বানিয়াচংয়ে হিজড়াদের উৎপাতে অতিষ্ঠ্য ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ


রায়হান উদ্দিন সুমন: সমাজে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি,সহযোগিতা ও সহায়তার ওপর নির্ভর করেই হিজড়া সম্প্রদায়ের জীবন। কিন্তু তাদের প্রতি এমন মানবিক আচরণের প্রতিদানে সাধারণ মানুষকে পেতে হচ্ছে নানা অত্যাচার আর হয়রানি। একটা সময় ছিল হিজড়ারা শুধু নাচ গান করে টাকা পয়সা আদায় করতো। এরপর নবজাতক,বিয়ে,গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে গিয়ে টাকা আদায় করার মতো উপায়ে আয়ে করে জীবন চালাতো।
সম্প্রতি তাদের আচরণ এবং টাকা আদায়ের ধরণ বদলে গেছে। রাস্তাঘাটে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে দোকানিদের উপর হামলে পরা,বাসাবাড়িতে নবজাতকের আগমনের খবরে দলবলে হাজির হয়ে পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়,যৌন হয়রানি,নির্জন পথেঘাটে কাউকে জিম্মি করে অবাঞ্চিত দৃশ্যের অবতারণা করে সর্বস্ব লুপাট এমন শত অভিযোগের তীর এখন হিজড়াদের বিরুদ্ধে।
এরই ধারাবাহিকতায় বানিয়াচংয়েও হিজড়াদের উৎপাত বেড়ে গেছে। একপ্রকার অসহায় হয়ে পড়েছে বানিয়াচংবাসী। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও এদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা। ফলে পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে অফিস-আদালত,হাট-বাজারে এদের আনাগোনা বেড়ে গিয়েছে। সমাজে নানা অপরাধের সাথেও জড়িয়ে পড়ছে হিজড়ারা। চাঁদাবাজি,মাদক ব্যবসা,পতিতাবৃত্তি ও তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে মারামারিসহ এহেন কোন কর্মকান্ড নেই যে তারা করছে না। এদের অত্যাচার দিনদিন বেড়ে চলেছে। বানিয়াচংয়ের বড়বাজার,নতুনবাজার,আদর্শবাজার,উপজেলা রোড,খাবারের হোটেল, বিভিন্ন গাড়ির স্টেশনসহ রাতের আঁধার নামলেই সেজেগুজে পতিতাবৃত্তিতে নেমে পড়ে হিজড়ারা। বিশেষ করে রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী নিরীহ পথচারিরা রেহাই পাচ্ছেনা এদের হাত থেকে।
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে গত কয়েকদিন ধরে বাজারগুলোতে লক্ষ্য করা গেছে হিজড়াদের পদচারণা। বুধবার স্থানীয় পার্শ্ববর্তী একটি বাজার থেকে ছয় থেকে সাত জন হিজড়া জড়ো হয়ে নতুন বাজারে আসে টাকা উঠাতে। সেখানে এসে একপ্রকার জোর জবরদস্তি করে বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তোলা শুরু করে । পরে ব্যবাসায়ীরা তাদের আচরণে অতিষ্ঠ্য হয়ে একতাবদ্ধভাবে তাদেরকে ধাওয়া দেয়। একপর্যায়ে ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় হিজড়ার দল।
ব্যবসায়ী শাহজাহান মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন-হিজড়াদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ্য। ঠিকমতো ব্যবসাপাতি করা যাচ্ছেনা এদের কারণে। এদের পুনর্বাসন আশু জরুরি হয়ে পড়েছে ।
এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন-হিজড়াদের বিরুদ্ধে প্রায়ই এ রকম শুনি। কিন্তু কেউ আজ পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




