লিড নিউজসারাদেশ

একই পরিবারের পাঁচজনের করোনা, খাবার নিয়ে গেলেন ইউএনও

টাঙ্গাইলের সখিপুরে একই পরিবারের পাঁচজনের শরীরে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটিকে প্রতিবেশীদের আচরণে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। অনেকে ইউএনওকে ফোন দিয়েও পরিবারটিকে শায়েস্তা করার কথাও বলছেন। আবার অনেকে ফেসবুকে পরিবারটিকে নিয়ে নানা রকমের বাজে মন্তব্য করছেন।

মানুষের এমন মন্তব্য শুনে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমাউল হুসনা লিজা। ওই পরিবারটির জন্য ফল মুলের ঝুড়ি সাজিয়ে আর ১৫ দিনের খাদ্য সামগ্রী নিয়ে সেখানে হাজির হন।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ফলের ঝুড়িতে “মানবতার দাওয়াই” মনে সাহস রাখবেন, আপনাদের পাশে আছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এমন একটি চিরকুট রেখে দেন।

জানা যায়, আক্রান্ত পরিবারের এক সদস্য ঢাকায় কাঁচামাল ব্যবসায়ী। সে ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে তার বাড়িতে আসায় পরবর্তীতে পরিবারের আরও চারজন সদস্য করোনায় সংক্রমিত হন। আক্রান্তের খবর ছড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই এলাকার ইউএনওকে ফোন দিতে থাকেন। বেশির ভাগ মানুষই পরিবারটিকে গ্রাম থেকে বের করে দেয়ারও অনুরোধ করেন। এক ব্যক্তি ফেসবুকে আক্রান্ত পাঁচজনকে পুড়িয়ে মারারও অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।

এসব শুনে ইউএনও গত শুক্রবার দুপরের দিকে তিনি ও এলাকায় যান। এলাকাবাসীর মানসিকতার পরিবর্তন ও রোগীর প্রতি মমত্ববোধ বাড়াতে বাড়ির সামনে একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেন। তাতে লেখা আছে, ‘করোনাভাইরাস অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে রোগ, কিন্তু মরণ-ব্যাধি নয়। সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব রক্ষা করে পরিবারকে সুস্থ হতে সহায়তা করুন। রোগীর প্রতি মানবিক আচরণ করুন।

আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়ি থেকে ফিরে এসে শুক্রবার রাতে ইউএনও নিজের ফেসবুকে একটি লেখা প্রকাশ করেন। তাতে তিনি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং ‘অতি সচেতনতার কারণে যারা মনুষ্যত্ব হারিয়েছেন’, তাঁদের প্রতি আহ্বান রেখে বলেন, ‘মানবিক হোন, [আক্রান্ত ব্যক্তি] বৈশ্বিক দুর্যোগের শিকার, অপরাধী নয়..!’ লেখাটি দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

ফেসবুকে লেখাটির নিচে শতাধিক ইতিবাচক মন্তব্য আসে। বেশির ভাগই এই উদ্যোগের জন্য ইউএনওকে ধন্যবাদ দেন।

শনিবার আবারও উপজেলা নির্বাহী আসমাউল হুসনা লিজা পরিবারটির জন্য নানা রকমের ফল আর ১৫ দিনের খাদ্য সামগ্রী নিয়ে পরিবারটিকে দিয়ে আসেন। এবং পরিবারটির মনোবল বাড়াতে উপজেলা নির্বাহী তাদের পাশে থাকবেন বলে সাহস দেন।

Related Articles

Back to top button