশুর শিক্ষা, খাদ্য ও জীবনমান উন্নয়নে তার আর্থিক সহায়তা ইতিমধ্যেই পরিবর্তন এনেছে। সুরের ধারা-সংগীতে মানবিকতার স্পর্শ শিল্প ও সংস্কৃতিকে তিনি দেখেন মানুষের ধারা”, যেখানে শিশুদের সংগীতচর্চা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে তিনি নিয়মিত বড় অঙ্কের অনুদান দেন। তাঁর লক্ষ্য-নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীলতা ও ইতিবাচক চিন্তায় গড়ে তোলা। মহানন্দে পূর্ণ মানবসেবা, দৃঢ়তায় ভরা সাফল্য ২০২২ সালে ব্যবসা ও সমাজসেবায় সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করতে তিনি চাকরি ছাড়েন। কিন্তু থেমে যাননি-বরং আরও গতিময় হয়েছে তাঁর পথচলা। একজন মা, উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও সামাজিক কর্মী হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন-ইচ্ছাশক্তি থাকলে একজন নারী সকল ক্ষেত্রেই সমান দক্ষতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন।

স্বীকৃতি ও অনুপ্রেরণা– তার বহুমাত্রিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য তাঁকে “এক অনুকরণীয় নারী” বলা যায়। ফারহানা তাসমিন শুধু একজন সফল নারী নন-তিনি এক প্রেরণার আলো। তাঁর কাজ প্রমাণ করে, পরিবার, পেশা, ব্যবসা ও সমাজসেবা-সবই একসাথে দক্ষভাবে সামলানো সম্ভব, যদি থাকে দৃঢ় মনোবল, নৈতিকতা ও অন্যের প্রতি দায়বদ্ধতা। সমাজের নানা স্তরে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য তিনি এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

Related Articles

Back to top button