লিড নিউজ

মোগল স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ

এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, কুষ্টিয়া : কথিত আছে, মাত্র একটি রাতের মধ্যেই অলৌকিকভাবে নির্মিত হয় মসজিদটি। আবার কেউ কেউ বলেন, মোগল সম্রাট আরওঙ্গজেবের আমলে নির্মাণ করা হয় এটি। তবে বাংলাপিডিয়ার সূত্রমতে “পরিকল্পনা, নির্মাণশৈলী ও অলঙ্করণের কিছু কিছু বৈশিষ্ট্যের আলোকে এ মসজিদের সঙ্গে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট দুর্গের মসজিদ (১৭৪০-৪১ খ্রি.) এবং নোয়াখালীর বজরা মসজিদের (১৭৪১-৪২ খ্রি.) ঘনিষ্ঠ সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

এই মিলের কথা স্মরণে রেখে অনুমান করা যায় যে, মসজিদটি সম্ভবত আঠারো শতকের মাঝামাঝি কোনো এক সময়ে নির্মিত হয়েছিল।”
বলছিলাম কুষ্টিয়ার ঝাউদিয়া শাহী মসজিদের কথা। কুষ্টিয়া শহর থেকে প্রায় ২০ কি.মি দূরে ঝাউদিয়া গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদটি দেখতে প্রতিদিনই সমাগম ঘটে দর্শনার্থীদের। জনশ্রুতি আছে, বহুবছর আগে এক রাতের মধ্যেই মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে মসজিদটি।

‘মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসার গালগল্প’ ছড়ানোর কারণে এলাকার কৌতূহলী লোকজন দলবেঁধে তা দেখতে আসেন। অবশ্য অনেকে সচেতন মানুষও আসেন পুরনো মসজিদটির স্থাপত্যকলা দেখতে।

অনেকের দাবি মসজিদটি মোগল আমলেরও অনেক আগের। কারো কারো দাবি, প্রায় এক হাজার বছর আগে শাহ সুফী আদারি ইরাক থেকে এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচার করতে এসে এটি নির্মাণ করেন। তবে কুষ্টিয়া জেলা তথ্য-বাতায়নের সূত্রমতে, শাহ সূফী আহমদ আলী ওরফে আদারী মিয়া ছিলেন মোগল সম্রাট শাহজাহানের আমলে ঝাউদিয়ার জমিদার। তৎকালীন সময়ে তিনিই নির্মাণ করেন এই ঐতিহাসিক মসজিদটি, যা মোগল শিল্পকলার এক অপূর্ব নিদর্শন।
তবে মসজিদটি নির্মাণ সম্পর্কে এর ইমাম মোকাররম হোসেন বলেন, সঠিক ইতিহাস জানা না গেলেও এর প্রবেশদ্বারে লেখা রয়েছে, “এটির বড় পরিচয় মানুষের তৈরি এবং এটা প্রতিষ্ঠিত হয় মোগল সম্রাট আরওঙ্গজেবের শাসনামলে”।

এদিকে মসজিদটিতে প্রার্থনার জন্য নিকটবর্তী এলাকাসহ দূর-দূরান্তের বিভিন্ন মানুষও ছুটে আসেন মসজিদটি নির্মাণকারী জনৈক সুফী সাধকের অনুকম্পা ও সহানুভূতি অর্জনের উদ্দেশ্যে। ‘বিশেষ করে শুক্রবার এই মসজিদে দর্শনার্থী এবং প্রার্থনাকারীর সংখ্যা অত্যধিক থাকে’ বলেও জানান মসজিদটির ইমাম।

ঝাউদিয়ায় অবস্থিত এই মসজিদটি মোগল স্থাপত্যরীতির অন্যতম নিদর্শন। এ সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর হক জানান, এর দেয়ালে লাল ইট আর চুনা পাথরের মিশ্রণের কাজে দিল্লির লাল ইটের স্থাপত্যরীতির প্রভাব রয়েছে। এর দেয়ালগুলোতে রয়েছে ইটের বিন্যাস, পোড়ামাটির ফলকের কাজ। ছাদের গম্বুজ ও খিলানে এক সময় ছিল সোনালি প্রলেপের কাজ। তবে বর্তমানে তা আর চোখে পড়ে না।

Related Articles

Back to top button