

সিলেটমিডিয়াডেস্ক ::আগামীকাল বৃহস্পতিবার উপ নির্বাচনে এখন কেবলই প্রত্যাশার প্রহর। শেষ মূহুর্তের প্রচার প্রচারণার সঙ্গে সঙ্গে ভোটের হিসাব পাল্টে যাচ্ছে প্রতি মূহুর্তে। পৌরসভার উপ-নির্বাচনে নতুন ৪ হাজার ভোটার সংযুক্ত হয়েছেন।
এবারের উপ-নির্বাচনে মূল নিয়ামক হবেন নতুন ভোটররা। নতুন ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা ব্যপক। প্রথম ভোটার হিসেবে তারা বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে সরব প্রচারনায় ব্যস্থ।
প্রধান দুই দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একজনসহ মোট তিনজন প্রার্থী উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। পৌর নির্বাচনের ঠিক পূর্ব মূহুর্তে আলোচনার টেবিলে রয়েছেন দুই প্রধান দলের দুই প্রার্থী।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রয়াত মেয়র এর ছোট ভাই নাদের বখত এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনিত প্রার্থী হাসন রাজার পুত্র ধানের শীষ নিয়ে দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরী সুমন। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের আনুপাতিক হার কমে আসছে ।
শক্তিশালী প্রার্থী প্রয়াত মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুল এই পৌরসভার দুবারের নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। তিনি এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক এবং সেবামূলক কাজে ব্যক্তিগতভাবে ব্যাপক অবদান রেখে গেছেন।
সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে তার সুনাম রয়েছে এলাকায়। তার মৃত্যুতে ভাইয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার জন্য নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন তাঁর ভাই নাদেরর বখ্ত। এদিকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে মাঠে নেমেছেন হাসন রাজার বংশধর। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন চার বারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান জাকেরীনের ভাই দেওয়ান গনিউল সালাদীন। তিনিও হাসন রাজার বংশধর।
জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি ঘোষণা হওয়ায় এই মূহুর্তে তা দলের জন্য সুখবর। জাতীয় নির্বাচনের আগে দলীয় ফোরামে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য পুরো জেলা কমিটিই ঐক্যবদ্ধ ভাবে নৌকার জয়ে জোড়ালো ভুমিকা পালন নিয়েছেন দলীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে।
প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিবেচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সুনামগঞ্জ পৌরসভার উপনির্বাচনকে তাদের প্রেষ্টিজ ইস্যু হিসেবে নিয়েছেন। তারাও পৌরবাসীর কাছে তাদের গ্রহণ যোগ্যতা বাড়ানোর জন্যই এই নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ ভাবে মাঠে রয়েছেন। তাদের হিসেবে ৮/১০ হাজার ভোট সুনামগঞ্জ পৌরশহরে তাদের ভোট ব্যাংক হিসেবে বিবেচিত।
পৌরসভার ২৩ কেন্দ্রের মধ্যে বেশি ভোটারের কেন্দ্র গুলো হচ্ছে মহিলা কলেজ রোড ও নতুনপাড়া পূর্ব মিলিয়ে সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র, এই কেন্দ্রে ভোট ২৯৮৬, মল্লিকপুর ও হাজীপাড়া পশ্চিম মিলিয়ে মল্লিকপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, এখানে ভোট ২৯৪৭।
এরপর বেশি ভোটারের কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কেজাউড়া, নতুন হাছননগর ও সুলতানপুর নিয়ে আব্দুল আহাদ-সাহিদা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, এখানে ভোটার ২৮৬১। ইকবালনগর ও ওয়েজখালী এলাকা নিয়ে ওয়েজখালী হোসেন বখত ফরিদা বখত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সংলগ্ন মাদ্রাসা কেন্দ্র, এখানে ভোটার ২৭১০। ষোলঘর উত্তর, ষোলঘর কলোনী রোড মিলে ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, এই কেন্দ্রে ভোটার ২৫২৮। কালীবাড়ি সড়ক, জামাইপাড়া, নতুনপাড়া পশ্চিম ও হাজীপাড়া এলাকা নিয়ে বুলচান্দ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, এই কেন্দ্রে ভোটার ২৪৮৩। তেঘরিয়া পূর্ব ও আরপিননগর দক্ষিণ মিলে ভোট ২০৭৪।
তেঘরিয়া পশ্চিম এলাকার বড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট ২০২৬। বড়পাড়া আব্দুর রহমান পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট ২১১০। মোহাম্মদপুর ও আলীপাড়াসহ ব্লু-স্কাই একাডেমী, এই কেন্দ্রে ২০১৫ ভোট। নবীনগর ও মাইজবাড়ী এলাকা নিয়ে নবীনগর হাজী আবিদ উল্লাহ্ পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, এই কেন্দ্রে ভোটার ১৮৫০। হাছননগর ও হাছননগর দক্ষিণ এলাকা নিয়ে হাছননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, এখানে ভোটার ৯২০।
ষোলঘর কলোনী এলাকা ও ষোলঘর দক্ষিণ এলাকা নিয়ে জেলা মৎস্য অফিস কেন্দ্র (মহিলা ভোট কেন্দ্র), এখানে ১০৮১ ভোট। ষোলঘর কলোনী এলাকা ও ষোলঘর দক্ষিণ এলাকা নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড’এর রেস্ট হাউজ (পুরুষ কেন্দ্র), এই কেন্দ্রে ভোট ৯৯১। আপ্তাবনগর ও পাঠানবাড়ী এলাকা নিয়ে হযরত খাদিজাতুল কোবরা ইসলামিয়া বালিকা মাদ্রাসা কেন্দ্র, এখানে ভোটার ১৩৫২। মধ্যবাজার, মোক্তারপাড়া, রায়পাড়া ও সোমপাড়া নিয়ে জাতীয় মহিলা সমিতি মোক্তারপাড়া কেন্দ্র, এই কেন্দ্রে ১৬২২ ভোট। উকিলপাড়া উত্তর, উকিলপাড়া দক্ষিণ, জেইল রোড ও পূর্ব বাজার নিয়ে সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, এই কেন্দ্রে ভোটার ১৪২১।
