
নিউজ ডেস্ক : সিলেট নগরীর উন্নয়ন কাজ এখন লেজেগোবরে। এক সাথে বিভিন্ন এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে খোঁড়াখুঁড়ি, এক জায়গার কাজ শেষ না করে অন্য স্থানে কাজ শুরু করা এবং যত্রতত্র রডসহ নির্মাণ রাখার কারণে পুরোনগরী বিপজ্জনক হয়ে ওঠেছে।
এইসব কান্ডজ্ঞানহীন কর্মের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) সিলেটের বিশিষ্ট কবি, ছড়াকার ও সাবেক শিক্ষক নেতা আব্দুল বাসিত মোহাম্মদকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আম্বরখানা হুরায়রা ম্যানশনে সামনে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্মাণাধীন একটি অরক্ষিত ড্রেনে পড়ে গিয়ে তাঁর পেটে রড ঢুকে যায়। এর ফলেই বাসিত মোহাম্মতের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
মেয়র আরিফ এ ঘটনার জন্য দু:খ প্রকাশ করেছেন এবং কবি বাসিত মোহাম্মদের মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। মেয়রের এই কাজে সন্তুষ্ট নন তাঁর সজন সহকর্মী এবং বন্ধুবান্ধবরা। তারা বলছেন কবি বাসিত মোহাম্মদের মৃত্যুর জন্য সিসিকের বিশৃঙ্খল কর্মযজ্ঞই দায়ী। তারা সিসিককে দায় স্বীকার করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবী জানান।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শামসুল আলম সেলিম বলেন,যথাযথ নিয়ম অনুস্মরণ না করে সিলেট নগরীর অপরিকল্পিত উন্নয়ন এই দু:খজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিনের জনদূর্ভোগের চূড়ান্তরূপ হলো কবি বাসিত মোহাম্মদের মৃত্যু। আমি মনে করি এ দায় কোন অবস্থায় সিসিক এড়াতে পারে না।
সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত বলেন,আমারা নগর উন্নয়ন চাই তবে নগর উন্নয়ন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য মরণ ফাঁদ তৈরী করা হোক এটা কোন অবস্থায় কাম্য নয়। তিনি বলেন তদন্ত কমিটি যাই বলুক সিসিক দায় এড়াতে পারেনা।
কবি নাজমুল হক নাজু বলেন, কবি বাসিত মোহাম্মদের মৃত্যুর দায় সিসিক এড়াতে পারেনা।
নগর উন্নয়নে অনিরাপদ এবং বিশৃঙ্খল কর্মযজ্ঞই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী। তিনি বলেন, ভবিষ্যততে যাতে এ ধরণের দু:খজনক ঘটনার পূনরাবৃত্তি না হয় সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
কবি আবিদ ফায়সাল বলেন, কবি বাসিত মোহাম্মদের মৃত্যু অত্যন্ত দু:খজনক। নগরীতে যত্রতত্র বিপজ্জনকভাবে মালামাল রাখা এবং একই জায়গায় বার বার খোঁড়াখুঁড়ি করার জন্য ইতোমধ্যে বহু মানুষ পড়ে আহত হয়েছে। আমি নিজেও আহত হয়েছি। তিনি বলেন তদন্ত কমিটি গঠনের কোন প্রয়োজন নেই । এই মৃত্যুর দায় সিসিকের। এখন সিসিকের উচিৎ হলো কবি বাসিত মোহাম্মদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতি পূরণ প্রদান করা।