জাতীয়লিড নিউজ

গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলে কমবে চাল চুরি

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস দুর্যোগেও থেমে নেই সরকারি চাল চুরি ও কালোবাজারি। থেমে নেই মজুতদারি ও কালোবাজার কারবারির অপতৎপরতাও। ত্রাণের চাল মজুত করে বিক্রি করা হচ্ছে কালোবাজারে।

অনেক স্থানে দুস্থরা সরকারি চাল না পেয়ে করছে আহাজারি। সড়ক অবরোধ ও বিক্ষেভ মিছিলও হচ্ছে। দেশের এমন সংকটময় মুহূর্তে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল পাচ্ছেন না প্রকৃত হতদরিদ্ররা।

চাল চুরি ও কালোবাজারি করছেন অনেক অসাধু স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। চাল চুরি ও কালোবাজারি ঠেকাতে ১৯৭৪ সালে প্রণয়ন করা হয়েছে বিশেষ ক্ষমতা আইন। আইনে অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই মৃত্যুদণ্ড গুলি করে বাস্তবায়ন করারও বিধান রয়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও অনেকেই তোয়াক্কা করছে না চুরি ও কালোবাজারি করতে। কারণ হিসেবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই জানে না মজুতদারি অথবা কালোবাজারি ঠেকাতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

আবার অনেকে রাজনৈতিক পরিচয়ে জামিন নিয়ে মামলার কার্যক্রম ঝুলিয়ে দিচ্ছেন। আবার কোনো ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চাল চোরদের সাময়িক শাস্তি দেওয়া হলে মুক্তি পেয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। মজুতদারি অথবা কালোবাজারের কারবারের অপরাধে আইনের বাস্তবায়ন হলে এ ধরনের পুনরাবৃত্তি হতো না বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

রাজনৈতিক পরিচয় থাকায় মামলাগুলো এক সময় ঝুলে যায়

এ বিষয় জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার বলেন, প্রথমত এ ধরনের মামলায় দৃষ্টান্তমূলক কোনো সাজার নজির নেই। মামলা হয়, কিন্তু এক সময় তা মানুষ ভুলে যায়। রাজনৈতিক পরিচয় থাকায় মামলাগুলো এক সময় ঝুলে যায়। সরকার যদি এ ধরনের অপরাধের মামলার বিচার দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেন, দ্রুত সময়ে অপরাধীদের সাজার ব্যবস্থা করা হয়, তবে অপরাধ অনেকাংশে কমে আসতো। যত দিন না অপরাধীরা অপরাধ করেও বার বার পার পাওয়ার পথ বন্ধ না হবে, দুনিয়ার কোনো আইন দিয়েই অপরাধ ঠেকানো যাবে না।

আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, সরকারি চাল চুরি ও কালোবাজারিদের জন্য ১৯৭৪ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। আইনে অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই আইনে সাজা মৃত্যুদণ্ড গুলি করে কার্যকরের বিধানও রয়েছে।

এই আইন সম্পর্কে চাল চোররা অবগত নয়। কয়েকজন অপরাধীকে যদি গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো তাহলে চাল চুরি বা কালোবাজারি করতো না। এছাড়া রাজনৈতিক ছায়ায় অপরাধীরা জামিন নিয়ে নেন। তাই তারা পরে আবারও চুরি করতে সাহস পান।

আইনে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন থাকা সত্ত্বেও দেশে অনেক জাগায় দেখা গেছে চাল চুরি বা মজুত করার অপরাধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে লঘু দণ্ড দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফারুক আহম্মেদ বলেন, চাল চুরি এটা মারাত্মক অপরাধ। তাই বিশেষ ক্ষমতা আইনে বিচার করা উচিত। লঘুদণ্ডের কারণে আবার একই কাজ করছেন অপরাধীরা। সূত্র: জাগো নিউজ

Related Articles

Back to top button