কওমি শিক্ষাসনদের স্বীকৃতিতে বিরোধ ও আপত্তি কেন?


শামসীর হারুনুর রশীদ :
এক.
ধর্মদ্রুহিরা প্রকৃত রাষ্ট্রদ্রোহি । প্রতারক এই চক্রটির কাজ হল জ্ঞান ও বুদ্ধিভিত্তিক । দেশটা যখন-ই এগোতে চায়, তখন কৌশলে তারা সরকার ও বিরোধী দলকে প্রতারিত করে সংঘাত-সংঘর্ষ বাধিয়ে কয়েক বিঘত পিছনে নিয়ে যাওয়া-ই তাদের একমাত্র কাজ । এক সাগর পবিত্র রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধকে নষ্টদের অর্জন বলে প্রচার করে রাষ্ট্র ও ধর্মে সংঘাত সৃষ্টি করতে পারলেই লালগুটি তাদের ঘরে যাবে! মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র চেতনাকে অপবিত্র করে তাদের সমগ্র অশ্লীলতা-পাপাচার-দুর্নীতিকে বৈধতার গেরান্টি লাভ করানোতে কেল্লা ফতেহ! এহচ্ছে তাদের চিন্তা-চেতনা ও মৌলিক কর্মকৌশল! একথাগুলোর পেছনে কয়েক হাজার প্রমাণ আছে আমার জুড়িতে। আসমানের নিচে আর জমিনের উপরে পৃথিবীর যেকোন জাগায় দাঁড়িয়ে এপ্রমাণগুলো উপস্থাপন করতে সক্ষম ইনশাআল্লাহ। আওয়ামীলিগ-বিএনপি দুটো সংগঠনকেই বলছি! দেশের স্বার্থে যত তাড়াতাড়ি ধর্ম ও রাষ্ট্রদ্রোহি এচক্রটির শয়তানি উপলব্ধি করে আলোচনায় বসবেন, তত আগেই দেশটা সর্বনাশা থেকে উন্নয়নের দিকে লাফিয়ে লাফিয়ে অগ্রসর হবে । আপনারা তো বলেন দেশের স্বার্থে রাজনীতি করেন, তাহলে দেশের যেকোন সংকট সমাধানে আলোচনায় বসতে পারেন না কেন? সমস্যা কোথায়? মূলত এই ধর্মদ্রুহিরাই সরকার ও বিরোধী দলকে এক টেবিলে আলোচনায় বসতে দেয় না? দুই.
ভারত উপমহাদেশে মূলধারার প্রাচীন শিক্ষা ব্যবস্থা কোনটি এবং তার প্রকৃতি ও পদ্ধতি কেমন ছিল? এপ্রশ্নগুলোর উত্তর যাদের জানা নেই, মূলত তারাই অবস্থান নিয়েছে কওমি শিক্ষাসনদের স্বীকৃতির বিরুদ্ধে। আদাজল খেয়ে মাঠে নামা এশয়তানদের যেন আপত্তির শেষ নেই? এরা আবার দুই গ্রুপ । প্রথমত বাম ও রামপন্থী । দ্বিতীয় ডানপন্থী । আজ শুধু প্রথম গ্রুপের আলোচনা । তাদের বিরোধিতার কারণ হল- এরা এদেশের নৈতিক নাগরিক নয়। ভিনদেশি মনস্তাত্ত্বিক গোলাম এরা মূলত রাষ্ট্রদ্রোহি। গাদ্দার। জ্ঞানপাপী। প্রতারক। এরা আমাদের খেয়ে ভিনদেশি প্রভুদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে । এই জঙ্গিরা দেশকে অস্থিতিশীল করে রেখেই তাদের প্রভূদের মোড়লি-মাতুব্বরির সুযোগ করে দেয় । অতি কৌশলে সরকার ও বিরোধী দলে সংঘাত সংঘর্ষ লাগিয়ে কায়মি স্বার্থ উদ্ধার করে । কথিত মিডিয়ার সৃষ্টি এক শ্রেণির সংস্কৃতিকর্মী-নাঠ্যকর্মী- বুদ্ধিজীবী-দেহজীবী নামক ঈতরগুলো সুযোগ বুঝেই কচ্ছপের মতো জিব বাহির করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চিল্লাচিল্লি করে, ধর্ম-কর্মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এক সাগর পবিত্র রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ, আমাদের এই বাংলাদেশ।
তিন.
হাজারো ঝড়-তুফান অতিক্রম করে এউপমহাদেশে কয়েক শতাব্দি থেকে ঠিক আছে মূল ধারার এ মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা। 1801 ইংরেজিতে উইলিয়ামকেরি কর্তৃক কলকাতার ‘ফোর্ট উইলিয়াম’ কলেজ প্রতিষ্ঠার পূর্বাপর মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে এবং উন্নতি-অগ্রগতির পথে যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল তা আজও বহাল আছে। রাষ্ট্র ও ধর্মদ্রুহি কয়েকটা দাজ্জালের কাছে আওয়ামীলিগ-বিএনপি বারবার প্রতারিত হয়ে আসছে! এই দেখেন মূলধারার এ শিক্ষাব্যবস্থাটিকে খেয়ে না খেয়ে পেটে পাথর বেধে দেশপ্রেমিক আলেমরা ঠিকিয়ে রেখেছেন । শুধু একটু মর্যাদা ও মূল্যায়ন বাড়াতে বর্তমান সরকার এশিক্ষাব্যবস্থায় গড়ে উঠা শিক্ষিতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ঘোষণা দেওয়ায় একচ্ছপগুলোর এমন গাত্রদাহ শুরু হয়েছে, যেন কোন প্রকার মলমে আর কাজ করছেনা? ধর্ম-দেশ-ভাষা-মাতৃভূমির রক্ষায় যারা প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, ইসলামি পরিভাষায় প্রকৃত ও রূপক অর্থে তাদের শহিদ বলা হয়। এসব শহিদের স্নরণে আমাদের এই বাংলাদেশের নানা জাগায় স্থাপিত হয়েছে ‘শহিদ মিনার’। মুসলিমদের এই পবিত্র জাগায় দাড়িয়ে “সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট” নামক ক’টা বখাটে-দাজ্জাল মুসলিম ও ইসলামি শিক্ষা-সংস্কৃতি ও দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে অদৃশ্য কোন শক্তির ইশারায়? এই রাষ্ট্রদ্রোহিদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে । এই অশৃঙ্খল জঙ্গিদের লাগাম এখনই টেনে ধরতে হবে । দেশের এই শত্রুদের শেকড় তড়িৎ উপড়ে ফেলতে হবে । যেদেশের দালাল সেদেশেই ওদের দাফনের ব্যবস্থা করা দরকার ।
(চলবে)




