কানাইঘাটে পাহাড় ধসে ছয় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি ও মামলা দায়ের


কানাইঘাট প্রতিনিধি: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া পাথরকোয়ারিতে পাহাড় ধসে ছয় শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় দুই তদন্ত কমিটি গঠন ও ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৭ নভেম্বর) বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সৈয়দ আমিনুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ, আরডিসি কাজি আরিফুর রহমান। কমিটিকে আগামি ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিলেট জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ পরিচালক দেবজিৎ সিংহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনার জন্য আসলে দায়ী কারা। এই বিষয়টি সুস্পষ্ট করতে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।
এদিকে সিলেট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল হাসনাতকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- এডিশনাল এসপি নুরুল আফসার ও আমিনুল ইসলাম। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া নিহত ৬ শিক্ষার্থীর পরিবারকে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা করে এবং উদ্ধার হওয়া আহত কিশোরকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এবং মঙ্গলবার রাতে এসআই রাজিব বাদি হয়ে দন্ড বিধি ৩০৪ ধারায় ৮জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মঙ্গলবার (০৭ নভেম্বর) কানাইঘাট উপজেলার পূর্বলক্ষ্মীপ্রসাদ ইউনিয়নের লোভাছড়া পাথর কোয়ারির বাংলাটিলা এলাকায় পাথর উত্তোলনে গিয়ে টিলা ধসে ৬ শিক্ষার্থী নিখোঁজ হন। পর্যায়ক্রমে দিনভর উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিক্ষার্থীরা হলো- নাহিদ (১২), শাকিল (১৩), মায়রু (১৩), জাকির (১২), কাদির (১৪) ও সুন্দর আলী। নাহিদ ও শাকিল তারা দুই সহোদর। তাদের বাবার নাম আলমাছ উদ্দিন। মায়রু ও জাকির সম্পর্কে চাচাতো ভাই। মায়রুর বাবার নাম মোছাব্বির আলী ও জাকিরের বাবার নাম ইউনূস আলী। তাদের বাড়ি উপজেলার পূর্ব লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউনিয়নের কান্দলা কোনাপাড়া গ্রামে। তারা কান্দলা মাদ্রাসায় পড়ালেখা করতো।
স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম বলেন, তারা সবাই কান্দলা মাদ্রাসার ছাত্র। মাদ্রাসার ওয়াজ মাহফিলের জন্য টাকা সংগ্রহ করতে কয়েক ছাত্র মিলে পরিত্যক্ত লোভাছড়ার বাংলাটিলা নামক টিলার পাদদেশে পাথর কুড়াতে যায়। তারা সে পাথর বিক্রি করে টাকা সংগ্রহ করতে চেয়েছিলো।
পাথর কুড়ানোর সময় পাহাড় ধসে মাটি চাপায় ছয় জনই নিহত হয়। আহত অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করা হয়। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সুন্দর আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) আবদুল আহাদ।




