লিড নিউজ

যে কারণে কারাগারে থাকা জাকিরকে নিচ্ছে না পরিবার

নিউজ ডেস্ক : প্রায় চার বছর আগে পাগল আইনে আটক করা হয়েছিল জাকিরকে। তবে তিন বছর ধরে তিনি অনেকটা সুস্থ। কিন্তু শেষ হচ্ছে না তার হাজতবাস। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের চিকিৎসকের মতে, জাকির এখন অনেকটা স্বাভাবিক। স্বজনদের সঙ্গে থাকলে খুব দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। জাকিরও ফিরতে চান বাড়িতে। কিন্তু কেউ তাকে নিচ্ছেন না। উল্টো আপন দু’ভাই প্রচার করছেন জাকির মারা গেছেন বলে!

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কারাগারে জাকিরের অবস্থানের বিষয়টি দু’ভাইসহ স্বজনদের জানা। কিন্তু খোঁজ নেয়নি কেউই। জাকিরের গ্রামের বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর গ্রামে। পুলিশ বলছে, স্বজনরা আবেদন করলেই নিয়ে যেতে পারবেন তাকে।

সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৬ এ থাকা নথিপত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৪ আগস্ট ভোরে সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতের ডাউকিতে প্রবেশ করেন জাকির হোসেন (৩৯)। সেখানে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় ডাউকি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। সেই দিনই বেলা আড়াইটায় তাকে তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পুশব্যাক করে। ২৫ আগস্ট গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ তাকে মানসিক প্রতিবন্ধী উল্লেখ করে নিরাপদ হেফাজতে প্রেরণের জন্য আদালতে আবেদন করে। আদালত ১৯১২ সালের পাগল আইনের ১৫ এবং ১৬ ধারা অনুযায়ী তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়ে জাকিরকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেলসুপার জানান, কারাগারে আসার পর আদালতের নির্দেশে তার চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনে জাকির হোসেনকে সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাকে কারাগারের পক্ষ থেকে ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। চিকিৎসা শেষে ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর আবারও সিলেট কারাগারে নিয়ে আসা হয়।

কারাগারের চিকিৎসক ডা. মিজানুর রহমান জানান, জাকির দীর্ঘদিন ধরেই অনেকটা সুস্থ। নিজের খেয়াল রাখেন। সময়মতো গোসল এবং খাবার খান। কথা বলতে পারেন স্বাভাবিক ভাবে।

কারাগারে সঙ্গে কথা বলেন জাকির, নিজের পরিচয় দেন ঠিকমতোই। তার কাছে জানা যায়, তিনি বিবাহিত। তার একটি ছেলেও আছে। চার বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে দেখা হয় না। এতে খুব কষ্ট হয় তার। এখান থেকে বের হয়ে কী করবেন তিনি- এমন প্রশ্নে জাকির বলেন, তাদের বাড়িতে দোকান আছে সেটা তিনি চালাতে পারবেন। কথা হয় জাকিরের গ্রামের বাড়ির সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার। তিনি জানান, এই সময়ের মধ্যে জাকিরের বাবা-মা দু’জনই মারা গেছেন। দুই ভাই আছে বাড়িতে। কিন্তু তারা গ্রামের মানুষকে বলেছে জাকির মারা গেছে।

তিনি বলেন, আসলে জাকির ফিরে এলে বাবার সম্পত্তিতে ভাগ বসাবে- এই চিন্তা করেই হয়তো তার ভাইয়েরা তার খোঁজ নিচ্ছে না।

সিলেট জেলার কোর্ট পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম মুকুল জানান, যেহেতু জাকিরের ওপর কোনো অভিযোগ নেই সে কারণে পাগল আইন অনুযায়ী তার কোনো নিকটাত্মীয় আদালতে আবেদন করলেই তাকে নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ আদালতে কোনো আবেদন করেননি।

Related Articles

Back to top button