উল্লেখযোগ্যলিড নিউজসিলেট

প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক ঈসাক আলীর স্বপ্ন পুরন করে দিলেন কাজী মিয়া

মীম মিফতাহ: আমেরিকার মেশিগান ষ্টেইটের সাবেক কাউন্সিলর ছাতকের গণিপুর গ্রামের কৃতি সন্তান কাজী মকসুদ মিয়া, একজন সহজ সরল পুরোপকারী গরীবের বন্ধু, এমন মানুষ আমার জীবনে খুব কম দেখেছি, তার সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল নাটকীয়ভাবে, দেশে থাকাকালীন সময়ে আমার দোকানে এসেছিলেন একটা কাজে, দেখে বিশ্বাসই হচ্ছিলনা তিনি যে এত বড় মাপের মানুষ।

এরকম মানুষ দেশে আসলে ভিআইপি সুবিধা দেওয়া হয় কিন্তু তিনি এসব গ্রহন করেননা একদম সহজ সরল জীবন যাপন করেন।

কাজের ফাঁকে কিছুক্ষন বিদ্যুৎ ছিলনা এই সময় আমার দোকানের পাশে বশে বড়কাপন গ্রামের প্রতিবন্ধী ঈসাক আলী ভিক্ষা করেছিলেন, তার কাছে গিয়ে বসলেন, তার খুঁজ খবর নিলেন।

তার সাথে গল্পে মেতে উঠলেন, তাকে জিজ্ঞেস করলেন চাচা আপনার দিনকাল কেমন যাচ্ছে তিনি বললেন এইতো বাবা ভিক্ষা করে কোনমতে জীবন চলছে, ভাঙ্গা ঘরে পানি পরে, বিশুদ্ধ পানির জন্য মারত্মক সমস্যায় আছি, পানির জন্য অনেক কষ্ট করতে হয়।

তখন তিনি বললেন আপনাকে যদি একটা টিউবওয়েল দিয়ে দেই তাহলে হবে? এই কথা শুনে ঈসাক আলীর চুখে মুখে আনন্দের ঢেউ খেলতে লাগল কিছুদিনের মধ্যে তার টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করে দিলেন। তিনি খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলেন।

এরপর কাজী ভাই দেখলেন তার ঘরের অবস্থা মারত্মক খারাপ, ভাবতে লাগলেন তাকে একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দিলে কেমন হয়।

যেমন ভাবনা তেমন কাজ একদিন তাকে বললেন চাচা আমি তোমাকে একটা বিল্ডিং বানিয়ে দিতে চাই।
একথা শুনে ঈসাক আলী আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলেন,এই জীবনে এমন স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে তিনি কল্পনা ও করেননি।
তিনি তার জন্য চমৎকার একটা বিল্ডিং বানিয়ে দিলেন। আলহামদুলিল্লাহ…..

কথাগুলো শুনলে মনে হবে হয়ত কাজী মিয়ার কাছে টাকার গাছ আছে অথবা তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক, আসলে বিষয়টা তেমন না। সবচেয়ে বড় কথা হল সাগরের মত বিশাল মনের অধিকারী একজন মানুষ তিনি, গরীবের প্রতি তার অশেষ ভালবাসা রয়েছে, গরীবের সামান্য উপকার করার জন্য যদি কারও কাছে হাত পাততে হয় তবুও তিনি দ্বিধা করেননা, ঈসাক আলীকে ঘর বানিয়ে দেবার জন্য যখন চিন্তায় মশগুল ছিলেন এমন সময় কাজী ভাইয়ের স্ত্রী মানে আমাদের ভাবি মজা করে বলেছিলেন মানুষের জন্য ঘর বানিয়ে দেবার চিন্তা করতেছো অথচ নিজে এখনও ভাড়া বাসায় থাকো, নিজের জন্য কিছু একটা করো, তখন কাজী ভাই বললেন, শুন তুমি কষ্টে থেকে যদি দেখো কোন গরীবের মুখে তোমার কারনেই হাসি ফুটেছে তখন কেমন লাগবে? শুনে ভাবি বললেন আসলেই অনেক ভাল লাগবে, নিজের কষ্টের কথা নিমেষেই ভুলে যাব। এই ভাল কাজের প্রতিদান আমরা আল্লাহর কাছেই পাব, এবং আমাদের সন্তানদের জীবন চলার পথে এই অসহায় মানুষগুলোর দোয়া সবসময় কাজে লাগবে তাইনা। তারপর তারা দুজনেই ভাবতে লাগলেন কিভাবে ঈসাক আলীকে সুন্দর একটা ঘর বানিয়ে দেওয়া যায়।

