জামালগঞ্জে ছাত্রের বিরুদ্ধে শিক্ষকের মামলা!


জামালগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে জেএসসি পরীক্ষা চলাকালে বন্ধুদের সাথে কথা বলার অপরাধে কর্তব্যরত শিক্ষক সীতেশ চন্দ্র সরকার শাকিব আহম্মদ রিয়াত নামে এক পরীক্ষার্থীর খাতা আটক করে পুলিশে দেয়া ও বোর্ডে তার খাতা (উত্তরপরত্র) যাবেনা বলে হুমকির ঘটনায় ছাত্র কর্তৃক শিক্ষক লাঞ্চিত হলে ওই ছাত্রকে আসামী করে শিক্ষক মামলা করেছেন।
জানা যায়, জেএসসির পরীক্ষার শেষ দিনে হলে বন্ধুদের সাথে কথা বলার অপরাধে পরীক্ষার্থীর খাতা অনেকক্ষণ আটক রাখার পর হলে কর্তব্যরত শিক্ষক ছাত্রকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়াসহ, তার উত্তর পত্র (পরীক্ষার খাতা) বোর্ডে যাবেনা বলে হুমকি দেয়। এরই রেশ ধরে মঙ্গলবার বিকেলে জামালগঞ্জের নতুন পাড়াস্থ ছাত্রের বাসার সামনে তর্কে জড়িয়ে পড়ে ছাত্র-শিক্ষক।
তর্কের এক পর্যায়ে ছাত্র-শিক্ষকের ধস্তা ধস্তির পর খেলার ব্যাট দিয়ে ওই শিক্ষককে অঘাত করে ছাত্র। পরে শিক্ষক স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। এই ঘটনার খবর পেয়ে ছাত্রের পিতা হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষকের কাছে নিজের সন্তানের অপরাধে ব্যাথিত হয়ে সহানুভুতি প্রকাশ করে চুড়ান্ত বিচারের জন্য শিক্ষককে আশ্বাস ও সান্তনা দেন।
হাসপাতালে শিক্ষক ভর্তির পর স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তি বর্গ এই ঘটনার নিষ্পক্তির জন্য বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির কাছে অনুরুধ করেন। নানা নাটকীয়তার পর এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গকে পাশ কাটিয়ে ছাত্রকে আসামী করে বুধবার সন্ধ্যায় শিক্ষক সীতেস চন্দ্র সরকার বাদী জামালগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে থানায় পুত্রের নামে মামলা হয়েছে এমন খরব পেয়ে ওই পরীক্ষার্থরী বাবা শাহ মো: শাহজাহান মিয়া তার ছেলে শাকিব আহম্মদ রিয়াত কে বুধবার রাতে নিজই থানায় হাজির করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
আহত শিক্ষক সীতেশ চন্দ্র সরকার বলেন, আমি পরীক্ষার হলে তাকে কারো সাথে কথা বলতে বারণ করে ছিলাম, ছাত্রের উত্তরপত্র নেইনি ভয়ও দেখাইনি।
এলাকাবাসী বলছে ছাত্রের পিতা যে কথা বলেছেন, এতে ওই শিক্ষকের মামলা করা উচিত হয়নি। এব্যাপারে জামালগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর তদন্ত মিজানুর রহমান জানান আসামী কে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।




