
ফাহাদ মারুফ : করোনা ভাইরাসের সংক্রমনে বিশ্ব যখন থমথমে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে দিন দিন বাড়ছে লাশের বুঝা। তেমনি বাংলাদেশে দিন দিন বাড়ছে করোনার প্রভাব।
ভাইরাসে আতঙ্কে করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন বিভাগ, বিভিন্ন জেলা, উপজেলা লকডাউনে মানুষ যখন ঘরবন্দি চাকরি হারিয়ে, অনেকের ব্যবসা বন্ধ করে, আরো বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। ঘরে বন্দি থাকতে থাকতে এক সময় ফুরিয়ে যায় খাবার, অনেকের ফুরিয়ে যায় টাকা। কাজ, কর্ম যখন স্থগিত, তখন মানুষ অসহায় হয়ে ঘরে পানি খেয়ে দিনপাত করছে।
দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে করোনায় মানুষ যখন ঘরবন্দি তখন জীবনের যুঁকি নিয়ে দেশের এমন পরিস্তিস্থিতে থেমে নেই পাগলের বন্ধু ব্যাংকার শামীম আহমেদ।
ব্যতিক্রম উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন অনলাইনের মাধ্যমে। মানুষকে সহযোগীতার বিভিন্ন পদ্ধতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচারণা করছেন তিনি।
আসুন এক নজরে দেখে নেই ফেসবুকে উনার এই মহৎ কাজের কিছু পোস্টগুলো।
(১১ মে) এইচআইভি (HIV) পজেটিভ একটি পরিবারের কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌছিয়ে দেয়া হলো, এই শিরোনামে তিনি একটা পোস্ট দেন পাগলের বন্ধু ব্যাংকার শামীম আহমেদ।
পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হল:
গত ৩০/০৪/২০২০ ইং তারিখে কালের কন্ঠে “ফেসবুকেই মিলবে ত্রাণ” একটা প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সাহায্য চেয়ে অসংখ্য অনুরোধ অাসে।এর মাঝে ইমেইলে কিছুদিন অাগে একটা মেইল চোখে পড়ে।মেইলটা পড়ে অনেকটা চমকিয়ে উঠিছিলাম।সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার একটি গ্রাম থেকে এইচঅাইভি পজেটিভ একটি পরিবার সাহায্য চেয়ে মেইল পাঠান।পরবর্তিতে বিষয়টি কর্নফার্ম হবার জন্য অামি ঐ ব্যক্তির সাথে ফোনে যোগাযোগ করি।ওনার সাথে কথা বলার পর অামি মৌলভী বাজারের এক বন্ধুর মাধ্যমে গতকাল সকালে অামার ব্যক্তিগত রিলিফ ফান্ড থেকে বেশ কিছু খাদ্য সামগ্রী কিনে পাঠায়।
খাদ্যসামগ্রীর মাঝে ছিলো চাউল ১০ কেজি,ডাল ২ কেজি,তেল ১ লিটার,পেয়াজ ২ কেজি,এনকর দুধ ১ কেজি,অালু ৫ কেজি,অাটা ৫ কেজি,সাবান ২ টা এবং মাস্ক ৩ টা।ওনাদের সাথে ফোনে কথা বলেই খাদ্য সামগ্রীর লিষ্ট তৈরি করি।
উক্ত দম্পতির একটি কন্যা সন্তান অাছে।বর্তমানে দম্পতি দুইজন সিলেটের একটি এনজিওতে দীর্ঘদিন যাবৎ নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং পরিবারের সবাই সুস্হ্য অাছেন।যেহেতু পরিবারটি এইচঅাইভি পজেটিভ,তাই সমাজের অনেকেই পরিবারটি কাছ থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে চলে।বর্তমানে দেশের এই দুর্যোগময় সময়ে পরিবারটি অনেক সমস্যায় পড়ে গেছে।কারো কাছ থেকে তেমন কোনো সাহায্যও পাচ্ছে না।অায় রোজগারও তেমন কিছু নাই।নিরুপায় হয়ে ইমেইলে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করেন।অামি অামার সাধ্যমতো কিছুটা সহযোগীতা করি।তবে অামার কাছে মনে হচ্ছে এই সাহায্যটুকু যথেষ্ট না।