হাছননগর উত্তর এলাকা নিয়ে এইচএমপি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, এই কেন্দ্রে ভোটার ১৬৩৯। দক্ষিণ আরপিন নগর ও মধ্য আরপিননগর মিলে দক্ষিণ আরপিন নগর কেবি মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, এখানে ভোট ১৩৯৫। উত্তর আরপিননগর ও পশ্চিম বাজার নিয়ে উত্তর আরপিন নগর পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, এই কেন্দ্রে ভোটার ১৮৬১। জামতলা প্রাইমারী ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ভোট ৭১৪, কালিপুর, গনিপুর, হাছনবসত নিয়ে কালিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, এই কেন্দ্রে ভোট ১৪০১। জলিলপুর ও পিরোজপুর নিয়ে জলিলপুর পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, এই কেন্দ্রে ভোটার ১৩৩৫।
হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী পৌর এলাকায় এবার ভোটার রয়েছেন ৪২ হাজার ৩২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২১ হাজার ১৪৯, নারী ২১ হাজার ১৭৩ জন।
বিএনপির প্রার্থী সাজাউর রাজা বলেন, দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছি। বিএনপির ভোটার এবং কর্মী-সমর্থকরা ধানের শীষ প্রতীকে ঐক্যবদ্ধ আছেন।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী নাদেরর বখ্ত বলেন, আমার ভাই ছিল এই পৌরসভার মেয়র। হঠ্যাৎ উনার মৃত্যু হওয়ায় বিদেশ থেকে দেশে চলে আসি। আর ভাইয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার জন্যই দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। নির্বাচনে জয়ী হলে ভাইয়ের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করে সুন্দর ও মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলব সুনামগঞ্জকে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান গণিউল সালাদীন বলেন, গত নির্বাচনেও আমি অংশগ্রহন করেছি। ভোটাররা আমাকে খুব ভালবাসে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমিই নির্বাচিত হবো।
জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ মতিউর রহমান বলেন, এই উপনির্বাচনে আমাদের যে প্রার্থী সে নতুন। সুনামগঞ্জের সমস্যা সমাধানের জন্য আইয়ূব বখত জগলুল কাজ শুরু করেছিলেন। তার অকাল মৃত্যুতে উন্নয়ন কাজ সমাপ্তির জন্য নাদের বখত এর নৌকার জয় অবশ্যম্ভাবি।
পৌরবাসীরাই বলছে নাদের বখ্ত সাধারণ মানুষের কাছের মানুষ। মানুষের যে কোনো বিপদে আপদে পাশে ছিলেন। আমাদের দলীয় উন্নয়নকে স্বীকৃতি দিতে গিয়ে জনগণের পছন্দের প্রার্থী নাদের বখতকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন। আমরা প্রশাসনিক কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করিনি।
আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষের পাশে আছে, আমরা সবাই মিলে আমাদের দলীয় সভানেত্রীর নৌকা প্রতীক দিয়েছেন নাদের বখতকে। এই নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করার জন্য আমাদের প্রত্যেকটি কর্মী আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। আমাদের দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশ আমরা সুস্থ্য নির্বাচন করতে চাই। জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বাংলাদেশ জুড়ে উন্নয়নের প্রভাব পড়েছে একারণে আমাদের বিশ্বাস জনগণ আমাদেরকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন,সুুনামগঞ্জ পৌরসভার উপ-নির্বাচন এমন এক সময় যখন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অন্যায় ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে রেখেছেন বর্তমান সরকার। আমরা এই উপনির্বাচনকে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন হিসেবে নিয়েছি।
ধানের শীষের প্রাথী একজন গণমূখী চরিত্রের মানুষ। নিরপক্ষ নির্বাচন হলে আমাদের বিজয় নিশ্চিত। জেলা বিএনপি ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী ২৯ তারিখ ভোটের মাধ্যমে ধানের শীষের প্রাথীকে বিজয়ী করার লক্ষে সকলস্থলের নেতাকর্মীরা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কাজ করে যাচ্ছে। ইনশাআল্লাহ আগামী ২৯ তারিখ উপনির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় হবে।
তবে পৌরবাসী চান অবাধ, সুষ্ঠ ও গ্রহনযোগ্য একটি পৌরনির্বাচন। যার মাধ্যমে আগামী পৌরসভার পথচলা সুন্দর ও মশৃণ হবে এবং জনসম্পৃক্ত পৌরপিতার প্রত্যাশায় পৌরবাসী।
সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা উত্তম রায় জানান- ‘নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সব কিছুই করা হবে।’
এই বিষয়ে পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খান জানান, নির্বাচনে ৫ স্তরের নিরপত্তা জোরদার করা হবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটার জন্য বিশেষ ভাবে নজর দেয়া হবে। কোনো রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সুষ্টু ভাবে নির্বাচন অনুষ্টিত হবে।




