লিড নিউজ

বানিয়াচংয়ে নানা কৌশলে শিক্ষকদের রমরমা কোচিং বাণিজ্য অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিনিধি :   সারাদেশে শিক্ষকদের কোচিং ব্যবসা বন্ধে শাস্তির বিধানসহ নীতিমালা প্রণয়নের পরও তা বন্ধ করা যাচ্ছেনা। এক শ্রেণীর শিক্ষকরা নানা কৌশলে তাদের এই ব্যবসা অব্যাহত রেখেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বানিয়াচং উপজেলা সদরে জমজমাট হয়ে উঠেছে কোচিং বাণিজ্য। আনাচে কানাচে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে কোচিং সেন্টার।

বাহারি রংয়ের ব্যানার,পোস্টার দিয়ে প্রচারের পাশাপাশি শ্রেণীকক্ষেও শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করছেন শিক্ষকরা। এ উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষকেরাই সরকারের প্রদত্ত নিয়ম ভঙ্গ করে যাচ্ছেন পদে পদে। বিভিন্ন কোচিং সেন্টার দিয়ে এবং আকর্ষণীয় সুযোগ-সুবিধা ও ভাল ফলাফলের নিশ্চয়তা দিয়ে ছাত্রছাত্রী সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অনেক শিক্ষকই স্কুলে পড়ানোর পাশাপাশি সকাল ও বিকাল বেলায় তাদের বাড়িতে বা আলাদা কোন বাড়ি ভাড়া নিয়ে এমনকি স্কুলে ছাত্রছাত্রী পড়িয়ে কোচিং বাণিজ্য করে যাচ্ছেন। কোচিংয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে বিশেষ করে গণিত,ইংরেজী ও বিজ্ঞান বিষয়গুলোর ক্লাস নেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে বিভিন্ন ভাবে তদবির করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরকারি কোন নীতিমালা ছাড়াই চলছে এসব কোচিং সেন্টারগুলো। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোচিং সেন্টারগুলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দেওয়ার চেয়ে অর্থ উপার্জনকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। ফলে এসব কোচিং সেন্টারগুলো শিক্ষা সহযোগী না হয়ে পুরোপুরি বাণিজ্যিক প্রতিষ্টানে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও তা যেন দেখেও না দেখার ভান করছে।

সরেজমিনে সদরের প্রায় সবকটি হাইস্কুলে গিয়ে দেখা যায়,ওই বিদ্যালয়ের বেশকজন সিনিয়র শিক্ষক এমনকি খন্ডকালীন শিক্ষক-শিক্ষিকারা ক্লাস আরম্ভ হওয়ার আগে সকাল থেকেই কোচিং করাচ্ছেন। পাশাপাশি রাস্তার পাশে দোকান বা বাড়ি ভাড়া নিয়ে দিব্যি পড়াচ্ছেন শিক্ষকেরা। আবার কোন স্কুলের শিক্ষক না হয়েও শুধু অভিজ্ঞতার কারণে অনেকেই কোচিং ব্যবসায় নেমে পড়েছেন।

পরীক্ষায় অধিক নাম্বার বা পাশ করানোর আশা দেয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুল শিক্ষকদের কাছে কোচিং করতে বাধ্য হচ্ছে বলে জানা গেছে। শিক্ষকরা মাসের মধ্যে দশ দিন পড়িয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪শত টাকা করে জনপ্রতি আদায় করে নিচ্ছেন বলে এক ছাত্র জানায়। কোন কোন শিক্ষকের প্রতিমাসে আয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অভিভাবক জানান,কোচিং বা প্রাইভেট এর কারণে ছাত্রছাত্রীদের বাড়িতে লেখাপড়ার কোন সময়ই পায়না। সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রাইভেটে,তারপর স্কুল। আবার বিকাল বেলা সেই প্রাইভেট। আসতে আসতে প্রায় সন্ধ্যা হয়। তখন তারা আর পড়তে বসেনা। এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাওছার শোকরানার সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইলটি বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

Related Articles

Back to top button