বাগবাড়ি থেকে অপহৃত শিশুকে যেভাবে উদ্ধার করলো পুলিশ


নিউজ ডেস্ক: সিলেট মহানগরীর বাগবাড়ি কানিশাইল রোড এলাকা থেকে অপহৃত হয় পাঁচ বছরের শিশু নিয়ামতুল ইসলাম রিফাত। গত শুক্রবার সকালে অপহৃত হওয়া রিফাতকে আজ রোববার দুপুরে লালমনিরহাট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণের বিষয়টি জানার পর ২৪ ঘন্টার মধ্যে শিশু রিফাতকে উদ্ধারে সফলতা দেখিয়েছে পুলিশ।
এই উদ্ধার তৎপরতার মূলে ছিলেন সিলেট নগরীর কোতোয়ালী থানার এসি সাদেক কাউসার দস্তগীর। তার তৎপরতায় অপহৃত রিফাতকে উদ্ধার এবং অহপরণকারীরা সনাক্ত হয়েছে।
এসি সাদেক কাউসার দস্তগীর জানান, এই অপহরণচক্রের মূলহোতা হচ্ছেন স্বাধীন মিয়া (২৭)। তিনি লালমনিরহাট সদর থানার খুনিয়াগাছের হাজীপাড়া গ্রামের মো. হযরত মিয়া ও সাহের বানুর ছেলে। তার সাথে সহযোগী হিসেবে ছিলেন সোহাগ ও ম-ল নামের আরো দুজন।
তিনি আরো জানান, কানিশাইল রোডের ১০ নম্বর বাসার বাসিন্দা পিডিবির প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার নেছার আহমেদের ছেলে নিয়ামতুল ইসলাম রিফাত। অপহরণকারীরা নেছার আহমেদের পরিচিত, তার সাথে কাজ করতো।
রিফাতকে উদ্ধারের পর সিলেট কোতোয়ালী থানায় তার মা স্বপ্না বেগমের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের।
স্বপ্না বেগম বলেন, ‘‘গত শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে নাশতা খেয়ে রিফাত আমাকে বলে, ‘মা, আমি খেলে আসি’। আশপাশের বাসার বাচ্চাদের সাথে ও খেলছিল। সকাল ৯টার দিকে রিফাতকে অপহরণ করা হয়।’’
তিনি বলেন, ‘‘আশপাশের যেসব বাচ্চারা রিফাতের খেলছিল, তারা বলেছে, স্বাধীন মিয়া এসে রিফাতকে এক প্যাকেট চিপস ও একটি খেলনা গাড়ি দিয়ে বলে, ‘চলো, তোমাকে তোমার আব্বুর কাছে নিয়ে যাবো।’ রিফাত স্বাধীন মিয়াকে আগেও দেখেছে। এজন্য সে ওর সাথে যায়।’’
অপহরণের পর ওইদিনই রিফাতকে লালমনিরহাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে ফোনে মুক্তিপণ হিসেবে চাওয়া হয় ৪ লাখ টাকা। রিফাতের বাবা-মা গতকাল শনিবার বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। থানায় মামলাও হয় (নং-৩/১১/৩/১৭)। এরপরই তৎপরতা শুরু করেন কোতোয়ালী থানার এসি সাদেক কাউসার দস্তগীর।
এ প্রতিবেদকের সাথে থানায় নিজের কক্ষে আলাপকালে এসি সাদেক কাউসার দস্তগীর বলেন, ‘পুলিশ অপহরণের বিষয়টি জানার পরই প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে। অপহরণকারীদের দাবিকৃত চার লাখ টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা বিকাশে দেওয়া হয়। মূলত অপহরণকারীদের চিহ্নিত করার ফাঁদ হিসেবেই এ টাকা দেওয়া হয়। বিকাশে দেওয়া টাকা লালমনিরহাট থেকে উত্তোলন করে অপহরণকারীরা। প্রযুক্তির সহায়তায় ওই বিকাশ নাম্বারও লোকেট করে পুলিশ।’
অপহরণকারীদের ফোন নাম্বার এবং বিকাশ নাম্বার ট্র্যাক করে অবস্থান সনাক্ত করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এরপর লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ এবং পুলিশের ইনফরমারদের কাজে লাগানো হয়। গোটা বিষয়টি সিলেট থেকে তত্ত্বাবধান করেন এসি সাদেক কাউসার দস্তগীর।
তিনি বলেন, ‘অপহরণকারীদের চিহ্নিত করার পর উদ্ধার অভিযানে নামে পুলিশ। তবে বিষয়টি টের পেয়ে শিশু রিফাতকে রেখে পালিয়ে যায় তারা। রবিবার দুপুর ১২টার দিকে লালমনিরহাটের খুনিয়াগাছ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় রিফাতকে।’
বর্তমানে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে রিফাত। তাকে আনতে সিলেট থেকে তার বাবা-মা ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার এসআই নজরুল ইসলাম আজ বিকালে সেখানে যাওয়ার জন্য রওয়ানা দেবেন।




