

ডেস্ক রিপোর্ট: কওমী মাদরাসা সমূহের অন্যতম নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান—‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ’ এর চলমান সঙ্কট দূরীকরণ ও উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রবীণ উলামায়ে কেরামকে এগিয়ে আসতে এবং অভিযুক্ত ও সমালোচিতদের সরে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন—কওমী অধিকার পরিষদ।
সচেতন তরুন প্রজন্মের আলেমগণ একযৌথ বিবৃতিতে বলেন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম, রাজনীতি ও গঠনতন্ত্র না মানাই বেফাকের মূল সমস্যা। আজ অনিয়মই যেনো বেফাকের নিয়মে পরিণত হয়েছে। বেফাকের কার্যক্রম পরিচালনায় মানা হয় না গঠনতন্ত্র। যদিও ব্যক্তিবিশেষের ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রের দোহাই দিয়ে পার পাওয়ার নজির রয়েছে অনেক। নেতৃস্থানীয়রা তাদের প্রভাব ও বলয় বিস্তারের জন্য কমিটিতে চেনা-জানাদের জায়গা করে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে কমিটি গঠনে এলাকাপ্রীতি, স্বজনতোষণ এবং রাজনৈতিক নেতাদের জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। এটা নিয়ে আলেমসমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও চরম ক্ষোভও রয়েছে।
তারা আরো বলেন, জাতীয় সংগঠন বেফাকে সংস্কার আনয়ন সময়ের অপরিহার্য দাবী। বর্তমানে সেখানে অনৈতিকতা ও অপরাধের প্রকাশ্য অভিযোগ আসতে শুরু করেছে, এদেশের সচেতন আলেম সমাজ যা দেখে অভ্যস্থ নয়। দ্বীনি শিক্ষায় স্বজনপ্রীতির বিরোধিতা করা হলেও এ ধরণের চর্চা দেশের সবচেয়ে বড় কওমি প্রতিষ্ঠানটিকে সঠিকভাবে পরিচালিত হতে বাধাগ্রস্ত করছে। এর অবসান হওয়া দরকার। বর্তমান পরিস্থিতি দিনদিন জটিল আকার ধারণ করছে।
ফেসবুক ও সোশাল মিডিয়াই নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। কওমি মাদরাসা এবং উলামায়ে কেরামের মান-মর্যাদা নষ্ট হওয়ার পথে। বর্তমান মহাসচিব আরও অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রশ্নফাঁস এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিতর্কিত ফোনালাপের রেকর্ডও ফাঁস হয়েছে। ইতিমধ্যে বিতর্কিত কর্মকান্ডে অংশগ্রহনের অভিযোগে পরীক্ষানিয়ন্ত্রকসহ তিনজনকে বেফাক বহিষ্কারও করেছে। যদিও তারা পরবর্তীতে তারা ফেসবুকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে জবানবন্দিও দিয়েছে।
তাই চলমান এই সঙ্কট দ্রুত কাটিয়ে উঠতে তরুন প্রজন্মের আলেমদের পক্ষ থেকে আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি যে, বেফাকের সাথে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের বাইরেও যে সকল প্রবীণ উলামায়ে কেরাম রয়েছেন তারা দ্রুত এগিয়ে এসে এ সঙ্কটের সমাধান করুন। যথাযথ উদ্যোগ নিন। আমরা আপনাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করছি। