লিড নিউজ

সিলেটের যেখানে মিলল পাঁচশত বছরের পুরনো মসজিদ

ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি :  পৃথিবীর সকল দেশের ইতিহাস থাকে, থাকে ঐতিহ্য। অনুসন্ধানের অভাবে অনেক গুলো প্রকাশ পায় না। লোকমুখে শুনে অনুসন্ধানে বের হল ফেঞ্চুগঞ্জের পাঁচশত বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক মসজিদ।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার আশিঘর উত্তর পাড়ায় এ ঐতিহাসিক মসজিদ। মসজিদ নির্মানের সঠিক সাল পাওয়া না গেলেও প্রবীন লোকদের কাছে জানা যায় এ মসজিদ কমপক্ষে পাঁচশত বছর পুরনো।

সরেজমিনে দেখা যায়, আশিঘরের উত্তর পাড়ায় মাঝারি এক পাহাড়ে এ মসজিদ অসাধারণ নৈপুণ্য নিয়ে উকি দিয়ে আছে। চার পাশে সবুজ পাহাড় মাঝ খানে পুরনো নির্মাণশৈলী নিয়ে অপরুপ এ মসজিদ।

হালকা খয়েরি ও মিঠেসাদা রঙ্গের এ মসজিদে মোট পাঁচটি দরজা রয়েছে। পুরনো গুম্বুজের মত খুটির উপর দাঁড়িয়ে থাকা এ মসজিদের ভিতরে কারুকাজ নয়নাভিরাম। সে সময় এ রকম নির্মাণশৈলী চিন্তা করাও বিশাল ব্যাপার। সিমেন্ট সুড়কির তৈরি বড় ভিম দিয়ে ছাদের কাজ করা।

পাহাড়ের প্রায় এক একর জায়গা জুড়ে এ মসজিদ পর্যটকদের আকর্ষন করতে শুরু করেছে। মসজিদের ইতিহাস খোজতে পাওয়া গেলো স্থানীয় প্রবীন ইউপি মেম্বার জুনাব আলী কে।

তিনি জানান, তারা দাদাদের কাছে পুথি পাঠে শুনেছেন এ মসজিদের নির্মাতা উকিল জমান মামনের কথা। উকিল জামান মামন কোথা থেকে এসেছেন তা জানা যায় নি।

জুনাব আলী আরো জানান, প্রথমে এ মসজিদের ছাদ শন (ইকড়) দিয়ে ছিলো। কালের থাবায় তা নষ্ট হয়ে গেলে স্থানীয় মুরব্বি আইনুল হুদা এ মদজিদ রক্ষায় এগিয়ে এসে সংস্কার করেন। ও জঙ্গল কেটে আসা যাবার রাস্তা করে দেন। কিন্তু এলাকার কেউই এ মসজিদে ব্যবহৃত নির্মান সামগ্রী নিয়ে কিছু বলতে পারছেন না।

অনুমান করা হয় সে সময়ের খনিজ সিমেন্ট সুড়কি, পোড়ামাটি, চুন দিয়ে এ মসজিদ নির্মান করা হয়েছে। যা আজও মজবুদ অবস্থান নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদে জুম্মার নামাজ না হলেও একজন ইমাম সাহেব পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ান। এখানে নামাজ আদায় করতে দূর দুরান্ত থেকেও মুসল্লিরা আসেন। আইনুল হুদার সহায়তায় মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ চলে আসছে। ইতিমধ্যে স্টিল পাত দিয়ে টিনের ছাদ করা হয়েছে।

এলাকাবাসী বলেন, এ মসজিদ পৃথিবীর ইতিহাসের অংশ। সরকারী ভবে রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে এ ইতিহাস বাচিয়ে রাখা যাবে। রক্ষণাবেক্ষণকারী আইনুল হুদা বয়োবৃদ্ধ অসুস্থ থাকায় উনার সাথে কথা বলা যায় নি।

এ ঐতিহাসিক মসজিদ দেখতে আসতে পারেন, ফেঞ্চুগঞ্জ সদর থেকে সড়কযোগে তিন নং ঘিলাছড়া ইউনিয়নের আশিঘর গ্রামে। প্রাচীন স্থাপত্য, পাহাড়,  চা, রাবার বাগান আপনাকে নিশ্চিত মুগ্ধ করবে।

Related Articles

Back to top button