সিলেট

কলেজছাত্রীকে একের পর এক ধর্ষণ

মো: সাদিক উজ্জামান চৌধুরী: কলেজছাত্রীকে একের পর এক ধর্ষণ করে ক্ষতবিক্ষত করেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে কলেজ ছাত্রী নওশীন ফেরদৌসী এখন বাকরুদ্ধ!

ঘটনার বিবরণে প্রকাশ , হবিগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী নওশীন ফেরদৌসী কে তার হসপিটালে থাকা চিকিৎসাধীন পিতার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা করার কথা বলে উপশহরের একটি বাসায় নিয়ে একটি সংঘবদ্ধচক্র ধর্ষণ করে। ঘটনাটি ঘটেছে ২০১৬র ২২ অক্টোবরে।

জানা যায়, হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানার অনন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা মিনহাজ উদ্দিন বেলা ২ ঘটিকার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হন । তার পুত্রসন্তান না থাকায় একমাত্র মেয়ে নওশীন ফেরদৌস (২৬) হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তাররা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভালো হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।

এখান থেকেই তাকে সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে আসে নওশীন। ডাক্তার জানান, দ্রুত তাকে অপারেশন করা দরকার। এই জন্য ঔষধ সামগ্রী এবং রক্তের কথা বলেন।

নওশীনের সীমিত টাকা শেষ হয়ে গেলে দিশেহারা হয়ে পড়ে । বিভিন্ন মানুষের কাছে সাহায্য কামনা করে সে । কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল টাকা দ্বারা রক্ত সংগ্রহ সম্ভব হয়ে উঠেনি । কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাহায্য কামনা করতে থাকে সে । তখন সোহাগ নামের একটি ছেলে তাকে রক্তের ব্যবস্থা করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে উপশহরের একটি বাসায় নিয়ে যায়।

সেখানে পীযূষ নামের একজনকে ফোন করে। কিছুক্ষনের মধ্যে তার সহযোগীরা নওশীন কে ভোগ করতে চাইলে নওশীন তার ইজ্জত রক্ষার জন্য করুণ আকুতি জানায় । কিন্তু তাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে তাকে রাস্তায় বের করে দেয়। হাসপাতালে এসে জানতে পারে প্রচুর রক্তক্ষরনে রাতেই মৃত্যুবরণ করে তার পিতা মিনহাজ উদ্দিন।

পিতার লাশের পাশে বসে আর্তনাদ করতে থাকে নওশীন। তার করুন কাহিনী শুনে হতবাক হয়ে যান অনেকেই ! এ ঘটনার কথা শুনে এই প্রতিবেদক নওশীন কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তাকে যারা নিয়ে গিয়েছিল তাদের মধ্যে একজনকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়। তার নাম সোহানুর রহমান সোহাগ।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, তাদের সহযোগীদের নাম। নওশীন কে নিয়ে যাওয়া হয় সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরিবর্তিতে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে ফরেনসিক টেস্টের পর নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের পরিচালক মৌসুমী হোসেনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় ।

সেখান থেকে লিগ্যাল এইড এর আইনজীবী মারফত সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা গ্রহণ না করার কারণ অনুসন্ধানে জানা যায় -আসামিরা একটি রাজনৈতিক দলের পদবীধারী প্রভাবশালী নেতা। ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

Related Articles

Back to top button