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের সঠিক বিচার করার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি বর্তমান সম্মানিত মহাসচিব মহোদয়কে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের হাতে ক্ষমতা অর্পন করে আপন পদ থেকে সুষ্টূ তদন্তের স্বার্থে সরে দাঁড়ানোর আহবান জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর ও সম্মতি প্রকাশ করেন : সৈয়দ শামসুল হুদা, জেনারেল সেক্রেটারী, বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট (বিআইএম)। ড. মাওলানা শহীদুল ইসলাম ফারুকী, পরিচালক, পয়ামে ইনসানিয়াত বাংলাদেশ। মাওলানা সানাউল্লাহ আজহারী প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, মাদ্রাসা দারুল আরকাম, উত্তরা। মাওলানা মহিউদ্দীন ফারুকী, পরিচালক, আরবি ভাষা ও সাহিত্যকেন্দ্র, ঢাকা। বিশিষ্ট লেখক, গবেষক মাওলানা মুহিউদ্দীন কাসেমী। মুফতি নেয়ামতুল্লাহ আমিন, চেয়ারম্যান প্রাইভেট মাদরাসা অ্যাসোসিয়েশন, উত্তরা, ঢাক। মুফতি মুহাম্মদ শুয়াইব, বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক।
মাওলানা রুহুল আমীন নগরী, সম্পাদক : সিলেট রিপোর্ট ডটকম। মাওলানা গোলাম রব্বানী ইসলামাবাদী, চট্টগ্রাম। মাওলানা যাকারিয়া নোমান ফয়জী, মহিউস সুন্নাহ, মেখল, হাটহাজারী। মুফতি আবু মাসরুর, টঙ্গী। মুফতি মাওলানা খন্দকার মুজাম্মিল হক, গাজীপুর। সাগীর আহমদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম। মাওলানা আব্দুল আলিম, মারকাযু শাইখুল ইসলাম, ঢাকা। মুফতি নুরুজ্জামান নোমানী, মীরপুর, ঢাকা। মাওলানা মাঈনুদ্দিন ওয়াদুদ, মীরপুর, ঢাকা।
মাওলানা মীর ইদ্রিস, ভারপ্রাপ্ত পরিচালক, আল-হুদা মহিলা মাদ্রাসা, হাটহাজারী। মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনির, সাবেক মুহাদ্দিস, চারিয়া মাদ্রাসা ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হাটহাজারী উপজেলা। মাওলানা জাহাংগীর আলম, পরিচালক হযরত সুমাইয়া মহিলা মাদ্রাসা, হাটহাজারী। মাওলানা মাহমুদ শাহ, মোহাদ্দিস বাবুনগর মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম।
বিশিষ্ট লেখক-গবেষক এবং মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাসুম, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক- তাহরিকুল কলম ফাউন্ডেশন, ঢাকা। মাওলানা সৈয়দ সালিম কাসেমী সিলেট, মুফতি ইবাদুর রহমান সিলেট, মাওলানা আনোয়ার হোসাইন খান, সিলেট, মাওলানা নুরে আলম সিদ্দীক, সিলেট, মাওলানা সালেহ আহমদ, শাহবাগী সিলেট। মুফতি আনিসুর রহমান কাসেমী, মুহাদ্দিস জামিয়াতু ইবরাহীম। মাওলানা সাইফুল্লাহ সাইফ, মোহতামিম, ফকিউল উম্মাহ মাদরাসা ডেমরা। মুফতি উসমান আশরাফী, মুহতামিম, তরবিয়াতুল উম্মাহ মাদরাসা। মাওলানা হাবিবুল্লাহ সিরাজ, শিক্ষা সচিব বাইতুল মুমিন মাদরাসা উত্তরা, মাওলানা আব্দুল জাব্বার, মোহতামীম আল কারীম মহিলা মাদরাসা।
মাওলানা গাজী মাসুদুর রহমান মুহতামীম কাসেমুল উলুম মাদরাসা। মাওলানা আশরাফুল ইসলাম, মুহতামীম মাদরাসাতুন নুর, মাওলানা আবুল হাসান মুহতামীম, দারুল মা’আরেফ। মাওলানা আনাস বিন ইউসুফ, তরুন চিন্তক ও লেখক। ওবায়েদুল্লাহ সায়েম, সুরকার ও শিল্পী। মাওলানা মাহমুদ হাসান, আমিনবাজার, ঢাকা।