আল্লাহর ওপর ভরসা করে ঘর বানানোর কাজ হাত দিয়ে দিলেন। এই কাজ করতে গিয়ে বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজন সবার কাছ থেকে স্বতস্ফুর্ত সহযোগিতা পেয়েছেন তন্মধ্যে উনার চাচাতো ভাই মাসুদ উদ্দিন, জুমান আহমদ, কাজী আল আমিন, শাহ জামাল, আনোয়ার হোসেন, ছদরুল আমিন, কাজী নুরুল আমিন, আবু সুফিয়ান, হাফিজ মিছবাহ, এবং শিলু স্যার অন্যতম।

তাদের কাছে তার স্বপ্নের কথা বললে তারা সবাই তাকে অনেক সাহস যুগিয়েছেন এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।
তাদেরকে স্পেশাল ধন্যাবাদ★

আমি অবাক হয়ে যায় গরীব অসহায় মানুষের প্রতি এই মানুষটার এত টান এবং ভালাবাসা দেখে, কিছু কিছু মানুষের রক্তের মধ্যে মানুষকে ভালবাসার অদম্য নেশা কাজ করে, সেই নেশা পেয়ে বসেছে কাজী ভাইকে, এই নেশার স্রোত বয়ে গেছে তার সন্তানদের ওপর, তারাও বাবার মত মানুষের জন্য কিভাবে কাজ করবে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে কাজী ভাইয়ের কাছে। কাজী ভাই আর ভাবি তাদের মাষ্টার প্লান শুনে আবেগে আপ্লুত হয়ে যান। তাদের চুখ থেকে আনন্দের অশ্রু বইতে থাকে।

ছোট মেয়ে কাজী আরিয়ানা বয়স ১৩ তার সামনে রয়েছে বাংলাদেশে স্কুল করার প্রজেক্ট, ইতিমধ্যে একটা সম্পন্ন হয়ে গেছে, ছোট ছেলে জিসান বয়স ১১, সে চিন্তায় আছে দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার কিভাবে উন্নতি সাধন করা যায়, তার প্রথম প্রজেক্ট হল দেশে এসে একটা ব্রিজ বানিয়ে দেওয়া। সব ছোট মেয়ে উমাইয়া বয়স এখন ৮ বছর এখনও মন্ত্রনালয় নিয়ে বসার সময় হয়নি তবে শুধু হাসে, জানিনা সে কোন মন্ত্রনালয় নিয়ে বসে হাহহা

মনে হচ্ছে একেক জন একেক ডিপার্টমেন্টের একেকটি মন্ত্রনালয় নিয়ে বসে আছে, একজন শিক্ষামন্ত্রী, আরেকজন যোগাযোগমন্ত্রী তবে নামে নয়, কাজে খুব এক্টিভ।

এসব বলার কারন হল আপনি যদি ভাল কাজ করেন তাহলে এর প্রভাব আপনার সন্তানের ওপর পড়বেই পড়বে, সমাজের বিত্তবান যারা আছেন আমরা কি কাজী মিয়ার পরিবারের মত গরীব অসহায় মানুষের পাশে দাড়াতে পারিনা?

দুই দিনের দুনিয়া, আজ মরলে কাল মাটির নিচে চলে যেতে হবে একটা পয়শা ও নিয়ে যেতে পারবেননা! বেঁচে থাকতে অন্তত একটি অসহায় পরিবারের মুখে আনন্দের হাসি দেখে যান, জীবন স্বার্থক হয়ে যাবে। মরনের পরেও চিরন্তন সুখ খুঁজে পাবেন।

আল্লাহ কাজী ভাইকে ও তার পরিবারের সবাইকে যারা জীবিত আছেন তাদেরকে নেক হায়াত দান করুন এবং যারা মৃত হয়ে গেছেন তাদেরকে জাযায়ে খায়র দান করুন, এবং আমাদেরকে অনুরুপ নেক কাজ করার তাওফিক দান করুন আমিন।

নিজে ভাল কাজের নিয়ত করুন, অপরকে ভাল কাজ করতে উৎসাহিত করার নিয়তে শেয়ার করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি ও এর বিনিময় পাবেন। আল্লাহ কবুল করুন আমিন।

Related Articles

Back to top button