লিড নিউজসিলেট বিভাগ

শ্রীমঙ্গলে বেগুনি রঙের ধান ক্ষেত দেখতে মানুষের ভিড়

নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রথমবারের মতো বেগুনি রঙের ধানের আবাদ করা হয়েছে। চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার আশীদ্রোন তিতপুর গ্রামে ৪৫ শতক কৃষি জমিতে এলাকার কৃষক মো.ছালেহ আহমদ বেগুনি রঙের ধানের আবাদ করে সবার নজর কেড়েছে। দৃষ্টিনন্দন এই ক্ষেত দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করে বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষ।
সবুজের দিগন্তজোড়া ধান ক্ষেতের মধ্যখানে এক খণ্ড বেগুনি রঙের জমি। আশ্চযর্য না! দূর থেকে চোখ পড়লে মনে হয় সবুজের মাঝে কেউ যেন লেপ্টে দিয়েছে বেগুনি রঙ। চিরাচরিত সবুজ ধান ক্ষেতের বদলে এক টুকরো জমিতে বেগুনি রঙের ধানের চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে গ্রামের সকলকে। কৃষকের আগ্রহে সবুজের মধ্যে রঙিন ধানক্ষেত।
সবুজ ধান ক্ষেতের মধ্যে বেগুনি রঙের ক্ষেতটি দেখে মনে হতে পারে কোনো আগাছা বা বালাই আক্রান্ত ধানক্ষেতের দৃশ্য। আসলে এর কোনটিই সত্য নয়! এটি এমন এক ধানের জাত, যার পাতা ও কাণ্ডের রঙ বেগুনি। সাধারণ কৃষকদের কাছে এখন পর্যন্ত এই ধানের পরিচিতি বেগুনি রঙের রঙিন ধান।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কৃষক ছালেহ আহমদ নিজ উদ্যোগে আগ্রহের বসে এই ধান চাষাবাদ করেছেন। ভিন্ন রঙের ধানক্ষেতটি সড়কের পাশে হওয়ায় পথচারীদের দৃষ্টি কেড়েছে। এখন পযন্র্Í ধানক্ষেত ভালো অবস্থায় রয়েছে।
কৃষক ছালেহ আহমদ বলেন, মৌলভীবাজারের আমার মামাতো ভাইয়ের কাছ থেকে বেগুনি রঙের পাঁচ কেজি ধানের বীজ সংগ্রহ করি। পরে বীজতলার মাধ্যমে প্রায় ৪৫ শতাংশ জমিতে এই ধানের চারা রোপণ করি।
তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত ধানক্ষেতের অবস্থা ভালো। দেশের অন্যান্য সাধারণ ধান গাছের মতই এই জাতের ধানের চাষ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, “তার আবাদ করা বেগুনি রঙের ধানক্ষেত দেখে আশপাশের কৃষকরাও এই ধান চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। আমারও আশা যদি ধানের ফলন ভালো হয়, তবে আমি আগ্রহী কৃষকদেরকে চাষাবাদ করতে এই ধানের বীজ দেব।”
একই এলাকার কৃষক ছালিক মিয়া বলেন, “আমরা আগে পরে আর কখনো এই রঙের ধান গাছ দেখি নাই। দেখে মনে হচ্ছে এই জাতের ধানগাছ দেশীয় জাতের চেয়ে ফলন বেশি হবে। ছালেহ ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ রাখছি। যদি তার ধানের ফলন ভালো হয়, তবে ভবিষ্যতে আমাদের ইচ্ছে আছে আবাদ করার।”

কৃষি উপ-সহকারী কর্মকতার্ মো.মাকুসুর রহমান বলেন, এই ধানের জাত যেহেতু শ্রীমঙ্গলে প্রথম আবাদ করা হয়েছে। আমরা মাঠ পযার্য়ে কৃষককে সঠিক পরামর্শ দিচ্ছি এবং খোঁজ খবর নিচ্ছি।
এবিষয়ে কৃষিবিদ নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি বলেন, বেগুনি রঙের এই ধানগাছ সাধারণ ধানগাছের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে। তাছাড়া এই জাতের গাছে পোকা-মাকড়ও কম আক্রমণ করে।

তিনি আরও বলেন, আমরা কৃষক ছালেহ আহমেদ এর বেগুনি রংয়ের ধানক্ষেতটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি এবং বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিচ্ছি। ধানের ফলন কি রকম হবে তা জানতে ধান কাটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ফলন ভালো হলে ভবিষ্যতে এই ধানের আবাদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায, মাঠ পর্যায়ের অবস্থা বিবেচনায় ধানটির জীবনকাল ১৪৫ থেকে ১৫৫ দিন এবং ফলন একরে ৪০ থেকে ৪৫ মণ। যা আনুমানিক শতাংশে ২০ কেজি (৪ থেকে ৫ টন প্রতি হেক্টরে) হতে পারে। এই ধানের চাল হবে বেগুনি ও সুস্বাদু।

Related Articles

Back to top button