এ চিত্র যেন প্রতিদিনের!


এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, কুষ্টিয়া থেকে: কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বর্হিরবিভারের ডাক্তার দেখাতে টিকিট সংগ্রহের জন্য জরুরী বিভাগের কাছেই একটি টিকিট সরবরাহের রুম থাকলেও সেখানে শিশুদের টিকিট না দিয়ে শুধু মহিলাদের টিকিট দেয়ার নিয়ম চালু করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ । অপর দিকে শিশুদের টিকিট দেয়া হচ্ছে বাহিরের খোলা আকাশের নিচে। যেখানে হাসপাতালের ছোট্র একটি টেন সেটের ঘরে পুরুষ ও শিশু রোগীদের টিকিট দেয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগী নিয়ে প্রতিনয়ত চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের। এছাড়া টিকিট সংগ্রহ করতে প্রচন্ড রৌদ্রের মধ্যে শিশু নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় অসুস্থ শিশুরা আরো কাহিল হয়ে পরছে। এ চিত্র যেন প্রতিদিনের।
গত রোববার বর্হিরবিভাগে ডাক্তার দেখানোর জন্য টিকিট সংগ্রহ করতে গিয়ে দীর্ঘসময় রৌদ্রের মধ্যে অপেক্ষা করতে যেয়ে ২ শিশু মারাত্মক অসুস্থ হয়ে বমি করতে থাকে। পরে টিকিট সংগ্রহ না করে ২ শিশুর মায়েরা হাসপাতালের বাহিরে এসে অসহায়ের মত কান্না করতে থাকে।
দুপুর ১২ টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে দেখা যায় জরুরী বিভাগের সাথেই বর্হিরবিভাগের টিকিট দেয়ার জন্য একটি রুম থাকলেও সেখানে তেমন একটি রোগী দেখা যায়নি। অপরদিকে বাহিরে শিশু ও পুরুষদের জন্য ছোট্র আরেকটি টিকিট ঘরের সামনে খোলা আকাশের নিচে শত শত রোগী টিকিট নেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে।
টিকিট ঘরের পাশে এক শিশুকে কোলে কান্নারত অবস্থায় দেখে তার সাথে কথা বলে জানাগেল,৫ মাস বয়সের আসিফ ঠান্ডায় আক্রান্ত হলে সকালেই তাকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন মা আশা খাতুন। কিন্তু টিকিট ঘর দেরিতে খোলায় টিকিট দেয়ার আগেই সেখানে ভীড় বেধে যায় রোগীদের। পরে অনেক চেষ্টা করেও টিকিট না পাওয়ায় প্রচন্ড রৌদ্রের মধ্যে অপেক্ষায় থাকতে থাকতে শিশু বমি করতে থাকে। এক পর্যায়ের পাতলা পায়খানা শুরু করে শিশুটি।
একই অবস্থার শিকার হয় কালিশংকরপুরের সোহেলের ১৫ দিনেত শিশু কেয়ার। শিলাইদহ থেকে ৪ বছরের মেয়ে সোনিয়াকে নিয়ে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করে পরে টিকিট না পেয়ে ফিরে যান মা মেরী খাতুন। দুপুর পৌনে ১ টার দিকে মেরীর মত শত শত মায়েরা তাদের শিশুকে নিয়ে প্রচন্ড রৌদ্রের মধ্যে তখনো অপেক্ষা করছিল টিকিটের জন্য। শেষ পর্যন্ত কজন তাদের শিশুকে দেখাতে পেরেছে কে জানে!
এব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবদায়কের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি খোলনা একটি মিটিং আছেন বলে জানান। এবং এ বিষয়ে হাসপাতালের আর এম ও এর সাথে কথা বলতে বলেন। পরে আর এম ও ডা: তাপস কুমার সরকারকে বিষয় টি জানালে তিনি বলেন, হাসপাতালের হৈহট্রগোল কমাতেই এ ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে। রোগীর এ দূর্ভোগ নিরসনে ১ মাসের মধ্যে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং তবে লোকবল সংককের কারনে রোগীর দূর্ভোগ বাড়ছে বলেও জানান তিনি।




