লিড নিউজ

ইসলামের দৃষ্টিতে মাতৃভাষা

আবদুল বাছেত (মিলন): মানুষ জম্মলগ্ন হতে মায়ের কোলে থেকে যে ভাষার সাথে পরিচিত হয় যে ভাষা দিয়ে স্বীয় সুখ,দুঃখ প্রকাশ করে সেটাই মাতৃভাষা। সকল ভাষাই আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার সৃষ্টি। সমস্ত ভাষাই সমান মর্যাদার অধিকারী। মাতৃভাষা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পৃথিবীর সকল মানুষের মৌলিক সম্পদ। ইসলাম মানব জাতির জন্য সর্বকালের সর্ব যুগের একমাত্র জীবন বিধান। এই বিধান প্রচারে ও প্রসারের জন্য আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা অসংখ্য নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন।

 

তারা সবাই মাতৃভাষাই স্বজাতির সাথে কথা বলেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারিমে বলেন – আমি কেনো নবিই এমন পাঠাইনি, যে তাঁর জাতির (মাতৃ) ভাষায় ( আমার বাণী তাদের কাছে পৌঁছায়নি), যাতে করে সে তাদের কাছে ( আমার আয়াত) স্পষ্ট করে দিতে পারে; অতঃপর আল্লাহ যাকে চান তাকে গোমরাহ করেন, আবার যাকে চান তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন তিনি মহাপরক্রমশালী ও মহাকুশলী।

 

” ( সুরা ইবরাহিম, ১৪: ০৪) তিনি জাতির সামনে সুস্পষ্ঠ করে সকল বিধানাবলি পেশ করতে পারেন। নবি রাসূলের মাধ্যমে প্রেরিত আসমানি কিতাব ও স্ব-জাতীয় ভাষায় নাযিল হয়েছে। আসমানি কিতাবের মাধ্যে প্রধান চারটি কিতাব যথাক্রমে আরবি, সুরিয়ানি, হিব্রæ ও ইবরানি ভাষায় অবতীর্ণ করা হয়েছে।সুরা ইউসুফের ২নং আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেন- “আমি আরবি ভাষায় কুরআন নাযিল করেছি যাতে তোমরা তা বুঝতে পারো।

 

” ইসলাম প্রচার প্রসারে এবং স্বীয় প্রয়োজনে অন্যান্য ভাষা আয়ত্ব করা জরুরী। সাহাবায় কেরামগণ ও করেছেন। দুনিয়ার প্রয়োজনে যে কোনো ভাষাই আয়াত্ব করা যেতে পারে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভাষা আন্দোলন ও শহিদ দিবসের গুরুত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রয়েছে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাজনের পূর্ব থেকে তমুদ্দুন মজলিসের নেতৃত্বে গঠন মূলক আন্দোলন চলতে থাকে। কিন্তু পাকিস্থান সরকার অমানবিক এবং অযৌক্তিক ভাবে তা প্রত্যাখান করে। ১৯৪৮ সালে ১১ মার্চ সাধারণ ধর্মঘট থেকে আন্দোলন বিভিন্ন ধারায় মোড় নেয়।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রæয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্থানে সর্বাতœক হরতাল,জনসভা ও বিক্ষোভের আয়োজন করলে সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে। ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে রফিক, বরকত, সালাম, জব্বার সহ অনেকে শহিদ হন এবং অসংখ্য আহত হন। পরিশেষে রাষ্ট্রভাষা বাংলা স্বীকৃতিসহ এ দিবসটি আন্তজার্তিক মর্যাদা লাভ করে। রাসুল (সাঃ) বলেন- “যে ব্যক্তি নিজের অধিকার রক্ষায় নিহত হয় সে শহীদ।” স্বীয় ভাষার মর্যাদা রক্ষায় প্রাণ দিয়েছেন তারা শহিদ। তাই শহিদদের কতৃজ্ঞতা আদায় এবং তাদের জন্য দোয়া করা অত্যন্ত জরুরী ও প্রয়োজন। বিশ্বে বাংলাদেশের মানুষেই একমাত্র জাতি যারা নিজেদের ভাষার মর্যাদার রক্ষার জন্য প্রাণ দিয়েছে।

 

তাই ২১ শে ফেব্রæয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে। সকল ভাষার স্রষ্ঠা মহান আল্লাহ তায়ালা। তিনি মানব জাতিকে কথা বলা শিখিয়েছেন। এ অধিকার কারো কেড়ে নেওয়ার অধিকার নেই। বাংলাদেশে বর্তমানে আদর্শ ও নেতৃত্বের সংকট চলছে। তা দূর করার জন্য কুরআন এবং সুন্নাহর দিকে আমাদের ফিরে যেতে হবে।

 

মাতৃভাষা বাংলা ভাষা আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার সেরা দান। ভাষার মর্যাদা রক্ষায় এদেশের ছাত্র জনতা রক্ত ঝরালেও মাতৃভাষা দিবস আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করলেও আমাদের স্বকীয়তা রক্ষা এবং বাংলাকে শিক্ষার প্রধান মাধ্যম বানিয়ে এর সার্বজনীনতা সৃষ্ঠিতে আমরা যথেষ্ঠ তৎপরতা দেখতে পারিনি।

 

ভাষা আন্দলনের ছোট রুপটা স্বাধীনতা আন্দোলনে রুপ নেয়। যা পেয়েছি তা রক্ষা করতে হবে। অন্যদের মাঝে নিজেদের অস্তিত্ব বিলীন করা যাবে না। আমাদের সভ্যতা সংস্কৃতি লালনে চলছে মুক্তবুদ্ধি চর্চার নামে অশ্লীলতা যৌন উম্মাদনা, তাই কলম সৈনিকদেরকে প্রকৃত জীবন সাহিত্য রচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। মাতৃভাষাকে সর্বজনীন করার জন্য সরকারকে উদ্যেগ নিতে হবে। শিক্ষার প্রধান মাধ্যম বানাতে হবে বাংলাকে। ইসলামকে বাস্তব ভিত্তিক উপস্থাপনের জন্য সুলেখক ও ইসলামি চিন্তাবিদদের এগিয়ে আসতে হবে।

লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিষ্ট।

Related Articles

Back to top button