অন্যান্যআন্তর্জাতিক

মধ্যরাতে হোটেল থেকে ৪ এমপি উদ্ধার

নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহারাষ্ট্রের সরকার গঠন নিয়ে চলছে একের পর এক নাটক। এরই মধ্যে শনিবার মধ্যরাতে জন্ম হলো আরেক ঘটনার। সেখানকার একটি পাঁচ তারকা হোটেল থেকে এনসিপির চার বিধায়ককে (এমপি) উদ্ধার করেছে দলীয় নেতাকর্মীরা।

সোমবার দেশটির আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিধায়ক নরহরি ঝিরওয়াল, দৌলত দারোদা, অনিল পাতিল ও নিতিন পাওয়ারকে মহারাষ্ট্রে গুরুগ্রামে একটি পাঁচতারা হোটেলে আটকে রাখা হয়েছিল। ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতাকর্মীরাই তাদের আটকে রেখেছিল বলে অভিযোগ করেছে এনপিসি। পরে দলের কর্মীরা খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করতে গেলে বিজেপি কর্মী এবং পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয়।

উদ্ধার হওয়ার পর মুম্বাইয়ে ফিরে দুলাল দারোদা ও অনিল পাতিল বলেন, ‌‘সবাই ভাবছিলেন আমরা পালিয়ে গেছি। কিন্তু আমরা এখনো এনসিপিতে আছি। আমরা কোথাও যাইনি। আমরা শরদ পওয়ারের সঙ্গেই আছি।’

অভিযানের বর্ণনা দিয়ে উদ্ধারকারীরা জানান, স্থানীয় সূত্রে তারা বিধায়কদের আটকে রাখার কথা জানতে পারেন। ওই হোটেলে রাত দেড়টার দিকে অভিযান চালান। হোটেলের ৫ হাজার ১১৭ নম্বর রুমে ছিলেন বিধায়করা। কিন্তু এক বিজেপি নেতার মুখোমুখি হয়ে যাওয়ায় তিনি চিনে ফেলেন। তিনি পুলিশকে বলেন, দুদলের কর্মীদের বাইরে বের করে দিতে। এর পরেই শুরু হয় ধস্তাধস্তি।

ধীরাজ বলেন, ‘চার বিধায়ক আমাদের বলেছেন, তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হোটেলে আটকে রাখা হয়েছিল। তারা পালানোর ছক কষছিলেন। শরদ পওয়ার বিজেপিকে সমর্থন করছেন এবং পওয়ারের নির্দেশেই তাদের হোটেলে থাকতে বলা হয়েছে বলে ভুল বোঝানো হয়েছিল। কিন্তু তারা সংবাদমাধ্যমে সত্যিটা জানার পর দলের সঙ্গে যোগ দিতে চেয়েছিলেন।’

উদ্ধারের পর রাত ২টার দিকে গুরুগ্রাম থেকে মুম্বাইয়ে উড়িয়ে আনা হয় তিন বিধায়ককে। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিন বিধায়ক মুম্বাই পৌঁছান এবং যে হোটেলে এনসিপি বিধায়করা রয়েছেন, সেই রেনেসাঁ হোটেলে তাদের সঙ্গে যোগ দেন। পরে আলাদা বিমানে মুম্বাই আসেন নরহরি ঝিরওয়াল।

এনসিপির অভিযোগ, শনিবার কয়েকজন বিদ্রোহী বিধায়ককে একটি বিশেষ বিমানে দিল্লি উড়িয়ে নিয়ে যায় বিজেপি। যাত্রীদের তালিকা থেকেও সেটা স্পষ্ট হয়েছে।

হোটেলে অভিযানের কথা জানিয়ে শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত বলেন, ‘বিজেপির ষড়যন্ত্র নিয়ে এই বিধায়করা যা জানিয়েছেন, তা দূর্ভাগ্যজনক। ’

তিনি আরও বলেন, ‘এটাই প্রমাণ করে, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর পদের জন্য ওরা (বিজেপি) কতটা নিচে নামতে পারে। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে শুভ লক্ষণ নয়।

Related Articles

Back to top button