“বানিয়াচংয়ে সকল সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণের দাবী”

ডেস্ক রিপোর্ট: বানিয়াচং উপজেলার সকল সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণের দাবী জানিয়েছেন সাংবাদিক ও সিপিবি নেতা ইমদাদুল হোসেন খান। গতকাল ৩০ জুন ফেসবুকে দেয়া একটি পোস্টে তিনি এ দাবী জানিয়ে পোস্টটি হবিগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ খান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম চৌধুরী, ইউএনও মাসুদ রানা, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গকে ট্যাগ করেন। মহুর্তের মধ্যে তাঁর এই দাবীর সমর্থনে লাইক-কমেন্টের বন্যা বইতে শুরু হয়। ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিক ইমদাদুল হোসেন খান উল্লেখ করেন,
“বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা ঢাকার মেয়র থাকাকালে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সড়ক ও স্থাপনার নাম জীবিত এবং মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করেছেন। ঢাকায় এই নামফলকগুলো দেখে খুব ভালো লাগে। উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের বানিয়াচং উপজেলায়ও এমন মহৎকর্ম করা যায়না? যেমন :- উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত মিলনায়তনের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা আমীর হুসেন মিলনায়তন, মজলিসপুর থেকে আদর্শ স্কুল হয়ে বড়বাজার পর্যন্ত সড়কের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাব্বির মিয়া সড়ক, আদর্শ বাজার থেকে সইদরটুলা হয়ে বড়বাজার পর্যন্ত সড়কের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দারুজ্জামান খান ধন মিয়া সড়ক, বড় বাজার-আলীয়া মাদ্রাসা-গ্যানিংগঞ্জ সড়কের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক সড়ক, আলীয়া মাদ্রাসা থেকে ডাকবাংলো সড়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী শেখ রহমত আলী সড়ক, জিপস্ট্যান্ড থেকে নন্দীপাড়া সড়কের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ নমীর আলী সড়ক, হামদর্দ থেকে কাষ্টগড়-মাদারীটুলা সড়কের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা রমেশ চন্দ্র পান্ডে ওরফে দোলন পান্ডে সড়ক (শুনেছি এই সড়কটি তাঁর নামেই হওয়ার কথা, কিন্তু এখনও নামফলক স্থাপন করা হয়নি), বড় বাজার থেকে সাগর দিঘীর পশ্চিম পাড় হয়ে গ্যানিংগঞ্জ পর্যন্ত সড়কের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোছাব্বির খান সড়ক, বড়বাজার থেকে সারং বাজার হয়ে কাদিরগঞ্জ সড়কের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা রতীশ চন্দ্র দাশ সড়ক, বড়বাজার থেকে ৫/৬ নং বাজার সড়কের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা আমীর খাঁ সড়ক, ৫/৬ নং বাজার থেকে গ্যানিংগঞ্জ সড়কের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদির তুফানী সড়ক, গ্যানিংগঞ্জ বাজার থেকে যাত্রাপাশা কুন্ডুরপাড় সড়কের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপীনাথ দেব ওরফে মিলন দেব সড়ক, গ্যানিংগঞ্জ বাজার থেকে রায়েরপাড়া সড়কের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলী সড়ক, গ্যানিংগঞ্জ বাজার থেকে ছিলাপাঞ্জা সড়কের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন সড়ক, আদারবাড়ী সড়কের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা আকাবর মিয়া সড়ক, গুনই-বড়ইউড়ি সড়কের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা দরবেশ আলী সড়ক, কাগাপাশা-সেকান্দরপুর-মিলনবাজার সড়কের নাম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ দাশ সড়ক, উপজেলা পরিষদের মালিকানাধীন জনাব আলী কলেজ মিলনায়তনের নাম বীরাঙ্গনা ছাবেদা খাতুন মিলনায়ন, বানিয়াচং খাদ্য গুদামের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা মনজিল মিয়া খাদ্য গুদাম এভাবে প্রত্যকটি সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম জাতির শ্রেষ্ট সন্তানদের নামে নামকরণ করা যায় কিনা সকল জনপ্রতিনিধি ও অফিসারদের ভেবে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি। এছাড়া যেসব সড়কের নামকরণ করা রয়েছে কিন্তু নামফলক নেই (থাকলেও নজরকাড়ার মতো নয়!) যেমন :- বানিয়াচং-হবিগঞ্জ শহীদ বুদ্ধিজীবী সায়ীদুল হাসান সড়ক, বানিয়াচং-নবীগঞ্জ বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল এমএ রব (মহান মুক্তিযুদ্ধের সেকেন্ড ইন কমান্ড) সড়ক, আদর্শ বাজার-পাহাড়পুর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুছ ছালাম খান সড়ক এসব সড়কের উভয়প্রান্তসহ বিভিন্ন স্থানে মাইলফলক বসিয়ে তাতে নামকরণকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম নজরকাড়ার মতো লেখার ব্যবস্থা করা যায় কিনা ভেবে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছেন কিন্তু সংগঠক হিসেবে বা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকায় নাম নেই যেমন :- কমরেড আহসান উল্লা, মাজুম উল্লা, আবু কাহের খান, শেখ ফজলে এলাহী বাচ্চু এমন ব্যক্তিদের নামে কোন স্থাপনার নামকরণ করা যায় কিনা তাও ভেবে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি।
জাতির শ্রেষ্ট সন্তানদের নামে উপজেলার সকল সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নামকরণ করলে সারাদেশের মধ্যে বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন একটি অনন্য নজির সৃষ্টি করবেন বলে আমার ধারণা। আমাদের জনপ্রতিনিধিগণ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ দেশে-বিদেশে নন্দিত হবেন বলে আমার বিশ্বাস।
অতএব, এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলের সুচিন্তিত পদক্ষেপ কামনা করছি।”