অাপনারা কেউ যদি পরিবারটিকে সাহায্য করতে চান,তাহলে অামাদে সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দেশের কিছু অসহায় মানুষদের জন্য এান সামগ্রী নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সমাজের অসংখ্য মানুষের অসহাত্ব চোখে পড়ছে।অাপনার বা অামার অাশে পাশেই অাছে এই সকল অসহায় পরিবারগুলো যারা মুখ ফুটে কারো কাছে কিছু চাইতেও পারছেনা।খুব বেশি দূরে যেতে হবে না।অাপনার বিল্ডিং এ পেয়ে যেতে পারেন এইরকম অসংখ্য অসহায় পরিবার।অাসুন,দেশের এই ক্রান্তিকালে সবাই মিলে অসহায় পরিবারগুলো পাশে এসে দাড়াই।
(এইচঅাইভি পজেটিভ ব্যক্তির ছবি,নাম এবং ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি।)
(পোস্ট লিংক- https://www.facebook.com/helphandsbd/posts/2591024134548472)
আরো পড়ুন: বোনাসের টাকায় অসহায় মায়েদের দোয়ারে দোয়ারে ব্যাংকার শামীম
(১০ মে “আমার ভাইটার দুধ নাই। দয়া করে দুধ দিলে খুব খুশি হতাম”। এই শিরোনামে তিনি একটি পোস্ট দেন)
পাঠকদের জন্য তা হুবহু তুলে ধরা হল:
এই শিরোনামে গত ৪ই মে তারিখে অামি একটিি পোষ্ট দিয়েছিলাম।অামার এই পোষ্ট পড়ে অামার কয়েকজন ফেসবুক বন্ধু ছোট বাচ্চাটির দুধের জন্য সাহায্যের হাত বাড়ান।
গত ৪ ই মে ইং তারিখে রাত ১.২৭ মিনিটে ১৩-১৪ বছরের একটি ছেলে তার ছোট ভাইয়ের জন্য দুধ চেয়ে ইমুতে ম্যাসেজ পাঠায়।সর্বপ্রথম ম্যাসেজ পাঠায় গত ২ তারিখ সন্ধ্যা ৭.৫৪ মিনিটে।
“অামরা গরীব।অামাদের খাবারের সমস্যা হচ্ছে।অামাদের সাহায্য করেন দয়া করে।”
৪ তারিখ রাত ১.২৭ মিনিটে ২য় ম্যাসেজটা পাবার পর সেই দিন সকালে অফিসে গিয়ে অামি ও অামার স্ত্রী মিলে শিশুটির দুধের জন্য ১০২০ টাকা বিকাশে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম।তবে ঐ সাহায্যটা অামার কাছে পর্যাপ্ত মনে হচ্ছিলো না।তাই পরিবারটির জন্য সাহায্য চেয়ে পোষ্ট দিয়েছিলাম।
গত কয়েকদিন যাবৎ শিশুটির বড় ভাইয়ের সাথে অামি কোনো ভাবেই যোগাযোগ করতে পারছিলাম না।অবশেষে গতকাল রাতে ইমুতে যোগাযোগ করার পর অামি অাজ দুপুরে গোপীবাগ রেলগেইটের পাশে বড় মসজিদের সামনে অাসতে বলি।সেই সাথে জানিয়ে দিয়েছিলাম ছেলেটি যেনো তার মায়ের কাছ থেকে ঘরের প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর একটা লিষ্ট সংগে করে নিয়ে অাসে।
