ফিচার

রাজনৈতিক বিপর্যয়ে কোন পথে হাটছে বাংলাদেশ?

সরওয়ার আহমেদ:

দেশ নিয়ে আর স্বপ্ন দেখিনা, ছবি দেখি বাংলাদেশটার। ছবি দেখি ১৮ কোটি বাঙালী মুসলমানদের। চোখের সামনে ভেসে উঠেছে রাজনৈতিক বিপর্যয়ে বাংলার গোটা মুসলমান সমাজ জীবনের সকল ক্ষেত্রে অধঃপতিত জাতিতে পরিণত হয়। ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনের সূচনার মাধ্যমে এ দেশের আপামর জনতার মধ্যে এক শান্তি বিরাজমান হয়। কিছুদিন আগে ভারতের বিগত প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পানিকর এক এক বক্তব্যে বলেছিলেন,লক্ষ জয় করে রাম যেমন তা বিভীষণকে দিয়েছিলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারত তাই করেছে। বাংলাদেশ তখন কোন প্রতিক্রিয়াও করেনি। সে সময় যখন বলা হয়েছিল তোমরা স্বাধীন হয়েছো, মনে বড় সুখ পেয়েছিলাম। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জানা দেওয়া হল এখন থেকে তোমরাই তোমাদের কর্তা। এ স্বাধীনতা মঙ্গলকর, এ স্বাধীনতা উন্নতির সোপান। তখন কে জানতো যে এই সোপান কথাটায় অর্থ ‘জট’ অর্থাৎ ইংরেজি বলা হয় complex । স্বাধীনতা এল, কিন্তু পিপাসা লাগলেও স্বাধীন ভাবে এক গ্লাস পানি ঢেলে খাবার ও থাকলোনা। এর নাম দেওয়া হল স্বাধীনতা। আজ সেই স্বাধীনতার নাম দিয়েই বাংলাদেশের বুক চিরে এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত পর্যন্ত ভারতীয় ট্রাক বহর ছুটছে। বাংলাদেশের স্থলপাস, রেলপথ, নৌপথ ভারতের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশের নৌবন্দরে ভারতের একচেটিয়া প্রাধান্য। বাংলাদেশের উপর নজরদারি করছে ভারত এবং অসম চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে। নিয়মিত সীমান্তে হত্যার মাধ্যমে ভারত জনসাধারণকে আতঙ্কগ্রস্থ করে রেখেছে। বাংলাদেশের প্রতিবাদ করারও ক্ষমতা নেই। দেশের সবকটি প্রচার মাধ্যম/মিডিয়ায় ভারতীয় অধিপত্য।চাল-ডাল-মরিচ-মুশলা-ডিম- মাছ- মুরগী-গরু-আলু-পিয়াজ এমনকি চা ও চানচুরটা পর্যন্ত ভারত থেকে না আনলে বাংলাদেশের মানুষ উপবাস করতে হচ্ছে। স্বাধীনতার নাম ভেঙে বাংলাদেশের মানুষ যেন ভারত নামক প্রভুর অতিথিশালা নিষ্কর্মা বাসিন্দা হয়ে প্রভু নাম জপতপ করছে। এরই নাম স্বাধীনতা? ৯০% মুসলমানদের দেশে, সামরিক, আধাসামরিক, বেসামরিক, সরকারী, সকল বিভাগের উচ্চ পদগুলো একচেটিয়া ভারতপন্থী সংখ্যালঘুদের দখলে। স্বাধীনতার নাম নিয়ে বাংলাদেশের সাথে ভারতের সাথে এ পর্যন্ত (১৯৭১-২০১৪) ৯০ টির বেশি চুক্তি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যাবে বেশির ভাগই দাসত্ব চুক্তির নামান্তর। যার মধ্যে মুজিব আমলে ১১টি এবং তার মেয়ের আমলে ৭৭টিও বেশি চুক্তিতো দেশ বিক্রি করে দেওয়ার সামিল। মুজিব আমলে ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তি ১২ দফাতো যুদ্ধের পর লর্ড ক্লাইভ-মীরজাফর চুক্তির ১২ দফা মনে করিয়ে দেয়।মুজিব কন্যা তো করেছে ৭৭টি চুক্তি যার মাধ্যমে দেশের বন্দর সড়ক, বেলপথ, নৌপথ এমনকি দেশের স্বাধীন সত্ত্বাটুকও হিন্দুত্ববাদী সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে।তাই সবাই মিলে এ স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করে যেতে হবে এবং পতন পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে হবে,তবে এ দেশের মানুষ রক্ষা পাবে।

Related Articles

Back to top button