
আর্মড পুলিশের অভিযানে মানবপাচারের অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে।
গত ২৫/০৩/২৩ খ্রিঃ তারিখ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনে " দুবাই থেকে পোল্যান্ড নেবে বলে কিরগিজস্তান এনে ভিকটিমদের ছেড়ে টাকা নিয়ে উধাও দালাল" শিরোনামে এবং গত ৬/৪/২৩ খ্রিঃ তারিখ দৈনিক যুগান্তরে " ইউরোপের স্বপ্ন কিরগিজস্তানে শেষ, দালালের খপ্পরে নিঃস্ব ফেঞ্চুগঞ্জের যুবক" শিরোনামে দুটি খবরের সূত্রধরে ৭আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সিলেটের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি জনাব খন্দকার ফরিদুল ইসলাম এর নির্দেশনায় ৭এপিবিএন এর অপস এ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স টিমের একটি চৌকস দল তদন্ত নামে।
দীর্ঘ তদন্তে খুখ্যাত মানব পাচারকারী রুয়েল আহমদ(৩২) এর অনেক অপকর্মের চিত্র ফুটে উটে। এরই মধ্যে দালাল রুয়েলের খপ্পরে নিঃস্ব ভিকটিম মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার আঃ কাইয়ুম এর ছেলে মোঃ কামরুজ্জামান এর স্ত্রী সৈয়দা জলি বেগম ৭এপিবিএন সিলেটের অধিনায়ক বারবার লিখিত অভিযোগ করেন।

ভিকটিম মোঃ কামরুজ্জামান এর স্ত্রী সৈয়দা জলি বেগম (৩০) বাদী হয়ে জুড়ী থানায় এজাহার দায়ের করেন।
তিনি এজাহারে উল্লেখ করেন, তার স্বামী ভিকটিম কামরুজ্জামান সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাধারণ শ্রমিক হিসাবে কাজ করে এবং দালাল রুহেল ও তার বোন সীমা আক্তার সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস করার সুবাদে তার স্বামীর সাথে পরিচয় হয়। তার স্বামীসহ আরো ২০/২৫ জন প্রবাসীকে বিভিন্ন প্ররোচনা ও প্রলোভন দেখিয়ে ফ্রান্স নেওয়ার কথা বলে। দালাল রুহেল ও সীমা বাদীর বোন সৈয়দা নাসরিন কলি ও দুলাভাই আল আমিন তালুকদার ও ভাই সৈয়দ জায়েদুল ইসলাম এর সাথে ভিকটিম কামরুজ্জামানকে ফ্রান্স নেওয়ার কথা বলে ফোনের মাধ্যমে ৭,৭৫,০০০/- টাকার মৌখিক চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী গত ০১/১০/২২ খ্রিঃ তারিখ বিকাল ০৪.১৫ ঘটিকার সময় দালার রুহেল এর সহযোগী কামরুল ইসলামের কাছে ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং গত ০২/১০/২২ খ্রিঃ তারিখ দালাল রুয়েল এর সহযোগী তার চাচাতো ভাই রকি ইসলামের কাছে নগদ ৮০ হাজার এবং ৭০ হাজার টাকার এনআরবিসি ব্যাংকের চেক প্রদান করা হয়। গত ০৪/১০/২২ খ্রিঃ তারিখ ফ্রান্স নিবে বলে ভিকটিম কামরুজ্জামানসহ আরো ১৮ জন কে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কিরগিজস্তান নিয়ে যায়।

কিরগিজস্তান পৌছার পর দালাল রুহেল তার বিদেশি সহযোগীদের সহযোগিতায় সবাইকে আবদ্ধ ঘরে আটক করে রাখে। ভিকটিম কামরুজ্জামানের নিজের খরছের জন্য কাছে থাকা ১,২০,০০০/- টাকা দালাল রুয়েল জোরপূর্বক নিয়ে সে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে আসে। দালাল রুয়েল মুক্তিপন হিসাবে কামরুজ্জামান এর পরিবারের কাছে ৫ লক্ষ টাকা দাবী করে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করতে থাকে। ৪ লক্ষ টাকা পেয়ে ৫ মাস জিম্মি রাখার পর দালাল রুয়েল ভিকটিম কামরুজ্জামানকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিয়ে আসে। কিরগিজস্তান থেকে দুবাই নিয়ে আসতে বিমান ভাড়াবাবদ ৫০ হাজার টাকাও নেয়। দালাল রুয়েল দেশে আসলে গত ০৭/১০/২৩ খ্রি তারিখ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গসহ তার কাছে গেলে সে সম্পূর্ণ ঘটনা অস্বীকার করে বাদীকে গালাগাল করে ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে।

দালাল রুয়েল (৩২) পিতা, নুনু মিয়া এবং তার বোন সীমা আক্তার, তার চাচাতো ভাই রকি ইসলাম (২৫), পিতা চুনু মিয়া, সর্ব সাং ভবানীপুর, এবং তার আরেক সহযোগী কামরুল ইসলাম (৩২), পিতা মৃত তোতা মিয়া, সাং-মনতৈল, সর্ব থানা জুড়ী, জেলা মৌলভীবাজারদের আসামী করেন বাদী সৈয়দ জলি বেগম। এখনো মামলা পক্রিয়াধিন রয়েছে বলে জানা যায়।