গতকাল রাতের কথা অনুযায়ী অামি অাজ দুপুর ১ টায় চলে যাই গোপীবাগ বড় মসজিদের সামনে।যেতে যেতে ইমুতে দুইজন দুইজনের বর্তমান ছবি অাদান প্রদান করি যেনো চিনতে অসুবিদা না হয়।গোপীবাগে রিক্সা থেকে নামতেই চোখে পড়ে ইমুতে ছোট ভাইয়ের দুধের সাহায্য চাওয়া সেই ছেলেটি।১২-১৩ বছরের একটি ছেলে।মুখে মাস্ক।একটা গেন্জি পরে দাড়িয়ে অাছে।বুঝতে অসুবিদা হলো না যে ছেলেটি একটা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।রিক্সা থেকে নেমেই পরিচয় হলো।তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর লিষ্ট চাইলাম।হাতে লেখা একটা লিষ্ট সে অামার হাতে দিলো।তবে খুব সংকোচ বোধ করছিলো।হয়তো জীবনের এই প্রথম অজানা অচেনা কারো কাছ থেকে কিছু সাহায্য নিতে হচ্ছে।অামি ছেলেটার হাতে লেখা লিষ্টটা নিয়ে গোপীবাগের “রমজান ষ্টোর” এর একজন সেলস ম্যান এর হাতে দিলাম।তবে লিষ্টটা পড়ে অারো কর্নফার্ম হলাম পরিবারটি একটি মধ্যবিত্ত ভদ্র পরিবার কারন লিষ্টে কোনো অাইটেমেরই কোয়ান্টিটি উল্লেখ ছিলো না।শুধু অাইটেমগুলোর নাম লিখা ছিলো।খাদ্য তালিকার সামগ্রীর লিষ্টে অামি অারো কিছু এড করলাম।
হরলিকস ১ টা,চাউল ১ বস্তা (২০ কেজি),অালু ৩ কেজি,তেল ২ লিটার, ডাল ২ কেজি,বেসন ১ কেজি,পেয়াজ ২ কেজি,লবন ১ কেজি,মুড়ি অাধা কেজি,পেপসোডেন্ট টুথপেষ্ট ১ টা,লাক্স সাবান ২ টা।মোট ২৫২১ টাকার গ্রোসারী অাইটেম এবং ৭৫ টাকায় ৩ কেজি অালু কিনে দিলাম যেনো ১৫-২০ দিন অন্তত খাদ্য সামগ্রী নিয়ে কোনো প্রকার চিন্তা করতে না হয়।গ্রোসারী শপে অালু পাওয়া যাচ্ছিলো না।তাই পাশেই রেলগেইটের কাঁচা বাজার থেকে অালু কিনে গ্রোসারী অাইটেম সহ মোট ১১ টা অাইটেম একটা রিক্সাতে তোলে ছেলেটির হাতে ২০ টাকা দিয়ে দিলাম রিক্সা ভাড়া বাবদ।তারপর সে অামার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলো।অামিও রিক্সা নিয়ে গোপীবাগ থেকে মতিঝিলে চলে অাসলাম।
মধ্যবিত্ত এই পরিবারটির জন্য অামার হাতে অারো অল্প কিছু টাকা রইয়ে গেছে।সেই টাকাটা দিয়ে ঈদের অাগে ছোট একটা সাপোর্ট দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ।দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে মধ্যবিত্ত অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
অাজকের কাজটা অামার অনেক ভালো লেগেছে।অসহায় এই পরিবারটা অনেক খুশি হয়েছে।কখনো হয়তো ভাবেনি এই ভাবে কেউ এসে এতোগুলো খাবার দিয়ে যাবে।
কার রিজিক কোথায় লেখা অাছে,কেউ বলতে পারেনা।যা করার সব উপরওয়ালাই করছেন।অামরা উছিলা মাএ।সময়ের পরিবর্তনে আজকে হয়তো অসহায় এই পরিবারটি এাণ গ্রহীতা।একদিন আমিও হতে পারি এাণ গ্রহীতা।
( পোস্ট লিংক- https://www.facebook.com/helphandsbd/posts/2590201327964086 )
(১২ মে তিনি যে পোস্টটি দেন, সেটা হুবহু তুলে ধরা হল:
অাজ অফিস শেষে বাসায় ঢোকার অাগে অামার এলাকার দুইজন প্রতিবন্ধীর বাড়িতে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিতে গিয়ে অনেক কষ্ট হয়েছে।রোজা রেখে বেশ কিছুটা পথ পায়ে হেটে,কাঠের পুল পার হয়ে তাদের হাতে তোলো দিতে পেরেছি সামান্য খাদ্য সামগ্রী।দেখেছি তাদের মুখে তৃপ্তির হাসি।
যদিও পথটা সহজ নয়।তারপরেও অাছে অনেক শান্তি।
উনার ফেসবুক আইডি লিংক দেওয়া হল নিচে:
helphandsbd@gmail.com




