শিল্প ও সাহিত্য

শূন্য একটি মানিব্যাগ!

হাবিবুর রহমান সাদী: সে অনেক দিন আগের কথা। ভদ্রলোক গাড়ীতে করে গন্তব্যস্থলে যাচ্ছিলেন, লম্বা এই যাত্রাসময়ে বেচারা মুটোফোনে গৃহকর্ত্রীর সাথে রসালো রসালো আলাপন দিয়েই যাত্রাসময়গুলো কাটিয়ে নিচ্ছিলেন। সময়ের মুল্য দিতে মহাশয় বরাবরই সচেতন লোকদের কাতারে সুতরাং গাড়ীর সাথে পুরো পৃথিবী দৌঁড়াচ্ছে এরকম নিরামিষ গতিপথ না দেখে অর্ধাঙ্গিনীর মধুর বুলি শুনেই যাত্রাপথ গমণ করা অধিকতর মুল্যবান বলিয়াই বিবেচনা করিলেন।

যদিও আশেপাশের যাত্রীদের ভালো লাগা বা খারাপ লাগার ব্যাপারে মহোদয় ছিলেন একেবারেই উদাসীন। অবিবাহিত যাত্রীদেরতো বিষয়টি একদম সুঁড়সুড়িতে গিয়ে ঠেকেছিল। কি আর আর করা গণপরিবহন,অনেক কিছুই এখানে মুখ বুঝে হজম করে নিতে হয়।

উনার লম্বা আলাপন থামানোটা অনেকটা নিজেরা তো বিয়ে করেই নি বরং আরেকজনের বরযাত্রা ঠেকানোর মতোই লাগছে বিষয়টা দেখে অনেকেই চুপ রইলো।

বিপত্তিটা ঘটলো ভাড়া মেটানোর বেলায় এসে। ভদ্রলোক মহানন্দে মানিব্যাগটি বের করে তুলে ধরলেন চক্ষু দু’টোর সামনে। একদম শতবর্ষের জৌলুসহীন প্রাণহীন জড়পদার্থের মতো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে কঠিন অবস্থা ধারণ করলেন বেচারা। চোখ দুটো হিরোসিমা নাগাসিকার রুপ ধারণ করে বিস্ফোরণ হওয়ার অপেক্ষায়!

কন্ডাকটরের প্রবল ঝাঁকুনিতে মহাশয় সম্ভিত ফিরে পেলেন,বলিলেন রহিয়াছে মানিব্যাগ উদাও হইয়া পয়সাগুলো।

লোকে বলাবলি করিতে লাগলো কি যুগ আসিলো বাপু, এমন সিদ্ধহস্ত চোর মানিব্যাগ জায়গায় রেখে টাকাগুলো লাপাত্তা করে দিলো।

কঠিন এই মুহুর্তে জনাবের মুটোফোনটি বেজে উটলো ক্রিং ক্রিং ক্রিং করে, ওপাশ থেকে একেকটি তীর বিদ্ধ হলো লোকটির বুকের বা পাশে…

ওগো শুনছো,হ্যাঁ বলো…
রাত্রি নিশিতে নিয়েছিলুম টাকা সবগুলোই পার্টসে রেখে দিয়েছিনু,দেয়া হয়নি প্রভাতবেলা শুধু তোমার ভাড়া…

স্বামী বেচারা কাঁদো কাঁদো সুরে বলিলেন ভাই কন্ডাক্টর শুনো দিয়া মন।শূন্য আমি,শোকাহত আমি দেবার কিছু নাই,পড়ে আছে শূন্য একটি মানিব্যাগ দিলাম আমি তাই।

Related Articles

Back to top button