তাহিরপুরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ


তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে উপজেলার হাওরগুলোতে ফসল রক্ষা বেড়ী বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে এই উপজেলার সব কয়েকটি হাওরের বেড়ী বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ করার সরকারি নির্দেশ থাকলেও এখনও পর্যন্ত ৪০ভাগ কাজই শেষ হয় নি। ফলে তাহিরপুর উপজেলার ছোট-বড় মোট ২৩টি হাওরের উৎপাদিত ২শ কোটি টাকার অধিক ফসল নিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে লক্ষ লক্ষ কৃষক।
উপজেলার উল্লেখ যোগ্য বৃহৎ হাওরগুলো হলো-শনির হাওর, মাতিয়ান হাওর,লোভার হাওর,বলদার হাওর,টাঙ্গুয়ার হাওর সহ মোট ছোট-বড় ২৩টি। এসব হাওরের বেড়ী বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হলেও দেখার কেউ নেই। তাহিরপুর উপজেলার সামসার হাওরের বৈঠাখালি বাঁধ ভেঙ্গে সামান্য বৃষ্টির পানি প্রবেশ করেছে।
হাওরে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বাঁধ নির্মান করার নামে পিআইসির মাধ্যমে পাউবো পুকুর চুরির পাঁয়তারা করায় টাংগুয়ার হাওর পাড়ের সন্যানী, এরালিয়া কোনা ও গনিয়াকুড়া ফসল রক্ষা বাঁেধ কোন কাজ না হওয়ায় ৩টি হাওরের প্রায় ৭শত একর জমির ধান গাছ পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে জেলার অন্যান্য হাওরের লক্ষ লক্ষ কৃষক আগাম বন্যায় কোটি কোটি টাকার এক ফসলী বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাবার আশংকায় উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে।
তাহিরপুর উপজেলার কৃষি অফিস সূত্র জানায়,এ উপজেলায় আবাদী জমির পরিমান মোট ২৪হাজার ৯শত ৯৫হেক্টর। তার মধ্যে ১৮হাজার ২শত হেক্টরের অধিক জমিতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিভিন্ন প্রকার ধান চাষ করা হয়েছে। আর বাকি জমিতে অন্যান্য ফসল।
উৎপাদিত ধানের মধ্যে রয়েছে-হাইবিট ৮শ হেক্টর,স্থানীয় ২২শ হেক্টর ও বাকি জমিতে অকশি জাতীয় ধান চাষ করা হয়েছে। এসব জমিতে প্রতি বছর উৎপাদিত ধান থেকে ৬৪হাজার মেঃটনের অধিক চাল হয়। যার মূল্য ২শত কোটির বেশি টাকা। কিন্তু প্রতি বছরই হাওর গুলোতে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির মধ্য দিয়ে ফসল রক্ষা বেরী বাঁধ নির্মাণ করার ফলে পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ১৪হাজার ৯হেক্টর জমির অধিক ধান। উপজেলার কৃষকরা তাদের কষ্ঠার্জিত ফসল হারিয়ে হয়ে যায় নিঃস্ব।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি এবং এমপি মহোদয় মঙ্গল বার সকাল থেকে বাঁধ নির্মাণ পরিদর্শন করেছি কোন বাঁধ কি পরিমান হয়েছে তা দেখার জন্য। বাঁধ নির্মানের কাজ সঠিক ভাবে দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলেছি।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, আমি সরেজমিন বিভিন্ন হাওরে গিয়ে দেখেছি,সঠিক ভাবে ও সময় মত বাঁধ নির্মাণ না করায় হাওর বাসী আতংকের মধ্যে আছে পাহাড়ী ঢলের আশংকায়। এবার হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে ফসলের ক্ষতি হলে এর দায় পাউবো কেই নিতে হবে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ সম্পূর্ন না হলে তাদের বিরোদ্ধে মামলা করা হবে এবং আমরা হাওরবাসী নিজেরাই হাওর রক্ষায় কাজে নেমে যাব।
এব্যাপারে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন বলেন, হাওর থেকে দেরিতে পানি নামা ও বাঁধ নির্মান কমিটি গঠনে পদ নিয়ে জটিলতায় সময় লেগেছে। সম্প্রতি হঠাৎ করে বৃষ্টির পানি নদীতে বাড়ায় বাঁধে উপর দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করেছে। টি আর কাবিখা ১২কোটি টাকা কাজ পেয়েছে আর আমরা পেয়েছি ১০কোটি টাকা।
উল্লেখ্য, গত বছর জেলার ছোট বড় ৪৬টি হাওরে সময় মত ও সঠিক ভাবে বাঁধ মেরামত না করায় ১৫টি বাঁধ ভেঙ্গে ২৫টি হাওরের ৬০-৭০ভাগ পাকা, আধা কাচাঁ বোরো ধান সম্পূর্ন পানিতে তলিয়ে যায়।




