গোলাপগঞ্জে প্রাথমিকে প্রশ্নপত্র সংকটঃ বিপাকে শিক্ষার্থীরা


কে এম সুহেল আহমদঃ গোলাপগঞ্জ উপজেলায় প্রাথমিকে প্রশ্নপত্র সংকটে বিপাকে পড়েছিল শিক্ষার্থীরা।
বিশেষ করে উপজেলার বুধবারীবাজার ইউপি’র সবক’টি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এ সংকট দেখা দেয়।
সরেজমিন ইউনিয়নের প্রায় বেশক’টি বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শুরু হয় ২৩ এপ্রিল(রবিবার) থেকে প্রথম দিন ইংরেজী পরীক্ষা ছিল। এ দিন প্রশ্নপত্রের কোন সংকট দেখা দেয়নাই।
কিন্তু পরের দিন ২৪ এপ্রিল(সোমবার) দেখা দেয় প্রশ্নপত্র সংকট।ঐ দিন ছিল সবার বাংলা পরীক্ষা। পরীক্ষা আরম্ভ হবে সকাল ১০ ঘটিকায়,তার ঠিক আগ মূহূর্তে চতুর্থ শ্রেণীর বাংলা প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীদের হাতে দেওয়ার জন্য প্রশ্নপত্রের প্যাকেটটি খুলতেই এর ভিতরে প্রশ্নপত্র না দেখে হতবাক হয়ে যান শিক্ষকরা।
তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করেন তারা। প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার প্রশ্নপত্র পাঠানোর জন্য তাদের আশ্বস্থ করেন।
অবশেষে প্রায় দেড় থেকে দুই ঘন্টা পর শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত বিষয়টির পরীক্ষা শুরু হয়।
কিন্তু সময় মত পরীক্ষা না হয়ে প্রায় দু’ঘন্টা যাবৎ পিছিয়ে পড়াতে পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের পূর্ব প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটায় অনেকে সুষ্ঠভাবে পরীক্ষা দিতে পারেনাই। শুধু তাই নয়, বেশি সংখ্যক পরীক্ষার্থী তাদের প্রশ্নপত্রের পূর্ণ মার্কের উত্তরপত্র সম্পন্ন করতে পারেনাই বলে জানা গেছে।
এ নিয়ে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সদস্য ও অভিভাবকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের অন্ত নেই।
তেমনি হাজীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুল মুকিত এ ব্যাপারে তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন শিক্ষার্থীরা সময় মত প্রশ্নপত্র হাতে না পাওয়ার ভুল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বড় একটি ব্যার্থতা।
এ ব্যার্থতায় দু’ঘন্টা সময় পিছিয়ে পরীক্ষা দেওয়াতে পরীক্ষার্থীদের বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ও অন্যগুলোতে ও বেশি সময় ব্যবধানে পিছিয়ে পরীক্ষা দিয়েছে বলে জানান তিনি।
ঠিক একই ধরনের অভিযোগ করেন, কালিজুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সহ সভাপতি চুনু মিয়া, বি কে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ আলাল উদ্দীন, আভিভাবক কালিডহর গ্রামের মোঃ লাবলু মিয়া ও আব্দুল গফুর, চন্দরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ হেলাল উদ্দীন, বানিগাজী গ্রামের ডাঃ আব্দুল মতলিব ও ৮নং ওয়ার্ড সদস্য চন্দরপুর’র ছয়েফ উদ্দীন দুলু সহ সকলের একই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভূল না হওয়ার জোর দাবী জানান।
বুধবারীবাজার ইউপি’র চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মস্তাব উদ্দীন কামাল বলেন, এই প্রথম মারাত্মক একটি ভূলের আত্মপ্রকাশ ঘটালো উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন।
এ ধরনের ভূল আশা করিনি তাদের কাছ থেকে।এই ভূলের খেসারত হিসেবে কোমলমতি শিশুদের পরীক্ষার পূর্ব প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটায় তাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এ ব্যাপারে জানতে গিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার চিন্তাহরণ দাস বলেন, বিদ্যালয়গুলো সকাল ৯ টার দিকে খোলার কথা কিন্তু শিক্ষকরা খোলেছেন ১০ টায়।
যদি তারা নির্ধারিত সময়ে আগে বিদ্যালয় খোলে প্রশ্নপত্র সংকটের কথা অবগত করাতো তাহলে এত সময়ের ব্যবধানে পরীক্ষা হতোনা বরং আরো আগেই পরীক্ষা হয়ে যেত।তবে যখনই আমরা খবর পেয়েছি সাথে সাথে প্রশ্নপত্র কেন্দ্রের মধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছি বলে তিনি উল্লেখ করেন।




