সিলেট বিভাগ

মেয়েকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে জখম

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মেয়েকে উত্যক্ত করা ও ঘর থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই উপজেলার পাইলগাও ইউনিয়নের গুতগাও গ্রামের আংগুর মিয়ার ছেলে শামীম ও তার লোকজনের ‍বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ করায় মেয়েটির বাবা আনোয়ার আলীকে (৬৫) ভাড়া বাসা থেকে ধরে নিয়ে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে তারা।

সোমবার রাতে আলীগঞ্জ বাজারের কলোনি এ লাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি’র একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মেয়ের বাবার হাতে ও পিঠে পায়ে রডের আঘাতের চিহ্ন।

স্থানীয়রা ও নির্যাতিতা মেয়ের বাবা আনোয়ার আলী জানান, হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার রাজনগর গ্রামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গৃহ পরিচারিকার কাজ করতো তার মেয়ে। সেখান থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে ওই বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় শামীম। তারপর থেকে আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। সাত বছর আগে নবীগঞ্জ উপজেলার রাজাবাজ গ্রামের কবির মিয়ার সংঙ্গে মেয়ের বিয়ে হয়েছিলো। গত দু’বছর হলো কবির মিয়া তার মেয়েকে তালাক দিয়েছে। এরপর থেকে ১ ছেলে নিয়ে মেয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করে। তখন থেকে মেয়ে উত্যক্ত করতো শামীম। সোমবার সন্ধ্যায় আনোয়ার আলী শামীমের কাছে মেয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে শামীমের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

নির্যাতনের কথা স্বীকার করে আনোয়ার আলী বলেন, আলীগঞ্জ এলাকার বাসা থেকে তাকে গুতগাও গ্রামের শামীম, লিটন, লিয়াকত ও আক্কাই সহ আরো দুইজন তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে রড দিয়ে পিটিয়েছে। বিষয়টি তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যকে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাননি। তার মেয়ে কোথায় আছে তিনি জানেন না।

পাইলগাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. মখলুছ মিয়া বলেন, এ ঘটনার বিষয়টি তাকে কেউ জানায়নি।

জগন্নাথপুর থানার ওসি তদন্ত মো. মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

জগন্নাথপুর থানার এস আই আরিফ রেজা বলেন, শামীম ও তার লোকদের ধরতে রাত থেকে অভিযান চালানো হয়েছে। তার বাড়ি ঘেরাও করে তাকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, এলাকায় শামীম একজন সন্ত্রাসী ও মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত। সে চুরি ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। থানায় বেশ কয়েকটি মামলাও রয়েছে তার নামে।

Related Articles

Back to top button