শিক্ষাঙ্গন

ভালো নেই বেসরকারী শিক্ষকবৃন্দ

মু. জামাল হুসাইন: ঠিক এই মুহূর্তে মাতৃভুমি এক চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস মানব জাতির অস্তিত্বের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুগে যুগে পৃথিবীতে মহামারি এসেছে বটে। করোনা ভাইরাসের মতো বৈশ্বিক মহামারি এর পূর্বে কোনোদিন এসেছে বলে আমার জানা নেই।

সারা দেশ লকডাউন, শাটডাউন হয়ে গেছে। বিজ্ঞান বলি আর চিকিৎসা বিজ্ঞান বলি, করোনা নামক ভাইরাসটির কাছে আজ ব্যর্থ। মানুষের জ্ঞান বিজ্ঞান আজ প্রকৃতির কাছে তুচ্ছ বিষয়। প্রকৃতির হাতে মানুষ নিছক খেলার পুতুল। করোনা ভাইরাস হয়তো সেই সত্যটি জানান দিতে এসেছে আমাদের কাছে।

এই মুহূর্তে পৃথিবীতে কেউ কোথাও ভালো নেই। ইউরোপ আমেরিকার মতো দেশ অসহায় দাঁড়িয়ে লাশের মিছিল প্রত্যক্ষ করছে। আমাদের মতো পিছিয়ে পড়া দেশেরও আজ একি পরিণতি।

করোনা মহামারি সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশকে গ্রাস করে বসেছে। এর ভয়াল ছাপ প্রথম থেকেই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের উপরে পড়ে। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লকডাউন হয়ে যায়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ থেকে ছিটকে পড়ে। যার কারনে শিক্ষকেরা নিত্যদিনের কাজ থেকে বিচ্যুত হয়ে যান। চির চেনা শ্রেণিকক্ষ ও প্রিয় শিক্ষার্থীদের মুখগুলো আজ তারা দেখতে পান না। প্রিয় শিক্ষার্থীদের জন্য দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। একদিকে এদের পড়াশুনার ভারি লোকসান অপরদিকে এদের জীবন নিয়েও উৎকণ্ঠার শেষ নেই।

মানব সভ্যতার ঊষালগ্ন থেকে মানুষ চলাফেরা করে নিজের আহারের সংস্থান করেছে। দিনের পর দিন ঘরে বসে থাকার অভ্যাস তাদের নেই। আজ পরিস্থিতির কারণে মানুষ স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি। ঘরে বসে অন্নের সংস্থান করা তার জন্য দুরূহ কাজ হয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক এই মহামারিতে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার সাথে আজ গোটা মানুষ জাতির বসবাস। শিক্ষকেরা মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো সমাজ নন। করোনার এই বৈশ্বিক মহামারিতে শিক্ষক সমাজ একদিকে শিক্ষার্থীদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে পরিবার পরিজন নিয়ে শঙ্কিত। এই মহা দুর্যোগে পৃথিবীতে মানব জাতির অস্তিত্ব নিয়েও তাদের আশঙ্কা কম নয়। এর উপর নিজের পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার দুশ্চিন্তা। বহুমুখি দুশ্চিন্তা। বেসরকারি শিক্ষকদের আজ বহুমাত্রিক চিন্তায় পেয়ে বসেছে।

আজ যদি তারা সরকারি শিক্ষক হতেন, তবে তাদের এত দুশ্চিন্তার দরকার হতো না। বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকেরা প্রতিষ্ঠান থেকে বেতনের যে অংশটি পান, সেটি এখন প্রায় বন্ধ।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের একটি বড় অংশের এমপিও নেই। তারা নন এমপিও। তাদের আজ কি অবস্থা? স্কুল-কলেজ খোলা থাকলে ছাত্র বেতন হিসেবে যে কয় টাকা আদায় হয় অথবা প্রতিষ্ঠাতার নিজস্ব ফান্ড থেকে কিছু সম্মানি ও স্কুল কিংবা কলেজ টাইমের বাইরে টুকটাক কিছু একটা করে আরও কিছু টাকা যোগাড় করেন। উভয়টা মিলে বড়জোর পাঁচ-সাত হাজার হয়। স্বাভাবিক সময়ে সেই টাকা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। আজ করোনা মহামারির এই দুর্দিনে তাদের দুর্দশা ও দুর্গতির খবর আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। স্কুল বেতন নেই। বাইরে টুকটাক কিছু করারও নেই। এরা এখন কী করে বাঁচবেন?

সরকার এ বিষয়ে খবর নেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেনি। কারন এরা বেসরকারী ব‌্যক্তি মালিকানাধিন। শুধু সরকারই নয় যে প্রতিষ্ঠানের জন‌্য কাজ করেছেন সেই প্রতিষ্ঠানের কতৃপক্ষই আজকাল খবর নিচ্ছেন না শিক্ষকদের।

ইতিপূর্বে সরকার যে ম্যাগা আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন সেটি এই মহাবিপদে দেশের মানুষকে আশার আলো দেখিয়েছিল কিন্তু এটির সুফল থেকে বেসরকারি শিক্ষকেরা বাদ পড়েন। তাই সরকার এবং বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাদের কাছে একটাই দাবী রাখতে চাই কম করে হলেও ফিরে থাকান এই সমস্ত শিক্ষকদের দিকে যারা নিম্ম সম্মানী নিয়েও দেশ ও জাতির কল‌্যানে কাজ করছেন এবং করবেন। লেখক: শিক্ষক, হাজী মোহাম্মদ মন্তাজ উদ্দিন চৌধুরী উচ্চ বিদ‌্যালয়, খশিলা জগন্নাথপুর, সুনামগঞ্জ।

Related Articles

Back to top button